শিরোনাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : | ০৫:০৫ পিএম, ২০২৬-১১-০২
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা ১২ দিনের অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম। গত ১ নভেম্বর স্থানীয়দের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করেছিল আন্দোলনকারী দুই সংগঠন। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি ও খাগড়াছড়ি পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টা অবরোধের কারণে ওই দিনও সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এতে খাদ্য সংকট, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। রোববার এক ভিডিও বার্তায় সংগঠন দুটির পক্ষে বাবুধন চাকমা এ ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে কয়েক দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
এর মধ্যে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানসহ দুই জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সাজেক থেকে সশস্ত্র জেএসএস সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে মতৈক্য হয়নি। এ দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন সময় চাইলে আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম, ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এসব পরিস্থিতির অবসান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ২২ অক্টোবরের ঘটনার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছাতে না পারায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কৃষকরা উৎপাদিত কলা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গত ১ নভেম্বর অবরোধ শিথিলের ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির আশা তৈরি হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি ও পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টা কর্মসূচির কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফলে সাজেকের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
অবরোধ ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল না করায় রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটন মৌসুমে বুকিং থাকা সত্ত্বেও পর্যটক আসতে না পারায় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন, পরিচালন ব্যয় ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাজেকের রুইলুই রিসোর্টের পরিচালক মিশু দে বলেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যটক আসতে না পারায় সাজেকের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সংকট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিকদের সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক ও পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এর প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে শুধু পর্যটন খাত নয়, সাজেকের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাজেক রিসোর্ট এন্ড কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, মৌসুমের শুরুতে অবরোধের কারণে সাজেক বন্ধ হয়ে আছে। এতে ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রিতেও সমস্যা হচ্ছে। একদিন শিথিল হওয়ার ঘোষণায় কোনো কাজ হয়নি। এদিন অন্য দুই সংগঠনের আবরোধে যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। সাজেকের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা খাদ্য ও কৃষিপণ্য নিয়ে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এই সংকটের সমাধান হোক।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। ফলে সাজেক সড়কের অবরোধ ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ০১ নভেম্বর (রোববার) থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে দেশের একমাত্র প্à¦...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে প...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় প্রশিক্ষিত যুব সংস্থা (পà§...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবা ও ক্র...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : সকালের আলো ফুটতেই সরব হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। পণ্য ওঠানামা করে, চলে দরদাম, খাতায়-কলমে হিসাব...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অব্যবহৃত জমিতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুকà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited