শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৭:০৮ পিএম, ২০২৫-০৫-২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক সাংবাদিক কলমের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু এমন একজন সম্পাদকও কি আছেন যিনি সরাসরি রাজপথে নেমে, পরিবারকে পাশে রেখে, নিজের সর্বস্ব বাজি রেখে একটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন?
বাংলাদেশের সেই সাহসী সম্পাদক শুধু সংবাদপত্রের সম্পাদকই নন, তিনি একাধারে দক্ষ সাংবাদিক, রাজনৈতিক সংগঠক ও মানবাধিকারের এক প্রজ্জ্বলিত আলো। তিনি ‘লাভ বাংলাদেশ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। একাধারে তিনি দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, দৈনিক আমাদের বাংলা, এবং আরও চারটি পত্রিকার সম্পাদক। সম্পাদক হিসেবে তার লেখনি যেমন বলিষ্ঠ, তেমনি কর্মযাত্রাও অন্য সবার থেকে আলাদা।
রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়া এক বাঘের গর্জন:
জুলাই বিপ্লব চলাকালে তিনি শুধু স্লোগানে মুখর হননি, রাজপথে নেমে এসেছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়েও। সবচেয়ে বড় মেয়ে তখন অনার্স প্রথম বর্ষে, মেজো মেয়ে ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষে, আর ছোট মেয়েটি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। এ রকম একটি কোমল ও নির্ভরশীল পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে অবস্থান করা, চোখে চোখ রেখে ফ্যাসিস্ট বাহিনীর মোকাবিলা করা—এ যেন এক বীর যোদ্ধার আধুনিক রূপ। গুলির সামনে দাঁড়ানো মানুষটি বলেছিলেন, “আমার যা কিছু আছে, তা ছাত্রদের জন্য। আমি জীবন বিলিয়ে দিতে এসেছি।”
এই মানুষটির নাম মিজানুর রহমান চৌধুরী—তিনি শুধু একজন সম্পাদক নন, এক সাহসী অভিভাবক, যিনি রণক্ষেত্রে সন্তানদের নিয়ে গিয়েছেন; আর তাই তার কণ্ঠেই শোনা গিয়েছিল: “এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কই যাবি!”
লাভ বাংলাদেশ পার্টির প্রেম ও প্রতিবাদ:
তার রাজনৈতিক দল লাভ বাংলাদেশ পার্টি—নামে যেমন ভালোবাসা, কাজে তেমনই প্রতিবাদ। দেশের প্রতি এই ভালোবাসা থেকেই তিনি এই পার্টির নামকরণ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আজও কোনো সরকারি বৈঠকে তার দলকে ডাকা হয়নি।
তিনি বলেন, “এই সরকারই তো জুলাই বিপ্লবের ফসল। আমি সেই বিপ্লব করেছি পরিবারসহ ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকার চাইলে আমাদের মতামত শুনতে পারে, না চাইলে তারাও জানে, আমি কোনো প্রতিদান চাই না।”
ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা ও দুঃখ
বিপ্লব সফল হলেও কিছু বিষয় তাকে পীড়া দেয়। তিনি বলেন, “ছাত্রদের প্রতি আমার ভালোবাসা সন্তানের মতো। আমি চেয়েছিলাম তারা আমার সঙ্গে পরামর্শ করুক, যাতে কিছু ভুলভ্রান্তি এড়ানো যায়। কিন্তু তারা আবেগে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার কিছুটা মূল্যও দিতে হয়েছে।”
এই সফল বিপ্লব রক্ষা করা কতটা কঠিন, সেটাও ছাত্ররা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি বলে তার আফসোস। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা—এসবের ভেতর দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন।”
একজন সম্পাদক, একজন বিপ্লবী, একজন পিতা:
এই মানুষটির সাহস, উপলব্ধি এবং ত্যাগ শুধু একজন রাজনীতিক বা সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন পিতা, একজন স্বামী এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও অনন্য। নিজের পরিবারকে সামনে রেখে, জীবন ও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে আসা—এটা ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্ররা তাকে শ্রদ্ধাভরে চিনেছে, কিন্তু তিনি চান—আন্দোলনের চেতনা যেন কেবল উত্তেজনায় হারিয়ে না যায়, বরং পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। তিনি চান একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বৈরাচার ও জুলুমের কোনো স্থান নেই।
শেষ কথা:
তার জীবনের এই অধ্যায় শুধু বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসেই নয়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক উজ্জ্বল মাইলফলক। একজন মানুষ যখন কলম ছাড়িয়ে জীবন নিয়ে যুদ্ধ করে, তখন তার সাহস শুধু সংবাদ নয়, প্রেরণাও হয়ে ওঠে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : হাসপাতালের করিডোরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের একটাই প্রার্থনা—প্রিয় মানুষটি যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। à...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বৈষমà§...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে যেমন প্রকাশ করে, তেমনি মানুষের মানবিকতা, রাষ্ট্à...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ইতিহাসে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প একটà...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : বিধির পোশাকে তিনি শৃঙ্খলার প্রহরী এক দীপ্তিমান নাম, কাব্যের অলিন্দে জ্বালান তিনি মননের অনির্বাণ à...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited