চট্টগ্রাম   শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬  

শিরোনাম

বিপ্লবের পরই বেঈমানি: মীর জাফর থেকে আজকের ইতিহাস

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৮:৪০ পিএম, ২০২৬-০৫-১৮

বিপ্লবের পরই বেঈমানি: মীর জাফর থেকে আজকের ইতিহাস

ওচমান জাহাঙ্গীর:

বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—অনেক ক্ষেত্রেই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে বেঈমানি করা হয়। এই বেঈমানির ধারাবাহিকতা ইতিহাসে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা থেকে শুরু হয়ে আজকের সময় পর্যন্ত নানা রূপে ফিরে এসেছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, শাসক বদলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বারবার ভঙ্গ হয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে বহু মুক্তিযোদ্ধা ও বিপ্লবী অবহেলা, নির্যাতন এমনকি হত্যার শিকার হয়েছেন। সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের একটি উদাহরণ। 

এরপর ১৯৭৫ সালে  শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। অথচ সেই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের—যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিজের পা হারিয়েছিলেন—তাঁকেও পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয় বলে অনেকে মনে করেন।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের অনেককেই দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া বা বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে। 

ইতিহাস যেন বারবার একই বার্তা দেয়—সংগ্রামের সময় যাদের প্রয়োজন হয়, ক্ষমতার স্থিতি এলে তাদের অনেককে ভুলে যাওয়া হয়।

এখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গেও অনেকে একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করছেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।

 অনেকে মনে করেন, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে আবারও বেঈমানি করা হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের সময়কার বিশ্বাসঘাতকতা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন বারবার জাতিকে একই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—বিপ্লব কি কেবল ক্ষমতা বদলের জন্য, নাকি জনগণের প্রকৃত মুক্তির জন্য?

রিটেল