শিরোনাম
আব্দুল আলীম নোবেল, কক্সবাজার | ০৫:২৪ পিএম, ২০২৬-১১-০৩
কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক খ্যাতি তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং বিশাল সমুদ্রসৈকতের জন্য। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে বিভিন্ন উৎসব কিংবা ‘বীচ কার্নিভাল’-এর আয়োজন অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হতে পারে। তবে সেই বিকাশ ও রূপান্তর হতে হবে strictly পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব এবং সেবাধর্মী। পর্যটনকে যখন শুধুই অসংযত বাণিজ্যিক মুনাফার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হয় এবং জনগণের পাবলিক প্রপার্টিকে কর্পোরেট স্বার্থের কাছে সঁপে দেওয়ার চক্রান্ত চলে, তখন তা আর পর্যটনের উন্নয়ন থাকে না; তা পরিণত হয় এক চরম পুঁজিবাদী গ্রাসে।
কক্সবাজারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান পর্যটন জোন—যেখানে হোটেল শৈবাল, মোটেল প্রবাল, মোটেল উপল ও লাবণী পয়েন্ট অবস্থিত—সেখানে সরকারি হিসাব ও নথি অনুযায়ী মূল জমির পরিমাণ প্রায় ১৩৫ একর, যা বিভিন্ন তদন্ত কমিটির তথ্যে প্রায় ১৮৫ একর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী চত্বরে রয়েছে বিখ্যাত শৈবাল, উপল, প্রবাল, সাগরিকা রেস্তোরাঁ, গলফ বার, সুইমিং পুল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একটি বিশাল প্রাকৃতিক ঝাউবাগান ও নিজস্ব বিচ।
সম্প্রতি এই ‘শৈবাল’-এর মূল্যবান সরকারি ভূমিতে "স্পেল বাউন্ড কমিউনিকেশন" নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ মাসের জন্য ‘বীচ কার্নিভাল’ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আপাতদৃষ্টিতে ৩ মাসের এই কার্নিভালের নাম দেওয়া হলেও, জনমনে প্রবল সংশয় ও প্রশ্ন জাগছে—এ যেন সেই পুরোনো দখলের মহড়াতেই এক নতুন মোড়ক!
৩ মাসের সাময়িক আয়োজন, নাকি দীর্ঘমেয়াদি দখলের সূক্ষ্ম কৌশল?
স্থানীয় নাগরিক, সচেতন সমাজ ও পরিবেশপ্রেমীদের প্রধান শঙ্কা—আজ যে কোম্পানি কার্নিভালের নামে ৩ মাসের জন্য সরকারি জমিতে ঘাঁটি গাড়ছে, আগামীতে কি তারা পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ)-এর নামে স্থায়ীভাবে ৩ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য এই বিপুল সম্পদ দখল করে বসে থাকবে?
এমন সংশয় মোটেই অমূলক নয়। কক্সবাজারের মানুষ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ভালো করেই জানে, কীভাবে সরকারি পর্যটন করপোরেশনের হাজার কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তিকে নামমাত্র প্রিমিয়ামে ‘অরিয়ণ গ্রুপ’-এর মতো বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পাঁতারা হয়েছিল। সেসময় তীব্র প্রতিবাদ ও জনমতের মুখে সেই চক্রান্ত রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও, আবারও ভিন্ন মোড়কে ‘বীচ কার্নিভাল’-এর বাহানায় কি সেই একই রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? ৩ মাসের সাময়িক মেলা বা কার্নিভাল আসলে এক ধরনের "পায়ের তলার মাটি শক্ত করার" বা কৌশলে জমি গ্রাসের ইশারা বহন করে।
ঝাউগাছের পরিবেশগত সুরক্ষা বনাম তথাকথিত উৎসব
একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়—কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্র শৈবালের ভেতরে উপকূলীয় সুরক্ষাকবচ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী স্পর্শকাতর ঝাউবাগানের ভেতরেই কেন এই কার্নিভাল করতে হবে?
কক্সবাজার শহরের বাইরে কিংবা তুলনামূলকভাবে কম পরিবেশ-ঝুঁকিপূর্ণ অনেক খোলা জায়গা বা ফাঁকা জমি ছিল। সেগুলোকে বাদ দিয়ে সরাসরি শৈবালের ঝাউবাগানের মতো সংরক্ষিত ও সবুজ প্রাকৃতিক এলাকায় বীচ কার্নিভালের নামে হাজার হাজার মানুষের সমাগম, মাইকের তীব্র শব্দ এবং প্লাস্টিক দূষণের আয়োজন কেন? তাহলে কি পর্যটনের প্রসারের আড়ালে কোনো গভীর চক্রান্ত লুকিয়ে আছে? সরকারি জমিকে ধাপে ধাপে ব্যক্তিমালিকানাধীন বা কর্পোরেট স্বার্থের অধীনে সঁপে দেওয়ার পথ সুগম করতেই কি এই আয়োজন?
পর্যটন বাণিজ্য নয়, পর্যটন হতে হবে 'জনসেবা' ও 'পরিকল্পিত'
পুঁজিবাদী চিন্তাধারায় পর্যটন কেবলই মুনাফা অর্জনের মাধ্যম, যেখানে প্রকৃতি, স্থানীয় ঐতিহ্য ও পরিবেশকে তোয়াক্কা না করে দ্রুততম সময়ে পকেট ভারী করাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু টেকসই ও পরিকল্পিত পর্যটনের মৌলিক ভিত্তি হলো—পর্যটন হবে সেবাধর্মী ও পরিবেশবান্ধব। এ ক্ষেত্রে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি রয়েছে:
জনসম্পদের ওপর জনগণের অধিকার: ১৩৫ থেকে ১৮৫ একরের এই বিশাল শৈবাল প্রাঙ্গণ দেশের সকল জনগণের সম্পদ। কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা কর্পোরেট গ্রুপিংয়ের বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে এই সম্পদকে সহজলভ্য করা যাবে না।
পরিবেশ রক্ষা প্রথম অগ্রাধিকার: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কক্সবাজারের ঝাউবাগান ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো কার্নিভাল বা উৎসব হতে পারে না।
পরিকল্পিত পর্যটন মডেল: মেলা বা কার্নিভাল করতে হলে তা শহরের উপকণ্ঠের নির্দিষ্ট খালি ও পরিবেশগত ঝুঁকিমুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করতে হবে।
পরিকল্পিত কক্সবাজারের দাবিতে সোচ্চার হতে হবে
‘বীচ কার্নিভাল’-এর মোড়কে শৈবালের মূল্যবান সরকারি জমি গিলে খাওয়ার যে সূক্ষ্ম শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পর্যটনের প্রসার অবশ্যই চাই, তবে তা কোনোভাবেই কতিপয় পুঁজিবাদী বা কর্পোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির বিনিময়ে নয়।
কক্সবাজারের পরিবেশ, ঝাউবাগান এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই আয়োজনের স্থান, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ পিপিপি চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক নজরদারি প্রয়োজন। পর্যটন হতে হবে পরিবেশসম্মত, পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী সেবা—কোনো আগ্রাসী পুঁজিবাদী দখলের গল্প নয়।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) এবং সমন্বয়ক, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন।
টেকনাফ প্রতিনিধি : : সরকারিভাবে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটক পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈà...বিস্তারিত
আব্দুল আলীম নোবেল, কক্সবাজার : শিক্ষা ব্যবস্থার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী উচ্চ বিদ্য...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ০১ নভেম্বর (রোববার) থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে দেশের একমাত্র প্à¦...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা ১২ দিনের অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদের যোগা...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে প...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় প্রশিক্ষিত যুব সংস্থা (পà§...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited