শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : | ০৮:১০ পিএম, ২০২৬-০৮-২৯
অনিরুদ্ধ অপু, রাঙ্গুনিয়া:
রাঙ্গুনিয়ায় ভূমি বা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিলের মূল্যের ওপর স্থানীয় সরকার অনুকূলে ১% হস্তান্তর করের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নয়-ছয় হচ্ছে। এই করের টাকা সঠিকভাবে স্থানীয় উন্নয়ন বা জনকল্যাণে ব্যবহার না করে ভুয়া প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, রাঙ্গুনিয়ার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভার দলিল হস্তান্তরের ১% কর বাবদ বছরে ২.৫ থেকে ৩ কোটি টাকা আদায় হয়। এসব ভুমি হস্তান্তর কর ও বিভিন্ন ফি উৎসে আদায় করা হয়। দলিল রেজিস্টার ও কর জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের সময় নির্ধারিত বাজার মুল্যের উপর ভিক্তি করে স্ট্যাম্প, রেজিষ্ট্রেশন ফি এবং স্থানীয় সরকারের স্থাবর সম্পত্তি কর, সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পরিশোধ করতে হয়। যেসব কর স্থানীয় পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ম অনুযায়ী মুল্যের নিদিষ্ট শতাংশ ১% বা ২% করে স্থানীয় রাজস্ব আদায়ের নিয়ম রয়েছে। এসব ফি বা কর সাধারণত পে-অর্ডার, ট্রেজারী চালান বা ব্যাংকের নিদিষ্ট কোডে জমা দিয়ে তার রশিদ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিতে হয়। এমনকি রেজিষ্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর, উৎসে কর, ই-ফি, এন ফি, এন এন ফি, নকল নবিশ ফি এবং পে-অর্ডার বা সার্ভিস চার্জ, ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ১০ টাকার কোট ফি সহ হরফ নামা প্রিন্ট করে দলিলে সংযুক্ত করতে হয়।
এসব করের টাকা প্রতি মাসে প্রেরণ করার বিধান রয়েছে। এসব করের টাকায় বার্ষিক ইউনিয়ন গুলোর উন্নয়ন বাজেটের অধিকাংশ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু এসব করের টাকা বাস্তবায়নে কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও কাগজে- কলমে ভুয়া স্কিম বা প্রজেক্ট দেখিয়ে ১% ফান্ডের টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ফলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের লোক বা স্বজনদের ঠিকাদার বানিয়ে নামমাত্র কাজ করে সম্পূর্ণ বিল তুলে নেওয়ার প্রচলন চালু হচ্ছে বলে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সুত্রগুলো জানায়, এসব সংগৃহীত করের রাজস্বের ১% কর বাবদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের মাধ্যমে বরাদ্দ নির্ধারিত হয়ে থাকে। কোন ইউনিয়ন কত বরাদ্দ পেল তা নির্ধারিত হয় বর্তমান ইউএনওর মাধ্যমে। কিন্তু রাঙ্গুনিয়ায় এব্যাপারটি সম্পূর্ণ গোপনে করা হয়েছে বলে এক বিশ্বস্থ সুত্র দাবি করছে। ফলে ইউনিয়ন বা উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত জমা ও খরচের হিসাব টাঙিয়ে না দেওয়া, সঠিক তদারকি না থাকা, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে প্রকল্পের কাজ নিয়মিত যাচাই করা, এই ১% ভূমি হস্তান্তর করের অনিয়ম নিয়ে রাঙ্গুনিয়া ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা নিয়ে পুরোদমে চলছে ব্যাপক কানাঘুষা। তহবিলে অস্বচ্ছতা, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস থেকে স্থানীয় সরকারের হিসাবে কত টাকা জমা হলো এবং কোথায় খরচ হলো, তার নিয়মিত প্রকাশ ও অডিট না থাকা। তদারকির অভাব, সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক মনিটরিং বা তদারকি না থাকায় এই খাতের অর্থ নয়-ছয় করা সহজ হয় বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র দাবি করছে।
অভিযোগ সুত্রগুলোর দাবি ইউনিয়নের জন্য ২০২৬ সালের ভূমি উন্নয়ন করের আদায়কৃত অর্থের অংশ থেকে ১% হারে সুনির্দিষ্ট কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো অফিশিয়াল বা জনসমক্ষে প্রকাশিত আর্থিক পরিসংখ্যান এখনও উন্মুক্ত করা হয়নি। সাধারণত এই বরাদ্দগুলো ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক কর আদায়ের হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জেলা/উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে পাঠানো হয়। সংগ্রহ ও প্রাপ্ত বরাদ্দে ইউনিয়ন গুলোতে ব্যাপক হিসাবের গড় মিল আকাশ-পাতাল হাওয়া নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট জমির দলিল হস্তান্তরের উপর নির্ধারিত কর বাবদ সংগৃহীত অর্থের ব্যাপারে নিখুঁত পরিমাণ জানতে সরাসরি যোগাযোগ করলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানান, ভূমি হস্তান্তরের সময় ১% হস্তান্তর কর ছাড়াও স্থানীয় সরকার কর, গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প শুল্ক এবং রেজিস্ট্রেশন ফি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হয়। যা রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে স্থানীয় পরিষদের তহবিলে জমা হয়। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও উৎস কর যোগ হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সাব-রেজিষ্টার এইচ এম মিরাজ সৌরভ বলেন, স্থানীয় কর, উপজেলা পরিষদের ফান্ডে দেয়া হয়। এই কর ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় বন্টন করে স্থানীয় কর এবং জেলা পরিষদে স্ট্যাম্প, ও অন্যান্য ১% দলিল হস্তান্তরের স্থাবর সম্পত্তি বা জমি নিবন্ধনের সময় মূল মূল্যের ওপর ১% (এক শতাংশ) স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর কাটা হয়, যা স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে বন্টন করে দেয়া হয়। তবে তিনি সঠিক তথ্য ও সংগৃহীত অর্থ বা রাজস্বের ব্যাপারে স্থানীয় দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধিকে দিতে নারাজসহ উচ্চ মহলের অনুমতি নেবার কথা বলে এরিয়ে যান।
এব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া ইউএনও মোঃ নাজমুল হাসান জানান, রাঙ্গুনিয়ায় ভূমি হস্তান্তর করের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি নয়-ছয় হওয়ার সুযোগ নাই। প্রত্যেক ইউনিয়নপরিষদে সঠিক ভাবে বন্টনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হচ্ছে সমান ভাগে, তবে কোথাও কোথাও প্রকল্প তৈরীতে উনিশ-বিশ হতে পারে।
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা, বোয়ালখালী: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার মুফতিপাড়া এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সময় মোশারফ...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর কমিটি গঠন নিয়ে এক আলোচনা সভা ২৯ আগস্ট দুপুরে নারায়ণ হাটস্হ (...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা, বোয়ালখালী: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জ...বিস্তারিত
রাউজান প্রতিনিধি : : রাউজানের মঙ্গলখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে সুদীর্ঘ ৫৪ বছর গ্রামের আপামর জনতার শ্রদ্ধ...বিস্তারিত
আনোয়ারা, প্রতিনিধি :: : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে মো. আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited