শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৪:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৪-১১
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম আজ এক অদৃশ্য আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। সেই আতঙ্কের নাম—মশা। একসময় সন্ধ্যার পর সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দিনের বেলাতেও মশার উপদ্রব অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাসাবাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতাল—কোথাও যেন স্বস্তি নেই। এটি আর কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়; বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
প্রশ্ন উঠছে—এ দায় কার? সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে দৃশ্যমান ব্যর্থতা নগরবাসীর চোখ এড়ায়নি। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসন যে সমস্যাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারেনি, তা স্পষ্ট। নিয়মিত ফগিংয়ের অভাব, পরিকল্পিত লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রমের অনুপস্থিতি এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
মশার বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ নগরীর নালা-নর্দমার বেহাল দশা। অনেক এলাকায় ড্রেন আবর্জনায় পূর্ণ; কোথাও জমে থাকা পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই স্থির পানিই মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। অথচ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের মৌলিক দায়িত্ব। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—এই দায়িত্ব পালনে রয়েছে চরম উদাসীনতা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ নগরজুড়ে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী যুক্ত হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
সমাধান কী?
প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর মশক নিধন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেবল ফগিং নয়, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে জোর দিতে হবে। নিয়মিত নালা-নর্দমা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত, নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে বাসাবাড়ির আশপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই মশার বিস্তারে ভূমিকা রাখে। তাই জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে—তবে এই সচেতনতা তৈরির দায়িত্বও সিটি কর্পোরেশনের।
তৃতীয়ত, ব্যবহৃত কীটনাশক ও পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। অকার্যকর ওষুধ বা ভুল প্রয়োগের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সংকটকে আর মৌসুমি সমস্যা ভেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি দীর্ঘদিনের নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিফলন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এমন একটি নগরীর এই অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কেবল প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
নগরবাসী আর আশ্বাসে আস্থা রাখে না—তারা চায় দৃশ্যমান পরিবর্তন। নালা-নর্দমা পরিষ্কার থেকে আধুনিক মশক নিধন—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
অন্যথায়, “মশার নগরী” তকমা চট্টগ্রামের পরিচয়ে স্থায়ী হয়ে যাবে—যা যেমন লজ্জাজনক, তেমনি বিপজ্জনক।
লেখক: আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited