শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৭:০৭ পিএম, ২০২৫-০৪-১৯
একসময় ‘সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশনে’ (ট্রুথ কমিশন) গিয়ে অক্সিজেন-কাপ্তাই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির দায় স্বীকার করা প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এখন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলীর (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি অনিয়মের দায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে দায়মুক্তি পান। আজ সেই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ প্রকৌশল পদে আসীন - যা প্রশাসনিক নীতিমালা, নৈতিকতা এবং জনসচেতনতার প্রশ্নে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ট্রুথ কমিশনে দোষ স্বীকার, এরপরও পদোন্নতির ধারা
২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গঠিত ট্রুথ কমিশনের সামনে কাজী হাসান স্বীকার করেন, অক্সিজেন-কাপ্তাই সড়ক প্রকল্পে তিনি অনিয়মে জড়িত ছিলেন। কমিশনের নিয়ম অনুসারে তিনি লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দায় স্বীকার করে তিন লাখ টাকা জমা দেন। যদিও কমিশন তাকে আইনি দায়মুক্তি দেয়, সেই ‘ক্ষমা’ তাকে প্রশাসনিকভাবে শুদ্ধ প্রমাণ করে না এমনটি বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাতা, দুদকের তদন্ত
কাজী হাসান বর্তমানে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলীর পাশাপাশি আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাসে ২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে - যা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ১৬ গুণ বেশি। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত পরিচালনা করে। যদিও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি, তবে অভিযোগটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে বড় ইঙ্গিত বহন করে।
একযোগে একাধিক পদ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ তিনিই সিডিএ-তে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-১ এবং প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত)। একজন ব্যক্তি এতো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে বহাল থাকায় সিডিএর অভ্যন্তরে প্রশাসনিক ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এতে করে পরিকল্পনা গ্রহণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে একক কর্তৃত্ব তৈরি হয়েছ - যা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
রিং রোড প্রকল্পে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি
২০১৭ সালে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প এখনও শেষ হয়নি। সময় ও বাজেট বারবার বাড়ানোর পরেও বাস্তব অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে প্রকল্পে নতুন করে সময় ও বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয় বৃদ্ধি জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
জনমনে ক্ষোভ: দুর্নীতিবাজের পুরস্কার!
নগর উন্নয়ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন, “দুর্নীতির দায় স্বীকার করা ব্যক্তি কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন?” তারা বলছেন, এটা হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুধুই কথার কথা থেকে যায়। একজন স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ পদোন্নতি পেলে অন্যরা কী বার্তা পাবে—এই প্রশ্নও উঠছে।
বিশ্লেষকদের মত: প্রশাসনিক সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ দরকার
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যারা একবার দুর্নীতির দায় স্বীকার করেছেন, তাদের সীমিত প্রশাসনিক ভূমিকা রাখা উচিত, যাতে নীতিনৈতিকতার বার্তা স্পষ্ট থাকে। নতুবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited