শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৭:১২ পিএম, ২০২৬-০৪-০৮
প্রযুক্তির দাপটে বদলে গেছে ব্যবসার ধরন, হিসাবের খাতা জায়গা ছেড়েছে কম্পিউটার ও সফটওয়্যারকে। তবুও বাঙালির ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘হালখাতা’ এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
চট্টগ্রামের কিছু পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও খাতা প্রস্তুতকারকদের হাত ধরে শত বছরের এ প্রথা টিকে আছে, যদিও আগের মতো জৌলুস নেই।
পয়লা বৈশাখ এলেই লাল কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতার চাহিদা বাড়ে।
পুরোনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন হিসাব শুরু করার এই রীতি এখন অনেকটাই প্রতীকী হলেও কিছু ব্যবসায়ীর কাছে এটি এখনও আবেগ ও ঐতিহ্যের বিষয়। নগরের টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা ও বক্সিরহাট এলাকায় এখনও দেখা মেলে হালখাতা তৈরির ব্যস্ততা।
কর্ণফুলী আর্ট অ্যান্ড বাইন্ডিং হাউসের স্বত্বাধিকারী পঙ্কজ দাশ জানান, একসময় খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বড় ব্যবসায়ীরা লাল কাপড়ে মোড়ানো খাতায় হিসাব রাখতেন। এখন অনেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করছেন, তবে এখনও স্বর্ণ ব্যবসায়ী, মুদি দোকানি ও আড়তদারদের মধ্যে হালখাতার ব্যবহার আছে।
তিনি আরও বলেন, হালখাতার একটি বড় সুবিধা হলো এতে লেখা হিসাব সহজে পরিবর্তন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে দেনাদার-পাওনাদার এখনও কাগজের খাতাকে প্রমাণ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেন।
নিউ খাতাঘর এর স্বত্বাধিকারী নয়ন ঘোষ বলেন, এখন ৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে হালখাতা বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই এখনও লাল রঙকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে, তাই লাল খাতার চাহিদা বেশি।
তবে ব্যবসায়ীরা স্বীকার করছেন, আগের মতো আর নিমন্ত্রণ, মিষ্টিমুখ বা জমকালো আয়োজন নেই। মোবাইল ব্যাংকিং, নগদ লেনদেন এবং বাকির পরিমাণ কমে যাওয়ায় হালখাতার মূল উদ্দেশ্যই অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে হালখাতার সূচনা মুঘল আমলে, সম্রাট আকবরের সময়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সুবিধার্থে বাংলা সন চালু হওয়ার পর থেকেই বছরের শুরুতে হিসাব হালনাগাদের এ প্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘হাল’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ নতুন। সেই অর্থেই পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলার নাম হয় ‘হালখাতা’।
একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কম আলোচিত বিষয় হলো আগে ‘সরকার’ নামে পরিচিত বিশেষ হিসাবরক্ষকরা হালখাতার হিসাব লিখতেন। তারা বড় বড় খাতা কিনে সারা বছরের হিসাব সংরক্ষণ করতেন। এই পেশাটিও এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
আরেকটি হারিয়ে যাওয়া শব্দ ‘চৈত-কাবারি’। যা বোঝাতো চৈত্র মাসের শেষে দেনা-পাওনার হিসাব। এ ধরনের শব্দ ও প্রথা আজ প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে হিসাব পরিচালনা করেন। কম্পিউটার, সফটওয়্যার এবং এক্সেল শিটে হিসাব রাখা সহজ হওয়ায় কাগজের খাতার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ফলে হালখাতার ব্যবহারও সীমিত হয়ে পড়েছে।
তবে সব পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় অটুট রয়েছে। হালখাতা শুধু হিসাবের খাতা নয়, এটি সম্পর্কের প্রতীক। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন গড়ে তুলতে একসময় বড় ভূমিকা রাখতো এই প্রথা।
এখন হয়তো সেই জৌলুস নেই, নেই আগের মতো আয়োজন। তবুও চট্টগ্রামের কিছু পুরোনো প্রতিষ্ঠান, কারিগর ও ব্যবসায়ীর চেষ্টায় শত বছরের এই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে, লাল কাপড়ে মোড়ানো খাতার পাতায়, আর মানুষের স্মৃতিতে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited