শিরোনাম
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম | ০৯:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৭-১৩
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ) দীর্ঘদিন ধরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী চক্র নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার দায় আড়াল করতে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে টার্গেট করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে চলা নানা অনিয়মের দায় এড়াতে এবং নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এমন এক অপপ্রচার ও যাচাইহীন সংবাদের শিকার হয়েছেন সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান - এমনটাই দাবি তাঁর।
সম্প্রতি তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর এবং একপাক্ষিক বলে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুটি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তার বিরুদ্ধে স্পেশাল মামলা নং-৪১/২০১২ ও ৪৩/২০১২ দায়ের করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে তিনি মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময়ে তিনি কেবল দুটি প্রথম চলমান (১ম রানিং) বিলে স্বাক্ষর করেন, যার আগে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং তা পূর্ববর্তী প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হয়েছিল। প্রকল্পটি ছিল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাইট পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন এবং বিদ্যমান নথিপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বিলের কার্যক্রম অগ্রসর করেন।
এ বিষয়ে তিনি তার নোটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, ২০০৮ সালের ৮ জুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সাইট পরিদর্শনে কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পূর্ববর্তী সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে ঠিকাদারের আবেদনকৃত প্রথম চলমান বিল পরিশোধের বিষয়টি অগ্রসর করা হয়।
তিনি জানান, স্পেশাল মামলা নং-৪১/২০১২-এর প্রথম রানিং বিলের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৭ টাকা। ওই বিলে ৫২ হাজার ৫৭৫ টাকা ৬০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অপরদিকে স্পেশাল মামলা নং-৪৩/২০১২-এর প্রথম রানিং বিলের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৪ টাকা, যেখানে ৬৪ হাজার ৪৪১ টাকা ৭০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগে ঠিকাদারসহ চউকের চার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তবে মামলার ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তার দাবি, দুদক পুনঃপরিমাপের সময় কার্পেটিংয়ের নিচে থাকা সাব-বেজ (Sub Base) ও সাব-গ্রেড (Sub Grade) কীভাবে পরিমাপ করে ঘাটতি নির্ধারণ করেছে, তা তার প্রকৌশলগত জ্ঞানে বোধগম্য নয়। তিনি মনে করেন, তদন্ত প্রক্রিয়াতেই গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পটি বিএনপি সরকারের আমলে বাস্তবায়িত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে একাধিকবার আবেদন করেও তিনি ন্যায্য শুনানির সুযোগ পাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশাবাদী।
একই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুদক মোট ২২টি মামলা দায়ের করেছিল। এসব মামলার সঙ্গে জড়িত একাধিক প্রকৌশলী বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাকে বেছে নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
বিষয়টি আদালতে গেলে মহামান্য হাইকোর্ট তার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থিতাবস্থা আদেশ প্রদান করেন। যা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক পর্যায়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত বহন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, কিছু নামধারী সাংবাদিক ও স্বার্থান্বেষী মহল প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই কারো লিখে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করছে। এসব প্রতিবেদনে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপটও উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রকৌশলী হাসান বলেন, ‘আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিচারাধীন একটি বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই আমাকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনৈতিক ও দুঃখজনক।’
তিনি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালতে চলমান মামলাগুলোর মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং তিনি ন্যায়বিচার লাভ করবেন।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্à...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি: : আগামী ১ নভেম্বর পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭ সালের ১৫ মà¦...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : সাজেকের সংকট কি কেবল পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই!...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : বান্দরবানের বাকিছড়া নতুন পাড়াবাসীদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বালাঘাটা এল...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited