শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:৪৯ পিএম, ২০২৬-০১-০২
চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা ভুইয়া গলিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিআইপি মুজিবের বিলাসবহুল বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় বাড়ির প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে, ১০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। চাঁদা পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে ঘটনাটি নিছক চাঁদাবাজি নাকি এর পেছনে ভিন্ন কোনো কৌশল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বিলাসবহুল বাড়ির মেইন গেট, নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষের দরজা এবং গলির রাস্তায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলির সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ৯ রাউন্ড, আবার কেউ ১৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ার কথা বলছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভোররাতে আনুমানিক ১০ জনের একটি দল এ হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই বাড়ির গানম্যানদের গুলির খোসা সংগ্রহ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত ডিআইজি (পশ্চিম), জেলা পুলিশ, সিআইডি, ডিবি এবং চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
চকবাজার থানা, ওসি, বাবুল আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিআইপি মুজিব ও পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, নিয়মিত অর্থায়ন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর অনেক সাবেক এমপি ও মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও সিআইপি মুজিব ও পরিবারের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থের মাধ্যমে দলীয় নেটওয়ার্ক সচল রাখার অভিযোগ রয়েছে সিআইপি মুজিব ও পরিবারের বিরুদ্ধে। একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আওয়ামী দোসরদের জামিন, আইনি সহায়তা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনে এই পরিবার সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। একটি গোপন সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত আইনি সুবিধা নেওয়া, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং চলমান কর্মকাণ্ড আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা সাজানো হতে পারে। দেশকে অস্থিতিশীল দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান নিরাপদ করতে এটি একটি কৌশলও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অংশ নির্বাচন বানচাল করা এবং দেশে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
ঘটনাটি চট্টগ্রাম নগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, এটি চাঁদাবাজির ঘটনা নাকি গভীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ককে ব্যবহার করে অবৈধ সিগারেট পাচারের একটি চালান আটকের পর নতুন করে সামনে এসেছà§...বিস্তারিত
চকরিয়া প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান অপহরণ ও হতà...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় গভীর রাতে নির্মাণকাà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গা ও দস্যুতা সংগঠনের অভিযোগে একাধিক মামলার আসà...বিস্তারিত
আনোয়ারা, প্রতিনিধি :: : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে মো. আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited