শিরোনাম
মিজানুর রহমান চৌধুরী | ০৮:৩৮ পিএম, ২০২৫-০৭-০৭
✍️ মিজানুর রহমান চৌধুরী
“রাষ্ট্র আসলে কারা চালায়?” — এই প্রশ্নটি আজ আর কেবল কৌতূহল নয়, এটি এক তীব্র বাস্তবতা। একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি রক্তস্নাত ইতিহাস, একটি বিপ্লবের গৌরবগাথা—সবই যেন মাফিয়াচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। কেউ যেন কারও কথা শুনছে না, কেউ দায় নিচ্ছে না। আর এই শূন্যতার সুযোগেই নেমে এসেছে দালালচক্র ও দেশবিক্রেতারা।
আমেরিকা, ইউরোপ, এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেই কেউ কেউ 'প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ' পরিচয়ে এনজিও-চাদর গায়ে দিয়ে বিচরণ করছে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তাদের পরিচিতি ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ছায়ামূর্তি। এই শক্তিশালী গোষ্ঠী দেশের ভূখণ্ড বিক্রির দালালী করছে নির্লজ্জভাবে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে তাদের 'রহস্যময়' আনাগোনা সন্দেহজনক।
এ দেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এ দেশের মাটি বিক্রি বা বন্দোবস্ত দেয়ার অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। তবুও একটি বিশেষ শ্রেণি আজ মাফিয়াচক্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বিপ্লবের রক্তকে উপেক্ষা করে নিজেদের আখের গোছাতে উঠেপড়ে লেগেছে।
বিপ্লবের চেতনাকে বিকৃত করার জন্যই চলছে এই অর্থবিনিয়োগ। রাজপথের সংগ্রামী জনতার মুখ বন্ধ করে দিতে, তাদের ন্যায্য অধিকারকে ভুল পথে প্রবাহিত করতে — এই মাফিয়া সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছে।
তবে প্রতিরোধও শুরু হয়ে গেছে।
বিপ্লবীরা এক কণ্ঠে বলছে— “বিপ্লবের শত্রুদের তালিকা করো। জনগণকে বিভ্রান্ত করে যারা ফায়দা লুটছে, তাদের মুখোশ খুলে দাও।”
মজলুমের লড়াই অপ্রতিরোধ্য। শুধু গণপিটুনি নয়, অপরাধী ধরিয়ে দেওয়া এবং প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করাও আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। এটিকে যারা 'মব জাস্টিস' বলে কলঙ্ক দিতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধীদের রক্ষাকারী। এই দালাল গোষ্ঠীই আসলে রাষ্ট্রের শত্রু।
একটি বড় চক্রান্ত এখন চলমান— ওসির দালালদের নিয়ে গড়ে ওঠা তদবির সিন্ডিকেট। তারা এলাকা ভিত্তিক ঝগড়া লাগিয়ে দেয়, শালিশের নামে চাঁদাবাজি করে, এবং দুপক্ষ থেকে ঘুষ খেয়ে 'ওসির রেফারেন্সে' পুলিশে মামলা ঠেলে দেয়। আবার সেই পুলিশই এসব দালালদের সহযোগিতা করে অপরাধের নিরাপদ আস্তানা তৈরি করে।
এখানে ইয়াবা কারবারি, ভূমিদস্যু, জালিয়াত, বার্মাইয়া রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট এবং খাদ্যে ভেজাল কারবারিদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে থানার ছায়ায়। এই চক্রকে পুলিশি ছায়ায় অপরাধে উৎসাহিত করা মানেই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করা।
এদের ভুয়া নেতা, সুযোগসন্ধানী সাংবাদিক, দলবদলু রাজনৈতিক দালাল, মিথ্যা মামলার মাস্টারমাইন্ডরাই আসল ষড়যন্ত্রী।
এক সময় এরা ছিল আওয়ামী লীগের হেডাম দেখানো দালাল, এখন হয়ে উঠেছে জামাত-বিএনপি নামধারী প্রতারক। উদ্দেশ্য একটাই— রাষ্ট্রকে দুর্বল করা, বিপ্লবকে দমন করা।
ড. ইউনুসের সাথে ছবি তুলে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করে, তারা আগে ভূমিমন্ত্রীর সাথে আঁতাত করেছে— আজ তারা আবার নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে।
নকল আদর্শ, লুটেরা বাবাদের সিন্দুক ভরা টাকা আর বিদেশি প্রভুদের ইশারায় পরিচালিত এই মহাচক্রান্তের তদন্ত আজ সময়ের দাবি।
আজ দরকার গণজাগরণ
শুধু কথায় নয়, অপরাধীদের তালিকা করে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র যখন অসহায় হয়, তখন জনতার সম্মিলিত দায়িত্বের কোনো বিকল্প নেই।
রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের আহ্বান আজো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে—
"মজলুমের বিজয় সুনিশ্চিত। জালেমের পতন হবেই ইনশাআল্লাহ।"
মিজানুর রহমান চৌধুরী : বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করে জিয়ার স্লোগান দিয়ে যারা জাতীয়তাবাদী সেজেছে, তারা আওয়ামী ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবà...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : ক্ষমতার বাহাদুরি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। যারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ভীতু ও হতাশà...বিস্তারিত
মিজানুর রহমান চৌধুরী : পদবী লোভী লুটেরা দালালদের এ মুহুর্তে থামিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেনি এরকম পদলোভী লুটেরà¦...বিস্তারিত
সম্পাদকীয় ডেস্ক :: : চট্টগ্রাম নগরীতে ওয়াসা ৮শ’ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরের ৮০ হাজার গ্রাহকের কাছে &l...বিস্তারিত
আলাউদ্দীন বেলাল : ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক জোটà§...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited