শিরোনাম
রিপোর্টার | ০৯:২৪ পিএম, ২০২৬-০৬-২৭
জোবায়ের হোসেন,চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৭ নম্বর বাকলিয়া এলাকার ছোট ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক মো. শাহীনকে ঘিরে সম্পদের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ১০ বছর ধরে চালক হিসেবে কর্মরত শাহীনের বর্তমান মাসিক বেতন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আয়ের তুলনায় তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চসিকের ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা ছবি ও বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার এবং প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। এছাড়া নগরীর একটি দামি ফ্ল্যাটে বসবাস এবং গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ওই ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজেই করেন বলে দাবি একাধিক সূত্রের।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চসিকের সর্বনিম্ন স্তরের একজন চালক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করেন। ফলে একজন নিম্ন বেতনের কর্মচারী কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিজেল বিক্রির অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি তেল ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে শাহীন নিয়মিত চসিকের বরাদ্দকৃত ডিজেল বিক্রি করেন। ওই তেল ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, শাহীনের কাছ থেকে তিনি প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকা দরে কিনে থাকেন এবং নিয়মিতই এভাবে ডিজেল সংগ্রহ করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শাহীন প্রতিদিন ময়লা পরিবহনের জন্য চসিক থেকে ৮ থেকে ১২ লিটার ডিজেল উত্তোলন করেন। তবে ট্রিপ অনুযায়ী তার গাড়িতে ৬ থেকে ৮ লিটারের বেশি জ্বালানি খরচ হওয়ার কথা নয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ডিজেল বিক্রি করে দেন তিনি।
এছাড়া নিয়মিত জ্বালানি উত্তোলন করলেও তিনি সবসময় নিজে গাড়ি চালান না। বরং পারিশ্রমিক দিয়ে অন্য শ্রমিকদের দিয়ে গাড়ি চালানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১১৫ টাকা। সে তুলনায় কম দামে সরকারি ডিজেল বিক্রির অভিযোগ সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করে অবৈধ বাণিজ্যের প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহীন চসিকে চালক হিসেবে নিয়োগ পান। সে সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেতেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ডিজেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল সম্পদের মালিক হন তিনি। অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও এখনও তিনি বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন।
সুপারভাইজারের বক্তব্য:
শাহীন সম্পর্কে জানতে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার মো. মাহফুজুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "শাহীন নিয়মিত গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল বুঝে নিলেও সবসময় নিজে গাড়ি চালায় না। অনেক সময় শ্রমিকদের দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নেয়। তবে আমি পরিদর্শনে গেলে সে নিজেই এসে গাড়ি চালাতে শুরু করে।
বেশি ডিজেল পাওয়ার উদ্দেশ্যে যেন বেশি ট্রিপ দেখানো হয়, সে জন্য বিভিন্ন সময় আমার কাছে তদবিরও করেছে।
অনেক সময় গাড়ি নষ্ট হওয়ার কথা বলে সব ট্রিপ সম্পন্ন করে না। ফলে কিছু ডিজেল উদ্বৃত্ত থেকে যায়। মানবিক কারণে আমি সেই উদ্বৃত্ত ডিজেল ফেরত চাইনি। পরে শ্রমিকদের কাছ থেকে শুনেছি, টাকার অভাবে সে ওই ডিজেল বিক্রি করে দিত।
শুধু শাহীনই নয়, এ ধরনের কাজ তার মতো আরও অনেক চালক করে থাকে। তবে বিষয়গুলো সব সময় প্রমাণ করা সম্ভব হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো নজরের বাইরে থেকে যায়।"
যা বললেন শাহীন:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহীন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চসিকের ময়লার গাড়ি চালাচ্ছেন। দামি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মালিক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, চাকরির পাশাপাশি তার নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। তবে নতুন ব্রিজ এলাকায় চসিকের ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল বিক্রির অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
নিয়ম কী বলছে?
প্রচলিত সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী (চালকসহ) সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া চাকরিরত অবস্থায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে পারেন না। এমন কার্যক্রম আচরণবিধির পরিপন্থী।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি শাহীনের নিজস্ব ব্যবসাই তার উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস হয়ে থাকে, তাহলে তুলনামূলক কম বেতনের এই চাকরিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহাল আছেন কেন?
এছাড়া তার সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, সরকারি বরাদ্দের ডিজেল বিক্রির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় যথাযথ অনুমতি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited