শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : | ০৫:৩১ পিএম, ২০২৬-১১-০৬
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তিন পার্বত্য জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়া এখন কৃষিপণ্যের প্রধান বিপণন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের হলুদ, আদা ও ফুল ঝাড়ুসহ নানান পণ্য ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
হলুদের মৌসুমে উপজেলার ইছাখালী এলাকায় এখন চোখে পড়ছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।
উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের দম ফেলার সময় নেই।
পাহাড় থেকে আসা কাঁচা হলুদ রোদে শুকানো, বাছাই করা এবং বস্তাবন্দি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক। প্রতিটি স্পটে ৮ থেকে ১০ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।
হলুদ শুকানোর এই চোখ জুড়ানো সোনালি দৃশ্য এখন স্থানীয়দের নজর কাড়ছে।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় হলুদের আবাদ হলেও সিংহভাগ হলুদ আসে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম বাজার থেকে।
উপজেলার অর্ধশত মৌসুমি ব্যবসায়ী অনেক বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও ফারুয়াসহ বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল থেকে হলুদ সংগ্রহ করে ট্রাকে করে নিয়ে আসেন ইছাখালীতে।
আবদুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ২৭ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পৌষ থেকে বৈশাখ- হলুদের মূল মৌসুম। পাহাড় থেকে হলুদ সংগ্রহ করে ইছাখালীতে এনে মজুত করা হয়। এখানে ৪-৫দিন শুকিয়ে ও বাছাই করে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করা হয়। এই মৌসুমে একেকজন ব্যবসায়ী ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন হলুদের ব্যবসায়।
আরেক ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মূলত তিন জাতের হলুদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পাবনা জাতের হলুদ প্রতি কেজি ক্রয় ১৩০-১৫০ টাকা, বিক্রি ২২০-২৫০ টাকায়। মোটা জাতের হলুদ প্রতি কেজি ক্রয় ১২০-১৩০ টাকা, বিক্রি ২০০-২২০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের থেকে হলুদ সংগ্রহ করে। প্রসেসিং ও গাড়ি ভাড়া বাবদ কেজিপ্রতি আরও ৮-১০ টাকা খরচ হয়। এরপর এগুলো ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় মশলা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোও সরাসরি এখান থেকে হলুদ সংগ্রহ করছে।
খুরশিদ আলম নামের এক শ্রমিক বলেন, আমরা প্রতি বছর এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। ব্যবসায়ীদের আড়তে ৩-৪ মাস আমাদের টানা কাজ করতে হয়। এতে স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
ইছামতীর হলুদ চাষি বশির আহম্মদ জানান, গ্রামের অনেক কৃষক এখন অন্য চাষের চেয়ে হলুদ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় অন্যান্যবারের চেয়ে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে হলুদের উপযুক্ত দাম পাওয়ায় হলুদ চাষিরাও খুশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, তিন পার্বত্য জেলার মাঝামাঝি হওয়ায় পরিবহন সুবিধার কারণে তারা রাঙ্গুনিয়াকে পণ্য মজুতের জন্য বেছে নিয়েছেন। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক স্টোরেজ সুবিধা (হিমাগার) পেলে এই ব্যবসা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত করা এবং বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসার উত্তম দাশ বলেন, ‘আমরা হলুদ চাষিদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা দিয়ে আসছি। প্রকৃতি এবার হলুদ চাষিদের অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ায় ৭৫ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। তা স্থানীয় কৃষকরা অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি নিজেদের চাহিদা মেটাতেই করে থাকেন। তবে পার্বত্য এলাকার হলুদ রাঙ্গুনিয়া হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে সারাদেশে। কৃষকদের সুবিধার জন্য রাঙ্গুনিয়ার এমপি হিমাগার নির্মাণের জন্য আমার সাথে কথা বলেছেন। তিনি এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রীর সাথেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আশাকরি রাঙ্গুনিয়ায় হিমাগার স্থাপিত হবে’।
খবর বিজ্ঞপ্তি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী হিসেবে সংবিধানে ইসলামী মূ...বিস্তারিত
বাঁশখালী প্রতিনিধি : : বাঁশখালীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে গেছে একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়। এতে আনোয়া...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ার দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে ৯.৫ à...বিস্তারিত
চন্দনাইশ প্রতিনিধি : : মোঃ সবুজ মৃধা, চন্দনাইশ : চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বরুমতি ব্রিজের পাশ থেকে মো. হাশেম (৩৭) নামের এক যুবকà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : স্বৈরাচারী ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মানুষ আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না বলে...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুম...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited