শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮:৪২ পিএম, ২০২৫-০৮-১৭
চট্টগ্রাম মহানগরে বেসরকারি হাসপাতালের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে। চিকিৎসা না দিয়েই মাত্র তিন ঘণ্টায় নবজাতকের জন্য প্রায় ১৯ হাজার টাকার বিল ধরিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, শিশুটি জন্মের দুই দিন পর হঠাৎ কান্না ও ফিডিং বন্ধ করে দেয়। ১৪ আগস্ট বিকেলে উদ্বিগ্ন হয়ে অভিভাবকরা দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই নবজাতক স্বাভাবিকভাবে কান্না শুরু করে এবং দুধও খেতে থাকে।
কোনো চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন হয়নি। তবুও হাসপাতালের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র নিতে গেলে নার্স অভিভাবকদের জানান—“আপনারা তো চিকিৎসাই নেননি, তাই ফাইল দেওয়া যাবে না।” কিন্তু ফাইল ছাড়া ছাড়পত্র না মেলায় পরিবারকে অবশেষে হাসপাতাল থেকে দেওয়া বিল পরিশোধ করেই বের হতে হয়।
মাত্র তিন ঘণ্টার বিল ১৯ হাজার!
পরিবার যখন বিল কপি হাতে পায়, তখন তারা হতবাক হয়ে যায়। হাসপাতালে মাত্র তিন ঘণ্টা থাকার পরও বিল দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬ টাকা।
বিলে উল্লেখ ছিল— ভর্তি ফি: ১,০০০ টাকা, বেড চার্জ: ৩,০০০ টাকা (৩ ঘণ্টারও কম সময় থাকার পরও), চিকিৎসক ফি: ৪,৪০০ টাকা, মেডিসিন: ৩৫০ টাকা, প্যাথলজি: ৩,৬৩০ টাকা, সিবিজি চার্জ: ১০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ: ৩,১৩৬ টাকা, ইন্সট্রুমেন্ট চার্জ: ৩,০০০ টাকা, মোট: ১৯,০১৬ টাকা।
অভিভাবকদের অভিযোগ—“শিশুকে কোনো বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবুও সার্ভিস চার্জ ও ইন্সট্রুমেন্ট চার্জের নামে অযৌক্তিক টাকা বসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নবজাতকের বাবা মোহাম্মদ শাহ সানী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। হাসপাতালে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। অথচ তিন ঘণ্টার জন্য চিকিৎসা ছাড়াই ১৯ হাজার টাকার বিল করা হলো। শিশুর জীবন নিয়ে যদি ব্যবসা হয়, তবে মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে?”
স্বাস্থ্যখাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিলিং ব্যবস্থায় কোনো স্বচ্ছতা নেই। রোগী বা তার পরিবার প্রকৃত সেবা না নিয়েও কখনও কখনও গলাকাটা বিলের মুখে পড়েন।
তারা মনে করেন, সরকারি তদারকি দুর্বল হওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো ইচ্ছেমতো চার্জ বসাচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভিস চার্জ ও ইন্সট্রুমেন্ট চার্জের নামে অযৌক্তিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়।
চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হাসপাতালগুলোর বিলিং সিস্টেমে নীতিমালা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। রোগীদের প্রতারণা থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে কড়া নজরদারি ও নিয়মিত অডিট দরকার।”
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো আসলে কতটা দায়বদ্ধ? চিকিৎসা বাণিজ্যিকীকরণের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা প্রতিদিন কমছে। শহরাঞ্চলে সেবার নামে বাড়তি চার্জ আর গ্রামীণ অঞ্চলে ভোগান্তি—উভয় জায়গায় স্বাস্থ্যখাতের সুশাসনের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে—১. এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। ২. হাসপাতালের বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে অবিলম্বে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ৩. সরকারি তদারকি জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো পরিবারকে আবারও চিকিৎসা ছাড়াই অযৌক্তিক বিল দিতে না হয়।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited