শিরোনাম
হাটহাজারী প্রতিনিধি : | ০৬:৩০ পিএম, ২০২৬-১১-০৮
একদিকে শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, অন্যদিকে হাটবাজার ও পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও নদীর উজানে লবণাক্ততার বিস্তার। একের পর এক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক চাপের মুখে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের হালদা নদীর পরিবেশ। দক্ষিণ এশিয়ার রুইজাতীয় মাছের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্রটির অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে নদীটির এমন উদ্বেগজনক চিত্র। গবেষণায় হালদা নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫৭টি দূষণের উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি উৎস সরাসরি নদীর পানিদূষণের জন্য দায়ী। এসব উৎসের ১৩টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে নদী ও দুই তীরের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, দূষণের উৎস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় হালদা নদী ও এর দুই তীরের ৮১ কিলোমিটার এলাকায় মোট ১ হাজার ২৯টি উদ্ভিদ প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭২৯টি প্রজাতি এ এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। শনাক্ত উদ্ভিদের মধ্যে ৭৬৫টি দেশীয় এবং ২৪৪টি বিদেশি প্রজাতি। গবেষকদের মতে, বিদেশি উদ্ভিদের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার স্থানীয় প্রজাতির স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে নদী অববাহিকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শনাক্ত উদ্ভিদের মধ্যে ৫১৭টি প্রজাতির ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে, যা মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ৫১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এর বিপরীতে ২৩টি উদ্ভিদ প্রজাতিকে মারাত্মক বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে বাটনা, লেইস্যা গর্জন, চাউ তাল, ঈশ্বরমূল ও পাখা ঢেকিয়া। দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে এসব দেশীয় প্রজাতি একসময় হালদা অববাহিকা থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের।
গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক দিক হলো হালদার উজানে উপকূলীয় উদ্ভিদ কেওড়াগাছের উপস্থিতি। সাধারণত লবণাক্ত পরিবেশে জন্মানো এই উদ্ভিদের বিস্তারকে নদীর উজানে লবণাক্ততার প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
লবণাক্ততার প্রভাব বাড়তে থাকলে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশসহ কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে মা মাছের ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ, ডিমের বিকাশ এবং মাছের পোনা বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হালদা অববাহিকার দূষণের উৎস হিসেবে গবেষণায় কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, হাটবাজারের আবর্জনা ও পৌর এলাকার নালা-নর্দমার বর্জ্যের কথা উঠে এসেছে। এসব বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় নদীতে মিশে পানির গুণগত মান নষ্ট করছে। এতে মাছসহ জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এ ছাড়া অববাহিকার ১১টি স্থানে মারাত্মক মাটিদূষণ এবং ১০টি স্থানে বায়ুদূষণের উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংকটটি শুধু নদীর পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর দুই তীরের সামগ্রিক পরিবেশও দূষণের শিকার হচ্ছে।
গবেষণার বাইরেও হালদার পরিবেশগত সংকটের পেছনে রয়েছে নানা মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড। নদীর বিভিন্ন বাঁকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানির প্রবাহে পরিবর্তন ঘটছে। এতে মাছের আবাসস্থল ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অপরিকল্পিত বাঁধ, রাবার ড্যাম ও স্লুইসগেট নির্মাণের কারণেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রজনন মৌসুমে মা মাছের চলাচল এবং নদীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বাভাবিক সংযোগ ব্যাহত হতে পারে।
এ ছাড়া দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌযানের চলাচল হালদার জীববৈচিত্র্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব নৌযানের আঘাতে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন ও প্রজননক্ষম মা মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টি, খরা ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনও মাছের ডিম ছাড়ার সময় ও প্রজনন চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, হালদা নদীর সরাসরি দূষণের জন্য চিহ্নিত ২৯টি উৎসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে নদীটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন হালদার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডগুলোর একটি। এর ফলে মাছের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। মা মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রজনন মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
গবেষণার সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এই গবেষক বলেন, হালদার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অবহেলা চলতে থাকলে নদীটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য আরও বিপর্যস্ত হবে।
প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তারের অনন্য পরিবেশের কারণে হালদা শুধু একটি নদী নয়, দেশের মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। তাই দূষণের উৎস বন্ধ, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ, লবণাক্ততার প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে এই প্রজননক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উà¦...বিস্তারিত
বাঁশখালী প্রতিনিধি : : বাঁশখালী ৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকাসহ ১৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দা...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : বোয়ালখালীতে থানার ৮০০ মিটার দূরে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ "করবো সমবায় গড়বো দেশে, সবার আগে বাংলাদেশ।" এই প্রতিপাদ্যে ৫৫তম জাতীয় সমবাà§...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্য...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া কামিল মাদ্à...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited