শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৮:০৪ পিএম, ২০২৫-০২-১৮
কাজী রেজাউল করিম
চট্টগ্রামের আকবারশাহ থানার বিহারী কলোনি ও নিউ শহীদ লেইন এখন মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে দুই ভাই— মনির হোসেন ওরফে "বাইট্টা মনির" এবং মহিন উদ্দিন ওরফে "ইয়াবা মহিন"। তাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেট, যারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে, অস্ত্রের মহড়া দেয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর চালায় নির্মম নির্যাতন। তাদের দাপটে এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে, অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবাদ করলেই হামলা, নারীদের ওপরও নির্যাতন
মনির-মহিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ভয়ংকর প্রতিশোধ নেমে আসে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা শুধু অর্থ লুটপাট করেই ক্ষান্ত হয় না, নারীদের ওপরও চালায় চরম নির্যাতন। এক ভুক্তভোগী বলেন— "আমি বহু কষ্টে মেয়ের বিয়ের জন্য ৮০ হাজার টাকা জমিয়েছিলাম। কিন্তু মনির-মহিনের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়, ১ লাখ টাকা লুট করে, আমার স্ত্রীর বুকে লাথি মারে! এমনকি আমার টিভিটাও নিয়ে যায়। প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে, পরে বলে— ১৫ হাজার টাকা দিলে টিভি ফেরত দেবে।" প্রাণ বাঁচাতে তিনি এখন কুমিল্লায় রিকশা চালাচ্ছেন, স্ত্রী অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আর মেয়ে মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। আতঙ্কের কারণে পরিবারটি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকা
মনির-মহিনের অধীনে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন— "দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। পুলিশ জানে, প্রশাসন জানে — কিন্তু কিছুই করছে না। প্রতিবাদ করলেই হামলা হয়, টাকা লুট হয়, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা জানি, কারা এদের রক্ষা করছে, কিন্তু মুখ খুলতে পারছি না। কারণ কথা বললেই রক্ত ঝরবে।"
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিরাপদ সিন্ডিকেট
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই মাদক সিন্ডিকেট ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী বলেন— "আমরা প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং রাজনৈতিক মহলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা এদের রক্ষা করছে।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনির ও মহিনের একাধিক রাজনীতিবিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে— এই সম্পর্কই কি তাদের অপরাধ জগতে রক্ষাকবচ? স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এ ধরনের ভয়ংকর সিন্ডিকেট এতদিন টিকে থাকতে পারত না।এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন— "এই সিন্ডিকেট মাদকের টাকা দিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রভাব বিস্তার করে। প্রশাসন সব জানে, কিন্তু কিছু করছে না!"
প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মনির-মহিনের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরাসরি সহযোগিতা করছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ সিন্ডিকেট এতদিন টিকে থাকতে পারত না।
আকবারশাহ থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজের নেতৃত্বে একটি তদন্ত চলছে। তবে তদন্তের ধীরগতির কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
এলাকাবাসীর দাবি:
মাদক সম্রাট মনির ও মহিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। যেসব রাজনৈতিক নেতারা এই চক্রকে মদদ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আকবারশাহ থানার বিহারী কলোনি ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক চক্র ধ্বংস করতে হবে।
প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেবে, নাকি পাহারাদার হয়ে থাকবে?
চট্টগ্রামের আকবারশাহ থানার বিহারী কলোনি ও আশপাশের এলাকা ক্রমেই মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই— প্রশাসন কি সত্যিই ব্যবস্থা নেবে, নাকি মাদক সিন্ডিকেটের পাহারাদার হয়ে থাকবে? যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এলাকাবাসী নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য
তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, "মনিরের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। সে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির নাম আমার তদন্তে উঠে আসেনি। আমাদের তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা সম্ভব নয়। তাছাড়া কোনো ভুক্তভোগীর অভিযোগ যদি আমাদের কাছে আসে, তা আমরা খতিয়ে দেখবো।"
নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্যাপশন: কদম মোবারক মুসলিম এতিমাখানার নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ (২০২৬ - ২০২৯) এর অভিষেক ও ইফতার...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙামাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৩০ (ত্রিশ) পিস ইয়াবা ট্যা...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি শহরের ডিসি অফিস এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত মাদক সম্রাট জসিম (৪৬) কে ধাওয়...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম গবছড়ি বাজারে অগ্নিকাণ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে রাঙামাটিতে আনা হচ্ছে শুল্কবিহীন অবৈধ সিগারেট। প্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited