চট্টগ্রাম   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস: প্রাণহানির পর সুপারিশ থাকে, বাস্তবায়ন নেই

স্টাফ রিপোর্টার :    |    ০৭:৫০ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫

পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস: প্রাণহানির পর সুপারিশ থাকে, বাস্তবায়ন নেই

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ২৪ ঘন্টায় ৪২৫ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হয়। ওই ভারী বর্ষণে কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, কুসুমবাগ, মতিঝরনা সহ অন্তত এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ভোরে সামান্য সময়ের ব্যবধানে এ পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১২৭ জন মারা যায়। এরপর গত ১৪ বছরে এভাবে পাহাড়ধসে মারা গেছে অন্তত আড়াই শ জন। ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে এ মৃত্যুর পর তদন্ত কমিটিগুলো মোট ৭২টি সুপারিশ করে। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যেও একই ধরনের সুপারিশ ছিল।
কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলে কিছু লোকজনকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে পাকা ঘর।
আছে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা। অল্প খরচে বিদ্যুৎ-পানি সুবিধা থাকায় এসব মৃত্যুকূপে ঝুঁকি নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষরা বসবাস করছেন।
এমনকি পাহাড়ের ঢালে জমিও কাঠা প্রতি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা আর পাহাড়ের নিচে প্রতি কাঠার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। দখলদারির একটি সিন্ডিকেট দশকের পর দশক ধরে ধীরে ধীরে এসব পাহাড় গ্রাস করেছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় পাহাড়ধসে মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়াও একটা বড় কারণ। জানা গেছে, চট্টগ্রামের ৩৪টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বাস করছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। শুধুমাত্র রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতিঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবার। লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরের জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে অন্তত ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ বসতি বেড়েই চলছে। জেলার জঙ্গল সলিমপুর, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারীর বিভিন্ন পাহাড়ে অসংখ্য অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। 
পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী বাংলানিউজকে বলেন, ষাটের দশকের পাহাড়গুলো আশির দশক থেকে কাটা শুরু হয়। এটি তারপর থেকে চলছেই। এখানে যারা বসবাস করেন তারা হলো তৃতীয় ধাপের লোকজন। এই চট্টগ্রাম শহরে যাদের আশ্রয় হয় না অন্য কোথাও, তাদেরকে টার্গেট করা হয় পাহাড়ে বসবাসের জন্য। এদিকে পাহাড়কেটে মাটি যেমন সাবাড় করছে। অন্যদিকে তাতে আবার স্থাপনা গড়ে উঠছে। 
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগামী প্রজন্ম আর পাহাড় দেখবে না। এ চট্টগ্রাম সমতল হয়ে যাবে। শুধুমাত্র বর্ষার আগে একদিন উচ্ছেদ করলে হবে না। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে। তা না হলে হাজার কোটি টাকা খরচ করেও এই পাহাড়কে বাঁচানো  যাবে না। পাহাড়ধসে মৃত্যুও থামবে না।

রিটেলেড নিউজ

বিমানবন্দরে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়িসহ যাত্রী আটক

বিমানবন্দরে দেড় কেজি স্বর্ণের চুড়িসহ যাত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত


প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া চবিতে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ

প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া চবিতে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ

চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত


চসিকের মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

চসিকের মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত


প্রশিক্ষণের জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে: সিএমপি কমিশনার

প্রশিক্ষণের জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে: সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত


মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে:   শামসুজ্জামান হেলালী

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে:   শামসুজ্জামান হেলালী

স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত


মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর

আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর