শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার : | ০৮:৩২ পিএম, ২০২৬-০৫-০৩
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সামর্থ্যবান ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পবিত্র ঈদুল আজহায় সুন্দর, নিখুঁত গরু কোরবানি দিতে পছন্দ করেন। এ জনপদে রেড কাউ বা রেড চিটাগাং জাতের গরু বেশ পছন্দের। নেপালি, অস্ট্রেলিয়ানসহ বিদেশি জাতের সুন্দর গরুর কদরও রয়েছে পশুর হাটে। কেউ কেউ শখ করে দুম্বা, গয়াল এমনকি উটও কোরবানি দেন। মহিষ, ছাগল, ভেড়া, গাড়লের চাহিদাও কম নয়। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশু কম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও নগরের পাঁচলাইশ, কোতোয়ালী ও ডবলমুরিংয়ে মোট কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা হচ্ছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। এসব তথ্য বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি পূরণে বেপারীরা নাটোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ তিন পার্বত্য জেলা থেকে নিয়ে আসে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খামারিদের সঙ্গে কথা বলে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে পশুখাদ্যের বাড়তি দাম ও পশু পরিবহনের গাড়িভাড়া মিলিয়ে এবার ১০-১৫ শতাংশ বাড়তে পারে পশুর দাম। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ফটিকছড়িতে। এ উপজেলায় ৩০ হাজার ১৬৩টি ষাঁড়, ৯ হাজার ৯৬৯টি বলদ ও ৩ হাজার ৮৪২টি গাভি মিলে মোট ৪৩ হাজার ৯৭৪টি গরু কোরবানির উপযোগী রয়েছে। এরপরের অবস্থান বাঁশখালীর। এ উপজেলায় ৩০ হাজার ৭৮৫টি ষাঁড়, ৫ হাজার ২৮০টি বলদ ও ২ হাজার ২৬৭টি গাভি মিলে মোট ৩৮ হাজার ৩৩২টি গরু রয়েছে কোরবানির হাটে নেওয়ার উপযোগী। প্রায় কাছাকাছি অবস্থান মীরসরাইয়েরও, মোট গরু রয়েছে ৩৮ হাজার ৪১টি। এ ছাড়া পটিয়ায় ৩৫ হাজার ৩৮৫টি, হাটহাজারীতে ৩৫ হাজার ৩১৮টি, সাতকানিয়ায় ৩৩ হাজার ৫৮টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৩১ হাজার ৩১টি, সন্দ্বীপে ৩০ হাজার ৬০১টি, রাউজানে ২৮ হাজার ৭৯৪টি, সীতাকুণ্ডে ২৮ হাজার ১৪৮টি, আনোয়ারায় ২৭ হাজার ২৮৫টি, চন্দনাইশে ২৪ হাজার ৫০১টি, লোহাগাড়ায় ২৪ হাজার ৩৫৭টি, বোয়ালখালীতে ২০ হাজার ২৫২টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত। নগরের তিন থানার মধ্যে পাঁচলাইশে ১৯ হাজার ৭২৬টি, কোতোয়ালীতে ৫ হাজার ৫৯০টি ও ডবলমুরিংয়ে ১৩ হাজার ৬৫টি গরুর হিসাব রয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তালিকায়। যদিও এর বাইরে পতেঙ্গা, আকবরশাহ,মোহরাসহ শহরতলিতে প্রচুর খামার রয়েছে। কোরবানির পশুর মধ্যে চট্টগ্রামে মহিষ প্রস্তুত আছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্দ্বীপে, ৮ হাজার ৪০৩টি। এবার মোট ছাগল আছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফটিকছড়িতে, ১০ হাজার ৯৫৬টি। ভেড়া আছে মোট ৪১ হাজার ৪২৩টি। এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা এবং নগরের তিনটি থানায় কোরবানির চাহিদা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি পশু। এর মধ্যে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর উৎপাদন বা প্রাপ্যতা ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৫ হাজার ৩৮৭টি পশু।
দেশে এক কোটিরও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, ফলে আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি হাট বসবে। সরকারের কাছে থাকা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খামারিদের কাছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলিয়ে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তাই এবার কোরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকট বা ঘাটতির সম্ভাবনা নেই। অতীতে কোরবানির সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পশু প্রবেশের কারণে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী হাটগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ করতে না পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট প্রাপ্যতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতি-যেমন উট, দুম্বা ইত্যাদি মোট ৫ হাজার ৬৫৫টি। অন্যদিকে বিভাগীয় পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে কোরবানিযোগ্য পশুর সর্বোচ্চ সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চলতি বছরে দেশে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সম্ভাব্য প্রাপ্যতা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। সে সময় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, ওই বছরে জবাইকৃত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি, ফলে হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থেকে যায়।
পশুর হাটে প্রস্তুতি, আসছে পশু
নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে চলছে প্রস্তুতি। আসতে শুরু করেছেন বেপারীরা। বড় বড় পশুর হাটে বেশ কয়েক ট্রাক গরু ঢুকতে দেখা গেছে। নগরের বড় পশুর হাট সাগরিকা, বিবিরহাটে, মোহরা-কুয়াইশ মোড় কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া অস্থায়ী পশুর হাটেও চলছে প্রাথমিক প্রস্তুতি। সাগরিকা পশুর হাটের একজন বেপারী বলেন, গরু পালতে খরচ বেড়েছে। গোখাদ্য, চিকিৎসা খরচ, ওষুধের দাম, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল, পরিবহন ভাড়া সব মিলে খরচ শুধু বাড়ছেই। সেই হিসেবে দাম বাড়ছে না।
তিনি জানান, মহানগরী হওয়ায় চট্টগ্রামের গৃহস্থরা কোরবানির পশু রাখার অসুবিধার কারণে জবাইয়ের দুই-এক দিন আগেই পশু কিনে থাকেন। যারা বেয়াই বাড়িতে কোরবানির পশু উপহার দেন তারা আগেভাগে কিনে ট্রাকে করে পাঠিয়ে দেন।
জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনে পশুর হাট
বিভিন্ন খামারিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেইজ খুলে, ওয়েবসাইট চালু করে অনলাইনে পশু বিক্রি করছেন। বিশেষ করে তরুণরা বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ব্যবসা করছেন। শত শত পেইজ, গ্রুপ রয়েছে অনলাইনে। ক্রেতারা পশুর ছবি দেখে পছন্দ হলে খামারে গিয়ে সরাসরি পশু দেখে পছন্দ করছেন, কিনছেন। অভিজ্ঞদের অভিমত, নিশ্চিত না হয়ে লেনদেন না করার জন্য। এতে প্রতারণার আশঙ্কা থাকে।
ভাগাভাগির ঝামেলা শেষ
নগরে পরিচিত মানুষ, আত্মীয় স্বজনের চেয়ে অপরিচিত মুখই বেশি। তাই যারা শেয়ারে গরু কিনে ভাগাভাগি করে কোরবানি দেন তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। আর যেখানেই ঝামেলা সেখানেই সমাধান হচ্ছে অনলাইনে। তেমনি একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে বায়েজিদের মিট বাজার অ্যাগ্রো। শেয়ারে গরু কোরবানির তিনটি প্যাকেজ ১৭ হাজারে কমপক্ষে ১৬ কেজি, ১৯ হাজারে ১৯ কেজি এবং ২১ হাজারে ২২ কেজি।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited