শিরোনাম
মিজানুর রহমান চৌধুরী | ০৮:১৩ পিএম, ২০২৬-০৯-২২
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করে জিয়ার স্লোগান দিয়ে যারা জাতীয়তাবাদী সেজেছে, তারা আওয়ামী জালিম-মাফিয়াদের পরীক্ষিত দলদাস। এরা বিএনপির সহযোগী ও বিশ্বস্ত হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব এজেন্ট বর্ণচোরা গোষ্ঠী জড়িত।
রাতারাতি ভোল পাল্টে ভিন্ন রূপ নেওয়া এই সুবিধাবাদী মাফিয়াগোষ্ঠী বিভিন্ন যানবাহন, বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো, গুম, অপহরণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি’ প্রবাদের মতোই তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্তি ফায়দা হাসিল ও বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। প্রায় প্রতিদিনই এরা এসব নাশকতামূলক অপকর্ম সফলতার সঙ্গে অব্যাহত রেখেছে। ঘাপটি মেরে থাকা এক শ্রেণির বিএনপি-জামায়াতি ধান্ধাবাজ চক্রটি এদের অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী নির্যাতন-খুনসহ নানান পৈশাচিকতায় চিহ্নিত হয়ে আছে এমন এক শ্রেণির পুলিশ, নতুন করে দিবাস্বপ্ন দেখছে আর দমনের পরিবর্তে নিধিরাম সর্দারের মতো নিশ্চুপ থেকে গোপনে এসব নতুন অরাজকতাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতার নীলনকশা বাস্তবায়নের দিকে এক পা, দুই পা করে এগুচ্ছে। ফলে সারা দেশে জনমনে কোথাও শান্তি স্পষ্ট নয়। সরকারেরও যেন হুঁশ নেই! সরকারের ছাত্র সংগঠন প্রকারান্তরে জামায়াত-শিবির নিয়ে ব্যস্ত। আর জামায়াতও সার্কাসের ক্লাউনের মতো সরকারবিরোধী ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছে।
অপরাধী চক্রটি ১১ দলীয় জোটের মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করছে। অন্যদিকে রাতের বেলায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করছে। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাতে ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে খুনি, গণঅভ্যুত্থানে গায়েব হয়ে যাওয়া নানান অপরাধীদের সংগঠিত করে অপকর্ম চলমান রেখেছে।
একাধিক বিশ্লেষক মহল বলছে- হায় সেলুকাস, বিচিত্র এই দেশ! যা হওয়ার, তাই হচ্ছে। বিএনপির আন্দোলনে কোনো কালেও যাদের দেখা যায়নি, তারাই বিএনপির পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা-কর্মীদের পায়ে পিষে ক্ষমতার কেন্দ্রীয় বৃত্তে সদর্পে অবস্থান করছে, ক্ষমতার হালুয়া-রুটি আয়েশ করে ভোগ করছে। খুব ব্যস্ত তারা। নিজেদের আখের গোছানো, পদ-পদবি বাগিয়ে তা পাকাপোক্ত করতে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এদিকে বিন্দুমাত্র প্রতিফল ভোগ না করায় গণমানুষের আত্মত্যাগে অর্জিত ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে তাদের রক্ত মাড়িয়ে দারুণভাবে সুসংগঠিত হওয়ার মতো অর্জনের দক্ষতা দেখাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা নাকি ওয়ার্ড কমিটি পর্যায় পর্যন্ত সংগঠিত হয়ে গেছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এসব আওয়ামী লীগার তথা ফ্যাসিবাদের দোসরদের দিকে পুলিশের যেমন নজর নেই, তেমনি বিএনপিরও নজর নেই। এদের অনেকেই পার্সেন্টেজ আর কমিশনের অফার নিয়ে অর্থের ধান্ধায় রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের বাসায় বাসায় ধরনা দিচ্ছে।
বিএনপি-জামায়াতের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ধান্ধাবাজ সিন্ডিকেট আওয়ামী জালিমদের সহযোগিতায় নিবেদিত হয়েছে। এসব জালিমদের কপালে দুঃখ ও যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে। সেয়ানা হিসেবে পরিচিত পাওয়া এসব জালিমরা সর্প হয়ে দংশন করে আবার ত্রাতার ভূমিকায় ওঝা হয়ে বিষ নির্মূল করে। এ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ সময়ের মধ্যেই অদৃশ্য বাতেনি কায়দায় বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ গায়েব হচ্ছে। অভিনব এ অসৎ রাজনীতি চলমান থাকায় জনমনে অসন্তোষ হ্রাসের কোনো দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
অন্যদিকে পাক্কা জাতীয়তাবাদী নামধারী সাংবাদিকরা মুখে মুখে সরকারের নাম জপ করলেও মূলত তারা কৌশলে আওয়ামী-ভীতি প্রচার করে, আওয়ামী জালিম সাংবাদিকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে তাদের নিরাপদে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে সহযোগিতা করছে।
এদিকে বিশ্লেষক মহল রসিকতা করে বলছে, ১৭ বছর না খেয়ে থাকা ধান্ধাবাজ চক্রটি বিএনপি সেজে তাদেরই মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাচ্ছে, অবাধ লুটপাট চালাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রাণভয়ে পালালেও অভয় পেয়ে ফিরে জুলুমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মাফিয়াবাদী সিন্ডিকেট। তারা সফলও হয়েছে। এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে- বিষয়টি কিন্তু পরিষ্কার দৃশ্যমান।
একটি সুশৃঙ্খল, সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনদাবি উঠেছে- মাফিয়াতন্ত্রে দীক্ষা নেওয়া ফ্যাসিবাদী সম্পাদক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, অবৈধ সম্পদশালী সর্বদলীয় সিন্ডিকেটের তৎপরতা রুখে দিতে দেশপ্রেমিকদের প্রয়োজনে আগের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া বিকল্প থাকবে না। অতএব, সাধু সাবধান।
আমাদের ডেস্ক : : রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এব...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : ক্ষমতার বাহাদুরি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। যারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ভীতু ও হতাশ...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : ✍️ মিজানুর রহমান চৌধুরী “রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক ত...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : পদবী লোভী লুটেরা দালালদের এ মুহুর্তে থামিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি এরকম পদলোভী লুটের...বিস্তারিত
সম্পাদকীয় ডেস্ক :: : চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়াসা ৮শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরের ৮০ হাজার গ্রাহকের কাছে &l...বিস্তারিত
আলাউদ্দীন বেলাল : ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোট...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited