শিরোনাম
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : | ০৬:৩০ পিএম, ২০২৫-০২-১১
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শুরু হয়েছে প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী সূর্যব্রত মেলা। যে মেলা স্থানীয়দের কাছে সূর্যখোলা নামেও পরিচিত। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের শেষ রবিবার সূর্যদেবের পূজার মাধ্যমে শুরু হয় সূর্যব্রত মেলা। প্রাচীনকাল থেকে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে লালন করে আসছে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকায় এ সূর্যব্রত মেলাটি। এ বছর ৩ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে এ মেলা শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি। উপজেলার জৈষ্ঠ্যপুরা কানুরদিঘীর পাড় সূর্য মন্দির সংলগ্ন মাঠ সাজানো হয়েছে নান্দনিক রূপে। ঐতিহ্যবাহী সূর্যব্রত মেলা উপলক্ষে মাঠ জুড়ে বসেছে নানা ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান। শীতের শেষে বসন্তের আগমনের আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষের সমাগম হয় এ মেলায়। বেচাকেনাও হয় বেশ। মেলায় ঘুরতে আসা পল্লী চিকিৎসক মিন্টু বলেন, ছোটবেলায় জৈষ্ঠ্যপুরা সূর্যখোলা (সূর্যব্রত মেলা) যে মেলা আমাদের অনুভূতি ছিল আগের দিন রাত থেকেই এই মেলা উপলক্ষে আমাদের ঘুম আসতো না। কারণ কিভাবে সকালে মেলায় যাব, মেলায় গিয়ে বাদাম, জিলাপি খাবো। এই সূর্য মন্দিরটি আমাদের জৈষ্ঠ্যপুড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মন্দির। আমরা সেই ছোট্ট বেলা থেকেই দেখে আসছি এই মন্দিরকে ঘিরে মেলা। আমার জানামতে দুই-চার পুরুষ পার হয়ে গেছে এই পূজা হয়। এখন মেলার জৌলুশ হারায় যাচ্ছে। আপন সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এ মেলায় গৃহস্থালী জিনিসপত্র থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী নানান সামগ্রী পাওয়া যায়। ফুলের ঝাড়ু, পোড়া আলু, বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র, শীতল পাটি, তাল পাতার হাত পাখা, মাটির তৈরি তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। ছোটদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলার ব্যবস্থা। মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বসুতোষ দাশ বলেন, মেলায় বেচা বিক্রি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। অন্যান্য মেলা থেকে এই মেলায় ভিন্নতা রয়েছে। তবে আমাদের অবহেলার কারণে এ মেলার জৌলুশ হারিয়ে যাচ্ছে।কমিটির সহ সভাপতি শিবাশীষ সেন বলেন, আমার অনেক আগের প্রজন্ম থেকে শুরু করে আমার বা তার পরের প্রজন্মেও একটি আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে কিন্তু নতুন প্রজন্মের এই মেলার প্রতি আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। আর এইখানকার একটি সব চাইতে ভালো দিক হল এখানে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেলাকে ঘিরে একটি আনন্দমূখর পরিবেশ তৈরি করে। মন্দিরের পূজারী হারাধন চক্রবর্তী বলেন, সূর্যদেবের পূজার মাধ্যমে শুরু হয় সূর্যব্রত মেলা। মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন, ভাবের ও সংস্কৃতির মিলন ও আদান-প্রাদান। মেলাতে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই স্বাগত। ২শ বছর পূর্বে কোনো এক মাঘ মাসের শীতের তীব্রতায় গ্রামের মানুষ যখন জবুথবু হয়ে পড়ে তখনই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আরাধনা করেন সূর্য দেবের। সনাতন ধর্মের নর-নারীরা উপবাস রেখে মনোবাসনা পূর্ণ করতে সূর্যদেবতাকে তুষ্ট করার অভিপ্রায়ে নানা উপাচারে উৎর্সগ করেন। সে সব উপাচার একের পর এক সাজিয়ে রাখায় তা সূর্যখোলা নামেও পরিচিত। সেই থেকে প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শেষ রোববার পূজার প্রচলন ঘটে। কালক্রমে তা উৎসবে পরিণত হয়। এর থেকেই সূর্যের ব্রত মেলা।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited