শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৭:১৮ পিএম, ২০২৬-০৫-১৮
মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আত্মত্যাগ, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মানবিকতার চিরন্তন প্রতীক হয়ে যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। ঈদুল আযহা তেমনই এক মহিমান্বিত উৎসব, যার অন্তরে নিহিত রয়েছে তাকওয়া, আত্মসমর্পণ এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের গভীর শিক্ষা। এই উৎসব মানুষকে তার ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করে।
ঈদুল আযহা-এর ইতিহাস ইসলামের এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে স্বপ্নের মাধ্যমে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। এটি ছিল তাঁর ঈমানের এক কঠিন পরীক্ষা। তিনি বুঝতে পারেন, আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কেই কোরবানি করতে হবে। একজন পিতার হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর আদেশ পালনের সিদ্ধান্ত নেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসমাইল (আ.)-ও বিনা দ্বিধায় আল্লাহর নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করেন। পিতা-পুত্রের এই অনন্য আনুগত্য, ধৈর্য ও ঈমানের পরীক্ষায় মহান আল্লাহ তাঁদের ইচ্ছাকে গ্রহণ করেন এবং ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনা মানবজাতির জন্য চিরন্তন শিক্ষা—আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে বিলীন করে দেওয়াই প্রকৃত ঈমান।
এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য শিখিয়েছেন। কোরবানি কেবল পশু জবাই নয়; বরং এর মূল উদ্দেশ্য অন্তরের তাকওয়া অর্জন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—
“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭
এছাড়া আরও বলা হয়েছে—
“নিশ্চয়ই এটি ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।”
— সূরা আস-সাফফাত : ১০৬
“আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবাই করার জন্য একটি মহান প্রাণী।”
— সূরা আস-সাফফাত : ১০৭
এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই প্রতি বছর জিলহজ মাসে মুসলিম উম্মাহ ঈদুল আযহা পালন করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে।
তবে ইসলামে কোরবানির শিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি গভীর আত্মিক অনুশীলন। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করতে শেখে। কোরবানির প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হয়, যখন মানুষের অন্তর আল্লাহভীতিতে পরিশুদ্ধ হয়।
এই উৎসব একই সঙ্গে মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতিরও শিক্ষা দেয়। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সমতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ পায়, যা সমাজকে আরও সংহত করে।
ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি সামাজিক দায়িত্ববোধকেও গুরুত্ব দেয়। তাই কোরবানি সমাজে সহযোগিতা, ন্যায়বোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে। একই সঙ্গে পশুপালন, পরিবহন, চামড়া শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে এটি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বহু মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—
“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কোরবানি কর।”
— সূরা আল-কাউসার : ২
বর্তমান ভোগবাদী ও প্রতিযোগিতামূলক সমাজে ঈদুল আযহা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ত্যাগ ছাড়া মহত্ত্ব অর্জন সম্ভব নয়, আর মানবিকতা ছাড়া কোনো সমাজ স্থায়ীভাবে সুন্দর হতে পারে না। প্রকৃত সফলতা সম্পদে নয়; বরং তাকওয়া, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধে নিহিত।
সুতরাং ঈদুল আযহা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক চিরন্তন শিক্ষা। এর প্রকৃত সার্থকতা তখনই পূর্ণ হয়, যখন মানুষ পশু কোরবানির পাশাপাশি নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও হিংসাকেও ত্যাগ করতে শেখে।
লেখক: আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আল আরাবিয়া মোজাহেরুল উলুম এর ছাত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুহাম্মদ কিফায়তুল্লাহ শফীক : ১. অবতরণিকা : সময়ের মহাপ্রবাহে কত নাম উচ্চারিত হয়, কত নামই বা কালের ন...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চলে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। একজন মুসলমানের জন্য এ রমজান মাসের গুরুত্ব কতটুকু তা বলে বোঝানো যাবে ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। এটি এমন একটি ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একà...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : যাকাত ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ। কালিà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কাল ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত à...বিস্তারিত
ইসলাম ডেস্ক : : ভোট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘সামনে আসছে নির্বাচন, গ্রাম পর্যায়ে এক কাপ চা, দুইশত টাকা, পাঁচ শত টাক...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited