শিরোনাম
আব্দুল আলীম নোবেল, কক্সবাজার | ০৮:৩১ পিএম, ২০২৪-১০-২০
বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে শত কোটি টাকার অধিপতির তালিকায় নাম না থাকলেও ঙ্গাত আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদের মালিক কক্সবাজার সিভিল সার্জন দপ্তরের প্রধান সহকারী রফিকুল ইসলাম স্হাবর অস্থাবর সম্পত্তি গোগন রাখতে নানা কূটকৌশলেরও আশ্রয় নিয়ছে।
অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের এই মধ্য মণি ভূয়া শিক্ষা সনদে চাকরির বয়স পূর্ণের আগে ভাগেই স্বেচ্চাবসরে যেতে আবেদন করে রেখেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।
এদিকে কর্মস্হলে নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎকারীর এরূপ তৎপরতায় তার বিরুদ্ধে আনীত নানা অভিযোগের তদন্ত নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ। বিশেষ করে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব আদৌ সরকারের কোষাগারে জমা পড়বে কি না তাতেও রয়েছে সংশয়।ইতিমধ্যে তার কৃত কর্মকাণ্ডের বিভাগীয় ব্যবস্হা গ্রহণে সরকারের প্রায় ১৬ টি আইনি শাখায় অভিযোগের স্তুপও জমা হয়েছে।
তিনি চাকরি শর্ত ভঙ্গ সহ জালিয়াতির আশ্রয়ে ভূয়া সনদে চাকরি ভাগিয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও অবৈধভাবে বিদেশি সাহায্য পুষ্টি সংস্থার কো-অর্ডিনেটর বনে যান।জেলার হাসপাতাল গুলোতে মা ও নব জাতক শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে স্যাম প্রকল্পেরও স্বঘোষিত রাজা তিনি।
এ প্রকল্পের চার কিস্তিতে ২০ কোটি টাকার সিংহ ভাগই নয় ছয়ে জড়িত রফিকুল ২০১৯ সাল থেকে এ প্রকল্পের বরাদ্দে অনিয়ম করছেন।
ধুরন্ধর রফিকুল প্রকল্পের ব্যাংক হিসাবেও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।সিভিল সার্জনের নামে এ প্রকল্পের রক্ষিত ব্যাংক হিসাব, নিজের একাউন্টে স্হানান্তরের ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব কর্মে শুধু তার নিজস্ব একাউন্ট নয়,সদর হাসপাতালে পরিদর্শক পদে কর্মরত তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, শ্যালক বাবুল,শালীকা শিরিন আক্তার মুন্নি,ভায়রা আরিফিন রুমি ও জাকির হোসেন, ভাগ্নে মুফিজুর রহমান মুফিজ,ভাতিজা রাহাত মনির,ভাগ্নী জামাই মিজানুল হক মিজুমের ব্যাংক একাউন্টও ব্যবহার করছেন রফিকুল।
তার এ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে তার ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের সমুদয় টাকা তড়িঘড়ি সরিয়ে এসব হিসাব বন্ধ করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র স্হানান্তর করে তিনি এখন অবসরের সুযোগ খুঁজছেন এমন গুনজন অফিস পাড়ায়।
গর্ভবর্তী মা ও নব জাতকের পুষ্টির নানা পথ্য সামগ্রী সিভিল সার্জনের ষ্টোর কক্ষে লিপিবদ্ধের পর বিলি বন্টনের নিয়ম থাকলেও তিনি এসব বিধি জলাঞ্জলি দিয়ে মূল ষ্টোর কিপারকে পাশ কাটিয়ে নিজের সৃষ্ট এ পদে ভাগ্নি জামাই নিঝুমকে বিকল্প ষ্টোর কিপার নিযুক্ত করেছেন। আর সেই নিঝুমই প্রকল্পের মজুদকৃত ঔষধ নয় ছয় করছেন।স্টক লেজার জব্দ করলে বিষয়টির নির্জলা সত্য উদঘাটিত হবে।
এ প্রকল্পের বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থিত ডাক্তার, পার্টিসিপেন্ট অংশীজনদের সম্মানী দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রকল্পের সমন্বয়ক রফিকুল তাদের স্বাক্ষর আদায় করেই দায় সারেন।তিনি তাদের প্রাপ্য সস্মানী না দিয়ে দিচ্ছি দিব বলে কালক্ষেপণ করেন।
স্বেচ্ছাচারী রফিকুল সরকারি দপ্তরের পরিত্যক্ত গাড়ি মেরামতের নামে সিভিল সার্জনের বাসভবন থেকে বের করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।বিক্রিকৃত এ ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটির কানাকড়িও সরকারি হিসাবে লিপিবদ্ধ না করে পুরো টাকাই হজম করেছেন।তিনি অফিসের কাজ দেখিয়ে মিথ্যা আদেশে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ টি টিএ বিল উত্তোলন করে সমুদয় টাকাও লোপাট করেছেন। একইভাবে অফিস পরিচ্ছন্নতার অযুহাত দেখিয়ে প্রতিবছর দেড় থেকে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদেও বিশাল অংক হাতাচ্ছেন তিনি। নয় থেকে দশ রকম পরীক্ষা বিনা ফি,তে দেয়ার বিধান থাকলেও তিনি দু-একটি টেষ্ট করিয়ে বাকীগুলো না করার শর্তে প্রতিজনের কাছথেকে ১ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য করছেন। প্রতিবছর হাজার হাজার কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদেও এমন ঘাপলার আশ্রয় নিচ্ছেন তিনি।স্যাম প্রকল্পে এ রকম বহু বিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড তার অর্থ আত্মসাৎতের নিয়ামক। এসব প্রকল্প গুলো বর্তমান ও পূর্বের প্রতিবেদন ও হিসাব সম্পর্কিত নথিপত্র তদন্তের দাবী তুলছেন অনেকেই।
শুধুই তাই নয়, রফিকুল ও তার স্ত্রী চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ব্যাংকে রক্ষিত হিসাব থেকে প্রাপ্য বেতনের কোন টাকাই উত্তোলন না করেও যুগের পর যুগ এ দম্পতির রাজকীয় কায়দায় দিনাতিপাতে প্রশ্ন উঠেছে তারা কী আলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন?
সরকারি দপ্তরে এমন অনিয়ম দূর্নীতির কুশীলব সেজে রফিকুল গড়েছেন অর্থ বিত্তের সাম্রাজ্য।ঙ্গাত আয় বহিভূর্ত তার এসব সম্পদ দেশের রথি-মহারথি অনেক দূর্নীতিবাজদেরকেও হার মানিয়েছে।সরকার পতনের পর সরকারের জারি করা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর স্হাবর অস্হাবর সম্পদের হিসাব দেয়ার ঘোষিত আদেশ রফিকুল পালন করেছেন কী না তা নিয়ে অফিস পাড়ায় রয়েছে নানা কানাঘুষা।তিনি বিপুল সম্পদের হিসাবে গরমিল দেখাবেন ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
তবে এ তালিকার অনেকেই এখন জেল হাজত কিংবা দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের জালে ধরা পড়লেও রফিকুল রয়েছে ধরাছৌঁয়ার বাইরে।কি নেই রফিকুলের?চাকরিস্হল কক্সবাজারের কলাতলীর আর্দশগ্রামে কউকের নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পে ১২ শ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে তার।৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা বাজার মূল্য এটির।কিস্তিতে এ ফ্লাটের ক্রয়মূল্য পরিশোধ করে আসছেন তিনি।ঐ আবাসনের ফ্লাট কোড ১/১১/এফ এর অনুকুলে নগদায়ন করা আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক এ প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত। রফিকুলের নামে সৃজনকৃত একাউন্ট থেকে প্রেরিত চেকটিতে ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা আবাসনটির ব্যবস্হাপনাকারী (কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)অনুকূলে এ টাকা দেয়া হয়েছে। ঐ চেকে তারিখ হিসাবে ২৭/০৬/২৪ ইং উল্লেখ রয়েছে।
এছারাও শহরের বাদশা ঘোনায় ৮০ লাখ থেকে ১কোটি ২০ লাখ টাকা বাজার মূল্যের ১০ শতক জমির মালিকও রফিকুল। ফ্ল্যাট কেনায় মশগুল রফিকুল কলাতলী ডলফিন মোড়ের কলাতলী সমিতির নির্মাণাধীন ৯ শ বর্গফুটের ২টি ফ্ল্যাটও ক্রয় করেছেন ।যার বাজার মূল্যও একই। ১২ নং ওয়ার্ডভূক্ত দক্ষিণ কলাতলীর বসবাসকৃত আবদুর রহমান বিল্ডিংয়ের ৯ শ বর্গফুটের এ ফ্ল্যাটটিরও বাজার মূল্য ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা।তিনি সৈকত কিন্ডারগার্টেন স্কুলেরও শেয়ার হোল্ডার। ২ টি শেয়ারে ৫ লক্ষ টাকা করে রয়েছে তার।স্বনামে বেনামে ২টি গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি। নোহা মডেলের ২ টি গাড়ির একটি নং চট্র মেট্রো চ-১১৭৭৪০ ও অপরটি একই সিরিয়ালের নং ১১৭৯২৬।
রফিকুল ইসলামের কাছথেকে এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দেন। বলেন, তার কাছে সুবিধা আদায়ে বঞ্চিত কিছু কর্মচারী এমন ষড়যন্ত্র করছেন।কিস্তিতে কউককে ফ্লাটের টাকা পরিশোধের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited