শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৮:০০ পিএম, ২০২৬-০৭-১১
খন্দকার বেলায়েত হোসেন
একটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পুনর্বাসন উদ্যোগ, যেখানে বিনিয়োগকারীকে একই সঙ্গে আর্থিক, পরিচালনাগত, বাজারগত, আইনগত এবং মানবসম্পদ সংক্রান্ত বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কারখানা স্থাপনের চেয়েও একটি বন্ধ কারখানাকে পুনরায় সচল করা অধিক কঠিন।
প্রথমত, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানার যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, গ্যাস, পানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামো সচল করতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োেগ প্রয়োজন হয়। অনেক যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপন ছাড়া উৎপাদনের উপযোগী থাকে না।
দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শুরু করার আগেই কাঁচামাল সংগ্রহ, দক্ষ জনবল নিয়োগ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি বিল এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত কার্যকর মূলধন নিশ্চিত করতে হয়। অথচ উৎপাদন শুরু হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়মূল্য হাতে আসে না। অনেক সময় কয়েক মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র নিজস্ব অর্থের ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়।
তৃতীয়ত, বাজার ও ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানার প্রতি ক্রেতাদের স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনাস্থা থাকে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ধারাবাহিক উৎপাদনের মাধ্যমে সেই আস্থা আবার অর্জন করতে হয়।
চতুর্থত, পূর্ববর্তী ঋণ, ব্যাংকের দায়, সরবরাহকারীর পাওনা, শ্রমিকদের বকেয়া, কর সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় নতুন উদ্যোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি এমন সমস্যার সমাধান করেন, যা তাঁর সৃষ্টি নয়।
পঞ্চমত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয়, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ব্যবসার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তৈরি পোশাক শিল্পে এসব ঝুঁকির প্রভাব বিশেষভাবে গভীর।
বাস্তবতা হলো, একটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণকারী ব্যক্তি শুধু নিজের অর্থ বিনিয়োগ করেন না। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ান, সরকারের রাজস্ব আয়ে অবদান রাখেন এবং দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আর্থিক ও ব্যবসায়িক ঝুঁকিও তাকেই বহন করতে হয়।
তাই বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগকে শুধু একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কর্মসংস্থান রক্ষা, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের ঝুঁকি গ্রহণকারীদের বাস্তবসম্মত নীতিগত সহায়তা, ব্যাংকিং সহযোগিতা, পুনঃতফসিল সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা সময়ের দাবি।
উপসংহার
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা সহজ নয়। এটি সাহস, দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত মূলধন এবং অসাধারণ ধৈর্যের পরীক্ষা। সফল হলে একটি প্রতিষ্ঠানই শুধু বাঁচে না, বাঁচে শত শত শ্রমিকের পরিবার, পুনরুদ্ধার হয় ব্যাংকের অর্থ, উপকৃত হয় সরকার এবং সমৃদ্ধ হয় দেশের অর্থনীতি। আর ব্যর্থ হলে সর্বাধিক ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয় সেই ঝুঁকি গ্রহণকারী উদ্যোক্তাকেই। তাই এ ধরনের উদ্যোগকে যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্র, ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যৌথ দায়িত্ব।
লেখক: প্রাক্তন পরিচালক, বিজিএমইএ।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited