শিরোনাম
টেকনাফ প্রতিনিধি : | ০৮:৩৭ পিএম, ২০২৫-০৯-১৭
কক্সবাজারের টেকনাফে ২বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১২ জন মানব পাচারকারীকে আটক করেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকালে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২বিজিবির হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্নেল আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় যে, বেশ কিছুদিন যাবৎ গভীর সাগর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ী এলাকায় কয়েকটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র মানব পাচার তৎপর। এ সকল মানব পাচারে সক্রিয় চক্রের দৌরাত্ম অনেক বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পরিচালিত চলমান বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ অভিযানে গত জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্ট মাসে ০৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত সীমান্তে ১৭ জন মানব পাচারকারী সদস্যকে আটকসহ মায়ানমার হতে বিপুল সংখ্যক মানব পাচারের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করে গত কয়েক মাস ধরে নাফ নদী এবং তৎসংলগ্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থান নেয়।
এ পর্যায়ে, অপহরণ এবং মানব পাচার প্রতিরোধে ২ বিজিবি বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করলে, আটক আসামিদের দেয়া তথ্য এবং ব্যাটালিয়ানের নিজস্ব গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, বেশ কিছু দিন যাবত স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র মায়ানমার হতে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হতে মায়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত মানব পাচার ও মাদক পাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত। জানা যায় বাংলাদেশে থাকা হোসেন, সাইফুল এবং নিজাম এই সংঘবন্ধ চক্রের মূল হোতা, এই তিনজনের মাধ্যমে বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় ও দলে বিভক্ত হয়ে তারা এই মানব পাচার করে থাকে। জানা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু মাঠ পর্যায়ের বেতনভুক্ত সদস্য মালয়েশিয়ায় লোক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রলোভন প্রদর্শন করে। এসব প্রলোভনের মধ্যে রয়েছে উচ্চ বেতনের চাকরি, সুবিধাজনক কর্মসংস্থান, দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা এবং বিনা অর্থে প্রেরণ করে পরবর্তীতে কর্মস্থলে কাজের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের সুযোগের প্রতিশ্রুতি। এ ধরনের প্রলোভনের মাধ্যমে টেকনাফসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও মায়ানমারের নাগরিকদের মালয়েশিয়া গমনে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে সংগৃহীত লোকদের তথ্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মূল হোতাদের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ভূক্তভোগীদের স্থানীয় পাচারকারীর নিকট হস্তান্তর করা হয়, যাদের সাথে মাঠ পর্যায়ে লোক সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত পাচারকারীদের বিদেশে পাচারের জন্য কোন যোগাযোগ থাকে না। নতুন পাচারকারীদের নিকট হস্তান্তরের পর ভূক্তভোগীদের দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ও গোপন আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পৌঁছার সাথে সাথে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আবাসিক অবস্থায় ভুক্তভোগীদের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয় না; অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মিতভাবে স্বল্প পরিমাণ খাদ্য প্রদান করা হয়। মায়ানমার/মালয়েশিয়া গমনের পূর্বেরদিন স্থানীয় দালালদের নির্দেশক্রমে ভূক্তভোগীদের বাংলাদেশে অবস্থানরত মূল পাচারকারী চক্রের হাতে পুনরায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে কিছু পাচারকারী বাংলাদেশ হতে মায়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া এবং কিছু পাচারকারী সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া অভিমুখে লোক প্রেরণ করে।
এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন উপকূল হতে ছোট ছোট নৌযানে করে ভূক্তভোগীদের গভীর সমুদ্রে অপেক্ষারত বড় নৌযানে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া, সংগৃহীত ভূক্তভোগীদের মধ্যে আর্থিক সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের আটক রেখে তাদের পরিবারের নিকট থেকে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পাচারকারীদের অপতৎপরতা রুখতে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে, ২ বিজিবির বেশ কয়েকটি অভিযান দল এবং নিজস্ব গোয়েন্দারা মাঠে নামে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর শাহপীরদ্বীপের মোহনায় মানব পাচারকারীদের একটি বড় প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে ২ বিজিবি। সাগরপথে মায়ানমারের প্রায় ১০০ নাগরিককে পাচারের সময় ০৪ জন মানব পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে মানব পাচার চক্রের একটি বড় পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। জানা যায় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই
চক্রগুলোর মধ্যে পাঁচজন মুলহোতা মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে তাদের স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে মানব পাচারের কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আরো জানা যায়, পাচারকারী চক্রের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত, যেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প, স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িত। মানব পাচারকারী চক্রগুলোর সঙ্গে মাদক পাচার, চোরাচালান, অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাস ও অপরাধের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। অভিযান পরিচালনার সাময় নিজস্ব গোয়েন্দারা পাচারকারীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ভূক্তভোগীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। এসময় পিছনে থাকা বিজিবি’র চৌকস টহল দলগুলো দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে সাড়াশী অভিযান চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া এবং বড়ইতলি এলাকা হতে মানব পাচারকারী চক্রের ০৮ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের মতে চক্রটি বেশ কিছুদিন যাবৎ মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।
চলতি বছরের অদ্যবধি পরিচালিত বিশেষ অভিযানগুলোতে সঙ্গবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রগুলোর সর্বমোট ৬২ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। তবে, চক্রের মূল হোতা এবং বাকি সদস্যদের ধরতে ভবিষ্যতে আরও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন। পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের সকলকে আটক করা হলে অপরাধীদের দৌরাত্ব কমে যাবে বলে এলাকাবাসী জানায়। মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত অভিযানে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ১২ জন আসামীকে প্রচলিত আইন অনুসারে স্থানীয় থানায় মামলা রুজুসহ হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও ভূক্তভোগী ১১ জনকে নিয়ম অনুসারে তাদের নিকট আত্নীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আটককৃত ও পলাতক আসামীরা হলো, টেকনাফ সদরের তুলা তুলির মৃত হোসেন আহমেদ পুত্র মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫), লেঙ্গুর বিলের নুর বসরের পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান (২০), উখিয়ার থাইংখালী এফডিএমএন ক্যাম্পের মোঃ আইয়ুবের পুত্র মোঃ আবু তৈয়ব (২৫), মিয়ানমারের বুসিডং থানার বুসিডং গ্রামের নুর মোহাম্মদের পুত্র মোঃ ইদ্রিস (৩৫), টেকনাফ সদর তুলাতুলির মৃত জহির আহমদের পুত্র জাহেদ (১৮), টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মৃত রশিদল্লাহ এর পুত্র মোঃ জুবায়ের (৩৩), বাহারছড়া ইউপির কচ্ছপিয়ার নুর মোহাম্মদের পুত্র নরুল আবছার (১৮),সদর ইউপির ছোট হাবিবপাড়ার মৃত সহোরার পুত্র মোঃ ইসমাইল (৩২),বাহারছড়া ইউপির বড়ডেইল এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র মোঃ ইমরান (২৮), একই এলাকার নুর ইসলামের পুত্র নুর মোহাম্মদ (৪০), ২৭ নং এফডিএমএন ক্যাম্প, জাদিমুরা, বি/৫ ব্লক এর মোঃ জহির এর পুত্র মাহমুদউল্লাহ (৩০), বাহারছড়া ইউপির কচ্চপিয়া এলাকার বছির আহমদের মেয়ে খুরশিদা বেগম(৩৪),
পলাতক আসামীরা হলেন, বাহারছড়া ইউপির কচ্চপিয়ার নুর আহম্মদের পুত্র মোঃ হোসেন (৩১),বসদর ইউপির দক্ষিণ লম্বরী এলাকার হাফিজুর রহমানের পুত্র সাইফুল (৪০), বড়ইতলি এলাকার নেজাম।
তিনি আরও বলেন, মানবতা এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং মাদক ও মানব পাচার/চোরাচালানের বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় বাহারছড়া ইউপির নোয়াখালী পাড়া ঘাট, কচ্ছপিয়া করাছি পাড়া ঘাট ও সাবরাং ইউপির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে দিয়ে নিয়মিত মানবপাচারসহ জ্বলপথ দিয়ে বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ককে ব্যবহার করে অবৈধ সিগারেট পাচারের একটি চালান আটকের পর নতুন করে সামনে এসেছà§...বিস্তারিত
চকরিয়া প্রতিনিধি : : কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান অপহরণ ও হতà...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ডিম পাহাড়সংলগ্ন থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকায় গভীর রাতে নির্মাণকাà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’-এর সহ-সম্পাদক ও স...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গা ও দস্যুতা সংগঠনের অভিযোগে একাধিক মামলার আসà...বিস্তারিত
আনোয়ারা, প্রতিনিধি :: : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে মো. আইয়ুব আলী (৩৭) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited