শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৭:৫৫ পিএম, ২০২৫-০৫-২৬
মোহাম্মদ মিনার উদ্দিন আলী
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেথৈয়া তাফহীমূল কোরআন আলিম মাদরাসায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একই পরিবার থেকে প্রিন্সিপাল, সভাপতি, প্রিন্সিপালের ছেলে ও ভাইয়ের মেয়ের জামাই মিলেই নিয়োগ পরীক্ষা অংশগ্রহণ ও চুড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
মাদরাসাটি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন এডভোকেট আহমেদ ফারুক, আর প্রিন্সিপালের দায়িত্বে রয়েছেন তার ভাই মোসলেহ উদ্দীন সিরাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মাদরাসাটি তাদের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে একচেটিয়াভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা নিজেদেরই প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে, সেখানে এক ধরনের মাতবরি চলে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামে নানা জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতি দিয়ে নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন করা হয়।
সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় নাটকীয়ভাবে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের তথ্য সাংবাদিকের হাতে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী হিসাব এবং ইবতেদায়ী প্রধান পদে মোট ৩টি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১০ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে, যেখানে প্রক্সি পরীক্ষার্থী নিয়োগের নাটক তৈরি করেছে।
প্রিন্সিপালের ভাইয়ের মেয়ের জামাই ‘গফুর’ অফিস সহকারী (কম্পিউটার) পদে, প্রিন্সিপালের ছেলে ‘হিলমি’ অফিস সহকারী (হিসাব) পদে এবং প্রিন্সিপালের ভাই মুস্তাকিম বিল্লাহ ইবতেদায়ী প্রধান পদে নিয়োগ পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একজন শিক্ষক মওলানা মুস্তাক গোপন ক্যামেরায় অকপট স্বীকার করেছেন, “সভাপতি ও প্রিন্সিপাল মিলেই এই নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করেছে।”
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পদ্ধতিতেও অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিটি স্থানীয় কক্সবাজার জেলার মধ্যে সীমিত কপি সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি পত্রিকায় (দৈনিক ভোরের ডাক ও দৈনিক হিমছড়ি) প্রকাশ করা হয়, যা যথাযথ প্রচার ও জনসাধারণের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে অধিকাংশ আবেদনকারী তথ্য থেকে বঞ্চিত হন।
অভিযোগকারী আবরার আলভী জানান, “পরিচালনা পর্ষদ তাদের পছন্দের তিন প্রার্থীকে পূর্ব থেকে বাছাই করে নিয়োগের নাটক সাজিয়েছে। এছাড়া তারা ৩ লাখ টাকা অবৈধ অর্থ লেনদেন করেছে গফুরের নিয়োগের জন্য।”
এ বিষয়ে প্রিন্সিপাল মোসলেহ উদ্দীন সিরাজ বলেন, “এ বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আসা লোকজন সব বাতিল করেছে। তবে নিউজ করার দরকার নেই, আপনাদের খরচও দেব।”
অন্যদিকে সভাপতি আহমেদ ফারুক বলেন, “এখানে কোনও জালিয়াতি হয়নি। ডিজি নিজে পরীক্ষা নিয়েছেন, সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছে। ঘুষ লেনদেনের কোনো সত্যতা নেই।” কিন্তু একই পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ কেন করা হয়েছে তা সম্পর্কে কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি এবং পরে ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসসহ একাধিক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের দাবি তোলা হয়েছে।
খুরুশকুল তাফহীমূল কোরআন আলিম মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited