শিরোনাম
পটিয়া প্রতিনিধি : | ০৬:২২ পিএম, ২০২৬-১০-০৬
মো. বেলাল হোসেন
সকাল হলেই বাজারের ব্যাগ হাতে বের হন নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু বাজারে গিয়ে তাদের মুখ শুকিয়ে যায়। যে বাজারে একসময় অল্প টাকায় ব্যাগ ভরে যেত, সেই বাজার এখন যেন আগুন। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম, শাক-সবজি — কোনো কিছুর দামই স্বস্তিতে নেই। বাজারে গেলেই মনে হয়, সবকিছু যেন প্রতিযোগিতা করে বাড়ছে। অথচ আয় বাড়ছে না খেটে খাওয়া মানুষের। দিনমজুর, রিকশা চালক, পোশাক শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী — সবার একই আর্তনাদ, "আয় দিয়ে সংসার চলে না।"
একজন রিকশা চালক আক্ষেপ করে বলেন, "আগে যা আয় করতাম তাতে সংসার চলত, এখন বাজারে গেলে মনে হয় টাকা যেন হাওয়ায় উড়ে যায়। ছেলে-মেয়ের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে পারি না।"
অনেক পরিবার এখন বাধ্য হয়ে খাদ্য তালিকা ছোট করে ফেলেছে। মাছ, মাংস এখন অনেকের কাছে বিলাসিতা। শুধু ডাল-ভাত আর আলু ভর্তা দিয়েই চলছে অনেকের সংসার। মা তার সন্তানের পুষ্টির কথা ভেবে চোখের পানি ফেলছেন, কিন্তু বাজারের কাছে তিনি অসহায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকির অভাব রয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থির করে তুলছে। ফলে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, আবার ভোক্তা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। মাঝখানে লাভবান হচ্ছে সিন্ডিকেট।
এদিকে আজ থেকে কয়েকদিন আগে গ্যাসের দাম ছিল যেখানে ১৩০০ থেকে ১৪৫০ টাকা, কিন্তু সেখানে বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২,২০০ টাকা দরে। যা মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। সরকার যেখানে দাম বাড়ায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে বাজারে হয়ে যায় তার দ্বিগুণ। কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুদ রেখে, যখন দাম বাড়ে, তখন বিক্রি করছে। যা অমানবিকতার পরিচয়।
এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। যেখানে ভাড়া ছিল ৪০-৫০ টাকা সেখানে বর্তমানে ভাড়া নিচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। সিএনজি বাস চালক থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, বর্তমানে গ্যাসের দাম বেড়েছে, খরচ ও বেড়েছে, যার কারণে আমাদের বাধ্যতামূলক ভাড়া কিছু টা বেড়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, শুধু দাম বাড়া নয়, এটি এখন সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ঋণে জড়িয়ে পড়ছে, সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কাটছাঁট করছে। অনেক কষ্টের মাঝে জীবন ধারণ করছে।
তাদের দাবি, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার হবে, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে কৃষক যাতে সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
বাজার স্থিতিশীল রাখা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি মানবিক বিষয়। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিত্যপণ্যের বাজারকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের ডেস্ক : : দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে হামে মোট এক হাজার ৩৯৩ জ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কারিগররা। নগরের পাথরঘাটà¦...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি - সবাই হঠাৎ সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদà...বিস্তারিত
মুহাম্মদ আমির হোছা্ইন :: : উনিশ শতকের শেষভাগে আধুনিক জায়োনিস্ট আন্দোলনের উত্থানের পর থেকেই কীভাবে একটি ইহুদিদের আন্দোলন à...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : তাছলিমা আক্তার লিমা ডিজিটাল স্ক্রিনের তীব্র আলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম ব্যস্ততা আর কà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বেলাল হোসেন মানুষ। অভিধানে মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এই দুই অক্ষরের ভেতরে লুকিয়ে আছà§...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited