শিরোনাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : | ০৫:৩৮ পিএম, ২০২৬-০৯-৩০
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম জনবল সংকট। জেলার ১০ উপজেলায় নেই কোনো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা; কোথাও শুধু অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে চলছে কার্যালয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরিৎ কুমার চাকমা। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে স্থবিরতার মুখে পড়েছে জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তারা অবসরে যাওয়ার কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও নেই উপজেলাগুলোতে। ফলে অনেকটা কর্মকর্তা শূন্য হয়ে পড়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগটি। কেবলমাত্র নতুন করে জনবল নিয়োগ হলেই এই সংকটের সমাধান হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়, মাধ্যমিক শিক্ষার জেলা পর্যায়ের অফিসে রয়েছে মোট ১২টি পদ। এরমধ্যে একজন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বাকি ১০টি পদ কর্মচারীদের। যার মধ্যে একজন হিসাব রক্ষক কাম ক্লার্ক, তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন ক্যাশিয়ার কাম স্টোর কিপার, একজন গাড়ি চালক, চারজন অফিস সহায়ক। আর উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জনবলের মোট পদ ৬টি। যেখানে একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব রক্ষক, একজন অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্টি অপারেটর, একজন অফিস সহায়ক, একজন নিরাপত্তা প্রহরী।
‘মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হলেন আমাদের অভিভাবক। অনেকদিন হলো শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি শূন্য। একজন একাডেমিক সুপারভাইজার ছিলেন তাকেও সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে।’
জানা গেছে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মোট ১২টি পদের মধ্যে ৭টি শূন্য পড়ে আছে। নেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুজন কর্মকর্তা। এখানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরিৎ কুমার চাকমা। এছাড়াও কর্মচারীদের ১০টি পদের মধ্যে ৫টি শূন্য।
সূত্রমতে, জেলার রাজস্থালী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে রয়েছেন একজন নিরাপত্তা প্রহরী। এছাড়া এখানে কর্মকর্তাসহ নেই আর কোনো জনবল। এই সংকট চলছে দীর্ঘদিন।
অপরদিকে জেলার নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেরও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানকার একটি দপ্তরে রয়েছেন একজন অফিস সহায়ক ও অপরটিতে একজন নিরাপত্তা প্রহরী। এই তিনটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মাত্র একজন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে। যারা কার্যালয়টি খোলা রাখা ও বন্ধ করার কাজেই সীমাবদ্ধ। সেবা পাওয়া এখানকার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। একজন নিরাপত্তা প্রহরী বা অফিস সহায়ক দিয়ে কীভাবে একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় চলে সে প্রশ্ন সচেতনমহলের।
‘আদালতের রায়ের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি। তবে আমাদের রাঙ্গামাটিতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনেক পদ শূন্য। নিয়োগের মাধ্যমে এই পদগুলো পূরণ হলে অফিসগুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা হবে।’
জুরাছড়ির ভূবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরা বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুরাছড়ি উপজেলায় এই পদটি প্রায় দুই বছর ধরে খালি পড়ে আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকহীন অবস্থায় চলছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দেখার জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকার ফলে বিদ্যালয়সমূহে কোনো মনিটরিং হচ্ছে না। কর্মকর্তা না থাকলে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে লংগদু উপজেলার রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল মামুন ইবনে মিজান বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হলেন আমাদের অভিভাবক। অনেকদিন হলো শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি শূন্য। একজন একাডেমিক সুপারভাইজার ছিলেন তাকেও সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই উপজেলাকে একেবারে শূন্য করে কিভাবে একজন মাত্র কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করেন, উৎসাহ উদ্দীপনা জোগান। এখন আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। প্রয়োজনীয় কাজগুলো জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে করতে হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত এই সংকটের সমাধান দরকার।
‘জেলা ও উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলোতে সরাসরি জনবল নিয়োগ হয় না। এখানে সহকারী শিক্ষা অফিসাররা এবং সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়ে থাকেন। সম্প্রতি এটা নিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা আপত্তি জানিয়ে আদালত পর্যন্ত গিয়েছে ফলে জেলা উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য হয়ে আছে।’
এছাড়াও জেলার বরকল, বিলাইছড়ি ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জনবল রয়েছে মাত্র দুজন করে। এখানে নেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো শূন্য পড়ে থাকলেও দেখার জন্য কেউ নেই এখানে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার ১০টি উপজেলা ও জেলা অফিস মিলিয়ে কর্মকর্তার পদ রয়েছে মোট ২২টি। যার মধ্যে ২১টি বর্তমানে শূন্য। একজন মাত্র সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন কাপ্তাই উপজেলায়। এছাড়া জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মচারীর মোট ৫০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। এখানেও মোট জনবলের অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, জেলা ও উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলোতে সরাসরি জনবল নিয়োগ হয় না। এখানে সহকারী শিক্ষা অফিসাররা এবং সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়ে থাকেন। সম্প্রতি এটা নিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা আপত্তি জানিয়ে আদালত পর্যন্ত গিয়েছে ফলে জেলা উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি। তবে আমাদের রাঙ্গামাটিতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনেক পদ শূন্য। নিয়োগের মাধ্যমে এই পদগুলো পূরণ হলে অফিসগুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা হবে।
তিন পার্বত্য জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত। রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য চন্দ্রা চাকমা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার তদারকির দায়িত্ব জেলা পরিষদের হাতে ন্যস্ত হলেও শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির বিষয়গুলো অধিদপ্তর দেখে থাকে। তবে উপজেলাগুলোতে শিক্ষা কর্মকর্তার সব পদ শূণ্য রয়েছে এটা জানা ছিল না। সামনে শিক্ষা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
খবর বিজ্ঞপ্তি : আনোয়ারা-কর্ণফুলী বর্তমানে চট্টগ্রামের দ্রুত পরিবর্তনশীল অঞ্চল সমূহের মধ্যে অন্যতম। পরিকল্পিত উ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : কক্সবাজারের টেকনাফ পাহাড়ি অঞ্চল অপহরণকারী ও ডাকাত দলের অভয়ারণ্য পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : প্রাথমিক শিক্ষার শুরুতেই শিশুদের শেখানো হয় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব। অথচ রাঙ্গামাট...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি সদর উপজেলার মানিকছড়ি এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কেটে চলাচলের রাস্তা তৈরির অভিযোগে এনফোà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited