শিরোনাম
লামা প্রতিনিধি : | ০৭:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৬-২৫
মোঃরাসেল
পাহাড়ের সবুজ ফুসফুস খ্যাত বান্দরবানের লামা বনাঞ্চলে এখন চলছে মূল্যবান সেগুন গাছ পাচারের মহোৎসব। বন ও সরকারি সম্পদ রক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা স্থানীয় বন বিভাগের রহস্যজনক নীরবতা এবং উদাসীনতায় প্রতিদিন নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনের শতবর্ষী ও দামি সেগুন কাঠ।
সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একটি সফল অভিযানে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অধ্যায় উন্মোচিত হওয়ার পর, বন বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠেছে তীব্র বিতর্কের ঝড়। খোদ বন রক্ষা ব্যবস্থার ভেতরেই কেউ ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।টিপি চেকিংয়ে রূপসী পাড়া আর্মি ক্যাম্পে জালিয়াতি ফাঁস, দুই ট্রাক সেগুন কাঠ আটক ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে মূল্যবান গোল সেগুন কাঠবোঝাই দুটি বিশালাকার ট্রাক ট্রান্সপোর্ট পারমিট (TP) পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে রূপসী পাড়া আর্মি ক্যাম্পে যায়। সেখানে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা তল্লাশির সময় কাঠ পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু তল্লাশিকালে ট্রাকে থাকা ব্যক্তিরা কোনো সঠিক ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনীর সতর্ক ও তীক্ষ্ণ জেরার মুখে মুহূর্তেই ফেঁসে যায় তারা। বেরিয়ে আসে যে, সংরক্ষিত বনের সেগুন গাছগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় পাচারের উদ্দেশ্যে ভুয়া ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।সরকারি ‘সিল’ কার? জনমনে ক্ষুব্ধ প্রশ্নএই ঘটনার সবচেয়ে বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দিক হলো, আটককৃত চোরাই সেগুন গাছগুলোর গায়ে বন বিভাগের অফিসিয়াল ‘হাতুড়ি সিল’ বা মার্কিং মারা ছিল। সরকারি বিধি মোতাবেক, কোনো গাছের গায়ে বন বিভাগের সিল থাকার অর্থ হলো সেটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং বৈধ। কিন্তু সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়া দুই ট্রাক গাছের কাগজপত্র যেখানে ভুয়া প্রমাণিত হলো, সেখানে বন বিভাগের নিজস্ব সিল কীভাবে আসলো—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল রহস্য।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, বন বিভাগের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া কি সরকারি সিল অপব্যবহার করে এভাবে জালিয়াতি করা সম্ভব? নাকি বনের সরকারি সিল চোরাকারবারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে?বিতর্কের কেন্দ্রে বন বিভাগের ভূমিকা লামার স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, এই অঞ্চলে নিয়মিত টহল ও নজরদারির অভাব এবং অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে ভেতরগত গোপন সমঝোতার কারণেই একের পর এক বনাঞ্চল ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। ২২ জুন রাতে দুই ট্রাক সেগুন গাছ আটকের পর স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো।
সরকারি সিল মারা কাঠ পাচারের মতো এমন চরম জালিয়াতি চক্রকে কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে স্থানীয় বন বিভাগ।হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পাহাড়ের বুক থেকে একের পর এক মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে পাচার করার ফলে লামা অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে। বনের ভেতর বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় প্রায়ই লোকালয়ে বন্য হাতির আক্রমণ বাড়ছে।
একই সাথে, বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ পাহাড় ধস ও আকস্পিক বন্যার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।রূপসী পাড়া আর্মি ক্যাম্পের এই সফল অভিযানের পর নড়েচড়ে বসেছে সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে এই আন্তর্জাতিক চক্র এবং বন বিভাগের ভেতরের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই জালিয়াতি সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে? কোন কোন রুটে যাচ্ছে এই চোরাই সেগুন কাঠ? তা জানতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য, গোপন নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের প্রমাণসহ চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited