শিরোনাম
মুহাম্মদ আমির হোছা্ইন :: | ০৬:৫৭ পিএম, ২০২৬-১০-০৩
বিগত শতাব্দীতে ইউরোপ জুড়ে তথা পাশ্চাত্যের সমাজে যখন শিল্পবিপ্লব খুব এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে সেই সময়ের শ্রমিক আন্দোলন খুব জনপ্রিয়তা পায়। যেমন- ১ মে ১৮৮৬, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সে সময় অনেক শ্রমিককে দিনে ১০-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। শিকাগোতে আন্দোলন কয়েক দিন ধরে চলার পর ৪ মে ১৮৮৬ হে মার্কেট স্কয়ারে একটি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হন। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন শ্রমিক নেতার বিচার ও দণ্ড আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলে।
এরপর শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিকে স্মরণ ও সমর্থনের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনে ১ মে বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্যারিস কংগ্রেস ১ মে-কে শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ ও সংহতির দিন হিসেবে গ্রহণ করে। আস্তে আস্তে শ্রমিক আন্দোলন কি সকল মানুষের কণ্ঠ হয়ে উঠেছে, নাকি কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে?
এ শতাব্দীর শুরুতে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ সমাজের ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির মানুষের আন্দোলনের ধরন আলাদা হলেও এর কেন্দ্রে প্রায়ই থাকে একই প্রশ্ন: ন্যায্যতা, অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন।
যাইহোক, ছাত্র আন্দোলনের দ্রুত গড়ে ওঠার পেছনে থাকে শিক্ষা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার। কিন্তু যখন একটি আন্দোলনের দাবি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন সেটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর আন্দোলনের সীমা অতিক্রম করে গণসমর্থন পেয়ে যায়।
সমাজবিজ্ঞানী চার্লস টিলির Social Movements, 1768–2004 গ্রন্থে সামাজিক আন্দোলনকে সম্মিলিত দাবি আদায়ের একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আন্দোলনের শক্তি শুধু মানুষের সংখ্যায় নয়; দাবি উপস্থাপনের ধরন, সংগঠন, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিডনি ট্যারোর Power in Movement সামাজিক আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে -মানুষ যখন মনে করে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে সম্মিলিতভাবে দাবি উত্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়তে পারে। অর্থাৎ একটি আন্দোলনের সূচনা ছোট পরিসরে হলেও তার সঙ্গে যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থের সম্পর্ক তৈরি হয়, তাহলে তা বিস্তৃত সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
শ্রমিক ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হলো ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। একজন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চান; একজন শিক্ষার্থী চান মানসম্মত শিক্ষা, বৈষম্যহীন সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। দুই পক্ষের দাবির ভাষা ভিন্ন হলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তাদের উদ্বেগের জায়গা অনেক সময় কাছাকাছি।
আরেকটি বিষয় হলো যোগাযোগ প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আন্দোলনের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একই দাবির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে এবং কোনো স্থানীয় ঘটনাকে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত দাবিও দ্রুত ছড়াতে পারে। ফলে আন্দোলনের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিহাসেও দেখা যায়, ছাত্র ও শ্রমিকের যৌথ অংশগ্রহণ অনেক আন্দোলনকে বৃহত্তর সামাজিক শক্তিতে পরিণত করেছে। তবে প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা আলাদা। তাই কোনো একটি দেশের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি অন্য দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।
শ্রমিক আন্দোলন থেকে ছাত্র আন্দোলনের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি শুধু বয়স বা পেশার পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অভিন্ন অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। যখন একটি আন্দোলন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সীমা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন সামনে আনে, তখন তার সামাজিক পরিসরও বিস্তৃত হতে পারে।
তরুণ প্রজন্ম শুধু ভবিষ্যতের দর্শক নয়, বর্তমানেরও সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ছাত্র রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের বার্তা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বৈষম্য, বেকারত্ব ও সুযোগের অসমতা দূরীকরণে এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তনে তারা বিশাল অংশীদারত্ব তৈরি করছে; যা বহুগুণে বৃদ্ধিও পেতে পারে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে যে, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে তরুণদের কথা শুনতে হবে এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক
আবদুল্লাহ মজুমদার : : অন্ধকারেরও একটা সীমা আছে। রাতের অন্ধকার স্বাভাবিক; কিন্তু মানুষের ঘরে যে অন্ধকার নেমে আসে, তার কার...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আমাদের সমাজে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন কিংবা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক à...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ: একজন কর্মকর্তা আসেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং একদিন বদলির আদেশ নিয়ে চলে যা...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফিশারিঘাটের পুরোনো মাছবাজারে সকাল শুরু হয় ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। একদিকে সদ্য ধরা রুপালি ইলিশের হাঁ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার চোখে কালো কাপড় বে...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited