শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৭:০২ পিএম, ২০২৬-১০-১০
একটি বাহিনীর নাম বদলানো যায়, বদলানো যায় পোশাক ও প্রতীকও। কিন্তু বদলানো যায় কি তার কর্মসংস্কৃতি, ক্ষমতার প্রয়োগ ও জবাবদিহির চর্চা? র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নতুন নামের আড়ালে পুরোনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, অপরাধ দমনের সক্ষমতা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর।
প্রকাশিত সংবাদ ও সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর পাঁচ দিন পর, ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারি গেজেটে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট তালিকায় আইনটি ২০২৬ সালের ১০৯ নম্বর আইন হিসেবে নথিভুক্ত। গেজেটটি ২৪৮২৭ থেকে ২৪৮৩৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
র্যাবের ইতিহাস ও বিতর্ক
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করা র্যাব দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। বিভিন্ন অভিযানে বাহিনীটির ভূমিকা আলোচিত হলেও এর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং বাহিনীটির সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক মহল থেকেও বাহিনীটির বিলুপ্তি কিংবা কাঠামোগত সংস্কারের দাবি ওঠে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।
এই প্রেক্ষাপটে র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠন কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়; এটি মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবে বাহিনীর নাম ও আইনি পরিচয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কার্যকর সংস্কার হিসেবে মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে—ক্ষমতার প্রয়োগ, অভিযান পরিচালনা ও অভিযোগ তদন্তের পদ্ধতিতে কতটা বাস্তব পরিবর্তন এসেছে।
আইনে কী আছে, কীভাবে চলবে এসআরবি?
সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এসআরবি আইন অনুযায়ী, পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে বাহিনীটি গঠিত হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এর জনবল গঠনের বিধান রয়েছে। এসআরবির মহাপরিচালক হবেন বাংলাদেশ পুলিশের অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।
আইনে এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এ কমিটির সভাপতি হবেন বাহিনীর একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অভিযোগ প্রতিকার কমিটি থাকলেও সেটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্তকারী সংস্থা নয়। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বিধানের কথাও তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।
অতএব, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকাই যথেষ্ট নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ, তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
পুরোনো জনবল ও সম্পদ বহাল: পরিবর্তনের সীমা কোথায়?
এসআরবি আইন নিয়ে সংসদে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে পুরোনো বাহিনীর জনবল ও সম্পদ স্থানান্তরের প্রশ্নে। আইনে র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা, দায়দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথি ও অন্যান্য দলিল এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের বিদ্যমান বিধিমালার অধীনে বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতে চলমান কার্যধারা বহাল রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যরা এ ধারাবাহিকতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জনবল, স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ক্ষমতার বড় অংশ আগের মতো থাকলে নতুন নামের আড়ালে পুরোনো কাঠামোই কার্যত বহাল থাকতে পারে। তাঁরা বিলটি আরও যাচাই-বাছাই এবং ভুক্তভোগী, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার দাবিও তোলেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন, র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট না করে কাজে লাগানোই যুক্তিসংগত। নতুন বাহিনী গঠনের জন্য একই ধরনের সরঞ্জাম আবার কিনলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হতে পারে বলেও তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।
দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে একটি বাস্তব প্রশ্ন: রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে, আবার অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তিও ঠেকাতে হবে। পুরোনো সম্পদ ব্যবহার করা নিজে কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হবে, যদি সেই সম্পদের সঙ্গে পুরোনো বিতর্কিত চর্চাও অপরিবর্তিতভাবে চলতে থাকে। নতুন নেতৃত্ব, প্রশিক্ষণ, অভিযান পরিচালনার নীতি, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে হবে।
মানবাধিকার ও জবাবদিহি: সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধ দমন ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের সময় আইন ও মানবাধিকারের সীমা অতিক্রম করার সুযোগ নেই। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এসআরবির ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ ও বলপ্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগকারী যেন হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই সুরক্ষাও জরুরি।
সংসদে অভিযোগ প্রতিকার কমিটির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলের একাংশ কমিটির নেতৃত্বে বিচার বিভাগের সাবেক কোনো বিচারপতিকে রাখার প্রস্তাব দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি; তাঁর বক্তব্য ছিল, কমিটিটি বিভাগীয় ও প্রশাসনিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য।
এখানেই জবাবদিহির প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এক নয়। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটিকে কেবল বিভাগীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। স্বাধীন তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা বোঝা যাবে তার গঠন দিয়ে নয়, বরং অভিযোগের নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফল দিয়ে।
রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়বে, নাকি সাশ্রয় হবে?
র্যাব থেকে এসআরবিতে রূপান্তরের আর্থিক দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পুরোনো জনবল, স্থাপনা, যানবাহন, অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হলে নতুন করে বড় অঙ্কের অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রয়োজন কমতে পারে। অন্যদিকে, নতুন পোশাক, প্রতীক, পতাকা, নথিপত্র, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও অন্যান্য পরিবর্তনে এককালীন ব্যয় হতে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এসআরবি নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করলেও ব্যবহৃত লোগোর নকশা তখনও আগের মতো ছিল; শুধু ‘র্যাব’-এর জায়গায় ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা হয়েছিল। নতুন লোগো, পতাকা ও পোশাক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছিল এবং এ বিষয়ে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ, পরিচিতি পরিবর্তনের কাজ শুরু হলেও সব পরিবর্তন একই দিনে সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না।
তবে রূপান্তরের মোট ব্যয় কত, নতুন বাহিনীর বার্ষিক বাজেট কত এবং আগের তুলনায় ব্যয় বাড়বে না কমবে—এ বিষয়ে প্রকাশিত নিরীক্ষিত সমন্বিত হিসাব ছাড়া নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা দায়িত্বশীল হবে না। শুধু সম্পদ স্থানান্তরের বিধান থাকলেই মোট ব্যয় কমেছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; একইভাবে, নতুন পোশাক বা প্রতীক চালু হলেই বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে বলাও ঠিক নয়।
সরকারের উচিত এসআরবির অনুমোদিত বাজেট, বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, পরিচালন ব্যয় ও রূপান্তর-সংক্রান্ত এককালীন খরচ প্রকাশ করা। পাশাপাশি র্যাবের শেষ পূর্ণ অর্থবছরের ব্যয়ের সঙ্গে তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া প্রয়োজন। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের সদ্ব্যবহার এবং জনগণের কাছে আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সাফল্য পরিমাপ হবে কীভাবে?
এসআরবির কার্যকারিতা মূল্যায়নে শুধু কতটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে বা কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা বিবেচনা করলেই চলবে না। অভিযানের আইনগত বৈধতা, অভিযোগের সংখ্যা, তদন্তের অগ্রগতি, সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা, বলপ্রয়োগ ও প্রাণহানির ঘটনা এবং আদালতে মামলার ফলাফলও মূল্যায়নের অংশ হতে হবে।
নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এসব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা গেলে বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হবে। স্বাধীন তদারকি, নিরীক্ষা এবং অভিযোগের ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা থাকলে অনিয়ম চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সহজ হবে।
এ ছাড়া পুরোনো র্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, চলমান তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। বাহিনীর নাম ও কাঠামো বদলানোর কারণে কোনো অভিযোগের তদন্ত বা বিচার যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অতীতের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতের জবাবদিহি—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নাম পরিবর্তনের পর এখন কাজের প্রমাণ
র্যাবের জায়গায় এসআরবি গঠনের মধ্য দিয়ে সরকার একটি নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মূল্যায়ন হবে না নতুন নাম, পোশাক বা প্রতীকের ভিত্তিতে। মূল্যায়ন হবে অপরাধ দমনে দক্ষতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও জবাবদিহির বাস্তব চর্চার মাধ্যমে।
পুরোনো বাহিনীর অভিজ্ঞতা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা সম্ভব। কিন্তু অতীতের ভুল ও বিতর্ক থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন কাঠামোও একই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই এসআরবির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা।
র্যাবের নাম মুছে এসআরবি লেখা হয়েছে; এখন প্রমাণ করতে হবে, ক্ষমতার প্রয়োগে, মানবাধিকারের সুরক্ষায়, জবাবদিহিতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারে সত্যিই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। নামের পরিবর্তন প্রশাসনিক সংস্কারের সূচনা হতে পারে, কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জনের প্রমাণ দিতে হবে কাজের মধ্য দিয়ে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
লেখক: সাহিত্য ও মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার একজন শিক্ষক ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। কোনো পদোন্নতির জন্য নয়, বিশেষ কোনো সুবà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা &ls...বিস্তারিত
মুনীর চৌধুরী : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এখনও কাটেনি অচলাবস্থা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টো...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : নগরের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি ও ছিনতাই মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো.হৃদয়কে (২৭)...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ধারণের পাশাপাশি গণমাধ্যমে বন্দরের &...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : সদ্য বিদায়ী উপাচার্যকে (ভিসি) পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited