শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : | ০৬:১০ পিএম, ২০২৬-০৮-২৫
অনিরুদ্ধ অপু
নানামুখী সংকটে জর্জরিত শতবর্ষী চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্ট্রিয়ান হাসপাতাল। এটি একমাত্র তৃনমুলে চিকিৎসা সেবার উদ্দ্যেশে ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্ট্রিয়ান হাসপাতালটি কাপ্তাই উপজেলায় হলেও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ব্যস্ততম বৃহৎ বানিজ্যিক প্রানকেন্দ্র চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও দোভাষী বাজারের পাশ ঘেঁষে তার অবস্থান। এই হাসপাতালের একটি অংশ কুষ্ঠ রোগীদের জন্য একটি ইউনিট রাঙ্গুনিয়ার লিচু বাগানে অবস্থিত। এইটি কুষ্ঠ রোগীর জন্য আলাদা একটি পুর্ণাঙ্গ আলাদা হাসপাতাল। বর্তমানে জেনারেল ও কুষ্ঠ হাসপাতাল দুইটি কুঁড়িয়ে কুঁড়িয়ে চলছে।
এ হাসপালে নার্সিং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থাকলেও তার নেই কোন স্থায়ী ভবন বা ক্যাম্পাস। এছাড়াও বর্তমান পরিচালকের গাফেলতির কারনে এই হাসপাতালের এখন আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর আগেও দেশি বিদেশী ডাক্তারদের দ্বারা পরিচালিত এই দুইটি হাসপাতাল এখন নিজেই অনেকটা রোগী হয়ে দিনাতিপাত করছে। খ্রীষ্ট্রিয়ান হসপিটালের দুইটির বর্তমান পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের এখন নতুন নেতা সেজেছেন। এসব সংগঠনের আড়ালে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সাংগঠনিক তৎপরতাসহ সম্প্রাদায়িক চেতনাকে বলিষ্ঠ করতে তিনি নিজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন।
প্রাচীনতম খ্রীষ্ট্রিয়ান হসপিটালের পরিচালক হিসেবে ডাঃ প্রবীর খিয়াং শতভাগ ব্যর্থ হয়ে এখন রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের আড়ালে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
আর এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীকে মোটা অংকের টাকা ডোনেশন করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যার কারনে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না থাকায় এলাকার গরীব অসহায় রোগিরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং চিকিৎসা সেবার মান উন্নত না করেই দুই উপজেলায় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে নানা ধরনের সভায় অবাধে বক্তব্য প্রদান করে লোকজনকে জ্ঞান দেয়ার অপচেষ্টা সময় পার করছেন। বর্তমানে এই স্বনামধন্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে বলে স্নানীয়দের অভিযোগ।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক হিসেবে ডাঃ প্রবীর খিয়াং মৃত এই সংগঠনের প্রাণ সঞ্চার করে তুলেছেন। ডাঃ খিয়াং এর স্ত্রীও এই হাসপাতালের ডাক্তার হওয়ার এলাকার লোকজন রসিকতা করে বলেন, বউ জামাইয়ের হাসপাতাল।
অনুসন্ধানে জানাযায়, পুর্বে এই খ্রীষ্ট্রিয়ান হাসপাতালে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসাবে পরিচিতি ছিল। এমনকি হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী এবং বহির্বিভাগে প্রায় ২০ হাজার রোগী বছরে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন। এছাড়াও বছরে ২০ লাখ টাকা সমমানের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে বিতরণ করা হতো এই হাসপাতালের রোগীদের। অনুসন্ধানের তথ্যমতে, ১৯১৩ সালে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্ট্রিয়ান হাসপাতাল কুষ্ঠ চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় তিন কোটি মানুষের জন্য এটিই একমাত্র বিশেষায়িত কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতি বছর প্রায় ২৫০ জনের বেশি কুষ্ঠ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হতো। এছাড়া বিনামূল্যে কুষ্ঠ রোগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসা, খাবার, থাকার ব্যবস্থা এবং রোগীদের বিকলাঙ্গতা প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার্য উপকরণও দিতেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে আরও জানাগেছে, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ডাঃ জিও টেইলর। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম বাংলাদেশী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডাঃ এস এম চৌধুরী। তিনি ১৯৬৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তান ডাঃ স্টিফেন চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ডাঃ স্টিফেন চৌধুরী মৃত্যুর পর নবম পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে পায় ডাঃ প্রবীর খিয়াং।
এব্যাপারে তার মুখোমুখি হলে ডাঃ প্রবীর খিয়াং বলেন, এখনো দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার বিদেশি দাতাগোষ্ঠী ধীর গতিতে কাজ করছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ডাক্তারও আসছেন না। তাই হাসপাতালের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছেনা।বিদেশি বিশেজ্ঞ ডাক্তার হাসপাতালে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। সম্প্রতি দাতা সংস্থার টীম হাসপাতাল ভিজিট করে গেছেন। শীঘ্রই ভালো কিছু হবে। আর কুষ্ঠ রোগের হাসপাতালটি শুরু থেকেই বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর থেকে বিদেশী অর্থায়ন বন্ধ থাকার কারনে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিবছর কুষ্ঠ রোগিদের জন্য ৫০-৬০ লাখ টাকা খরচ লাগে যেটা জেনারেল হাসপাতালের ফান্ড বহন করে যা বর্তমানে হাসপাতালের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনে পড়তে হচ্ছে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘সীরাতে মোস্তফা মাহফিল’ ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে দয়া, ক্ষমা, সত্য, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবসেবার চর্চা ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বন্যার পানি নেমে গেছে, কিন্তু চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। ট...বিস্তারিত
মহেশখালী প্রতিনিধি : : মহেশখালীর আমাবশ্যাখালী মৌজায় সরকারি প্যারাবন নিধন করে চিংড়িঘের ও লবণ মাঠ তৈরি এবং অবৈধভাবে পুকুর...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল করতে চট্টগ্রাম-...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জিয়ারত করেছেন বিশ্বের ১২টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলাম...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited