শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:১২ পিএম, ২০২৬-১০-০১
ফিশারিঘাটের পুরোনো মাছবাজারে সকাল শুরু হয় ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। একদিকে সদ্য ধরা রুপালি ইলিশের হাঁকডাক, অন্যদিকে সারি সারি শ্রমিকের হাতে চলে ইলিশ কাটা, পরিষ্কার ও লবণ মাখানোর কাজ। মৌসুমি এই মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এখানেই তৈরি হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নোনা ইলিশ। শত বছরের বেশি সময় ধরে উপকূলীয় জনপদ ও চট্টগ্রামের মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোনা ইলিশের নাম। যখন নদী ও সাগরে ইলিশের প্রাচুর্য থাকে, তখন কিছু মাছ লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। মৌসুম শেষে কিংবা সরবরাহ কমে গেলে এই সংরক্ষিত ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে বিক্রি করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষণ পদ্ধতি
ফিশারিঘাট ঘুরে দেখা যায়, শত শত ইলিশ একসঙ্গে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা মাছের আঁশ ও নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করে ভেতর-বাইরে পর্যাপ্ত লবণ মাখিয়ে দিচ্ছেন। এরপর বড় বড় পাত্র বা নির্ধারিত সংরক্ষণস্থলে লবণের স্তরের মধ্যে মাছ সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাছের পচন রোধ করা হয় এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের উপযোগী করা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ছোট আকারের কিংবা তুলনামূলক নরম ইলিশের একটি অংশ নোনা ইলিশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মাছ পরিষ্কারের পর নির্দিষ্ট অনুপাতে লবণ ব্যবহার করা হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশে তৈরি হয় বিশেষ স্বাদ ও গন্ধ, যা নোনা ইলিশকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
স্বাদের জন্য আলাদা কদর
ফিশারিঘাটের প্রবীণ ব্যবসায়ীদের মতে, একসময় দেশের দক্ষিণাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা এবং প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও নোনা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা ছিল। আধুনিক হিমাগার প্রযুক্তির প্রসারের পর এর ব্যবহার কিছুটা কমলেও এখনও বিশেষ স্বাদের কারণে অনেক ভোক্তা নোনা ইলিশ খুঁজে থাকেন।
নোনা ইলিশ ভর্তা, ঝাল তরকারি কিংবা শাক-সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে এটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
দাম বেড়েছে নোনা ইলিশেরও
এ বছর ইলিশের বাজারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কাঁচা ইলিশের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর প্রতি মণ ইলিশের দাম যেখানে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, সেখানে এবার তা ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নোনা ইলিশ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে ছয়টি নোনা ইলিশের দাম মাছের আকার ও মানভেদে প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
শ্রমনির্ভর একটি শিল্প
নোনা ইলিশ তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা। মাছ কাটা, পরিষ্কার করা, লবণ মাখানো, বহন করা এবং বাজারজাতকরণ-প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় দক্ষ শ্রমিকের। মৌসুমে ফিশারিঘাটের অনেক পরিবার এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। দিনভর মাছের ঘ্রাণ, লবণের স্তূপ আর শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে মুখর থাকে পুরো এলাকা। এখানকার কর্মমুখর সময় চট্টগ্রামের সামুদ্রিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
খাদ্যসংরক্ষণের প্রাচীন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে লবণ ব্যবহার অন্যতম। বিদ্যুৎ ও আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির বিস্তারের বহু আগে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ মাছ সংরক্ষণের জন্য এই পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আজও টিকে আছে ফিশারিঘাটে। দিনের আলো ফুরিয়ে এলে বাজারের কোলাহল কিছুটা কমে আসে। কিন্তু লবণের স্তরের নিচে তখনও সংরক্ষিত হতে থাকে শত শত ইলিশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মাছ পৌঁছে যাবে দেশের বিভিন্ন বাজারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের সীমানা ছাড়িয়েও। তাজা ইলিশের ঝলমলে উপস্থিতির আড়ালে এভাবেই বেঁচে আছে চট্টগ্রামের নোনা ইলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য-যা একদিকে খাদ্যসংরক্ষণের কৌশল, অন্যদিকে উপকূলীয় জনপদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবনধারারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ: একজন কর্মকর্তা আসেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং একদিন বদলির আদেশ নিয়ে চলে যা...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার চোখে কালো কাপড় বে...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : একসময় যেসব রেলপথে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের ছুটে চলা ছিল নিয়মিত দৃশ্য, এখন ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রা। বাড়ছে তাপমাত্à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited