শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৬:৩৭ পিএম, ২০২৬-০৬-৩০
কাজী হুমায়ুন কবির :
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্ল্যানিং ও অথোরাইজেশন শাখায় এলইউসি ও নকসা অনুমোদনে অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে দায় কার এনিয়ে নগরের সেবা গ্রহিতা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠে কোন্ আবদার বা লেনদেনের কারনে অনেক আপন হয়ে যায় সিডিএর দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও ইমারত বা ভবন নির্মানকারীর পারস্পরিক সম্পর্ক। যার ফলে ইমারত নির্মানকারীরা এলইউসি পাওয়ার পর নকশা অনুমোদনের পূর্বেই ভবন নির্মাণ করার সাহস দেখায়। কেন পরিদশর্করা সাইট ভিজিট করার পরও পক্ষ রিপোর্ট দিয়ে প্ল্যান বা নকসা অনুমোদন করায়? অনুমোদনের পর যখন কোন গণমাধ্যমে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হয় তখন নানা সমস্যা বা বাহানা ধরে নির্মানকারীর নকসা বা প্ল্যান বাতিল করা হয়। যেন কিছুই জানেননা তারা, এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিতে গেলে মনে হয়, ইহজগতে সদ্য ভুমিষ্ট হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব ফাইল অনুমোদন অনিয়মে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্ল্যানিং শাখার এটিপি, টিপি, পরিদর্শক, সহকারী অথরাইজ অফিসার, অথোরাইজ অফিসার, বিশেষ প্রকল্পে থাকা কর্মকর্তারা কি দায়ী নয়? নাকী ওরা বিচারের বাইরে। তাহলে এসব অনিয়মের দায় কে নিবে। অনিয়ম আর দুর্নীতিতে কস্ট পায় গ্রাহক, ঝুকিতে থাকে নির্মিত ভবন ও নাগরিকরা । অনৈতিক অর্থ লেনদেনে ভবন নির্মানকারীদের মধ্যে আইন না মানার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। অনুমোদনের পূর্বেই নির্মানকারীর অনেকে ভবন নির্মাণ করার সাহস দেখায় কোন আন্তরিকতায়। শত অনিয়ম করেও পাড় পেয়ে যায় আর্থিক অনৈতিক সুবিধা নেয়া বহাল তবিয়তে থাকা দূর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা। এমন অনিয়মের কিছু ফাইলের তথ্য উঠে আসছে প্রতিবেদকের হাতে। আর এসব অনিয়ম ফাইলগুলোর মাঠপর্যায়ের চিত্র নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন।
জানা যায়,সম্প্রতি কাতালগঞ্জ এলাকায় ২২০/২৪ ফাইলটির নকশা অনুমোদন দেন অথোরাইজ শাখা। এই ফাইলটি অনুমোদনের পূর্বেই চারতলা পর্যন্ত ভবন নির্মান করার অভিযোগ উঠে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে । নির্মিত ভবনে সেট ব্যাক রাখা হয়নি। সেটব্যাকের ভিতরে কলামের অবস্থান । সিডিএ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসব অনিয়ম দেখেও জরিমানা ও ভাঙ্গার শর্তে ফাইলটির নকশা অনুমোদন দিয়ে দেন। জানা যায়, সিডিএ বিধি অনুযায়ী এই নকশা অনুমোদন দিতে পারেন না। সরেজমিনে দেখা যায়, ইমারত নির্মানকারীরা বর্তমানে সিডিএর বিধি না মেনে সেটবেক না ভেঙ্গেই কলাম সেটবেকে রেখে ইমারত নির্মান করে যাচ্ছেন।
দুদুকে ইমারত নির্মান কারীর অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সৈয়দ শাহ রোডে ফাইল নং ২৭৭/২৪, ১৩ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দিলেও যথাসময়ে ডেলিভারী দেয়নি, পরে নকসাটি নির্মানকারীর দোষ ধরে বাতিল করা হয়েছে। নির্মানকারীর অভিযোগে এই ফাইলটির অনিয়মে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুদুক। যদিও সেসময়ের অথোরাইজ অফিসার মোহাম্মদ হাসান বলেন, আমার কাছে আসার একদিন পর আমি স্বাক্ষর করে ফাইলটি ছেড়ে দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে দুদুকে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে। ফাইল বিলম্বে আমার কোন অনিয়ম ছিলনা। তাছাড়া পরিদর্শক ও সহকারী অথোরাইজ অফিসাররা ফাইলটির বিপক্ষে রিপোর্ট দিলে আমিতো পাশ করাতে পারিনা। তাহলে কেন ফাইলটি অনুমোদন হয়ে বাতিল হল? এনিয়ে তৈরী হয়েছে নানা প্রশ্ন। নকশা অনুমোদনের আগেই যদি ভবন নির্মাণকারী ভবন নির্মান করে তবে নকশা পাশ হওয়ার পূর্বেই কি সহকারী অথোরাইজ অফিসার ইলিয়াছ আকতার ও ইমারত পরিদর্শক আব্দুর রশিদ কি জানতেন না। তারা যদি পরিদর্শন না করে রিপোর্ট লিখে তবে তাদের চাকুরিটা কোন দায়িত্বে পড়ে। এনিয়ে দুদুকে এই ফাইলটাতে ঘটা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেছে খোদ ইমারত নির্মানকারী। ইমারতকারী সুত্রে জানা যায়, এই ফাইলটি তদ্বিরে ছিলেন প্ল্যানিং শাখার একজন এসিট্যান্ট টাউন প্ল্যানার।
জানা যায়, হেমসেন লেন এলাকায় ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দিলেও গ্রাহকের অনেক টাকা ক্ষতি করে পরে এলইউসি ও নকশা বাতিল করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, নগরীর আসকারদিগী এলাকায় ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল সিডিএ তিনটি বেজমেন্ট (পার্কিং) ও ১৪ তলা আবাসিকসহ মোট ১৭ তলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছিল ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান স্বপ্নীল ফ্যামিলি ওনার্সকে। অথচ ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এবং ২০১০ সালের সংশোধিত আইন অনুসারে জায়গাটি ছিল পাহাড়। আর এই আইন অনুসারে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই মোহাম্মদ ইলিয়াস ওই ভবনের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন দেন, যার নির্মাণ অনুমোদন নম্বর ২৫.৪৭.১৫০০.০৭৩.৪৩.১৭০.২৩। ড্যাপের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা নীতিমালা উপেক্ষা করে দেওয়া এই অনুমোদনকে সংশ্লিষ্টরা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবশেষে পাহাড়কাটাসহ নানা অনিয়মের ফলে নির্মিত ভবন ভেঙে ঘুরিয়ে দিতে হয়ছিল।
বাকলিয়ায় এলিট পার্ক, আইডিয়াল পার্ক, এভারগ্রীন হাইটস, ইসলামী ব্যাংকগ্রুপের ভবন নির্মানের নকশা অনুমোদন দিয়েছে সিডিএ। এখানেও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। নিয়মের তোয়াক্কা, সরু রাস্তা, সেটব্যাক না রাখা, সিডিএ আইন না মানাসহ অনেক অভিযোগ উঠে আসে এই ফাইলগুলোতে। এসব পাশ হওয়া ফাইলের অনিয়মের বিষয়ে ইমারত পরিদর্শক ও সহকারী অথোরাইজ অফিসার ও অথোরাইজ অফিসার জানতেননা।
চউক সূত্রে জানা গেছে, আগ্রাবাদ বাদামতলী দাল্লা মেডিকেলের পেছনে অবস্থিত ‘মুনতাসির বিল্ডিং লিমিটেড’-এর ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রবেশপথ বা নিজস্ব রাস্তা না থাকা সত্ত্বেও ভবনটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন জমিকে ব্যক্তিমালিকানা দেখিয়ে এবং কোনো অনাপত্তি ছাড়াই ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর এই অনুমোদন দেওয়া হয়, যার নথি নম্বর ২৫.৪৭.১৫.০৭৩.৪৩.১৯১.২৩।
অভিযোগ রয়েছে নগরের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার বিসি কেইস নম্বর ৭২২/২০২০–২০২১ ঘিরে, যেখানে সরকারি জমিকে ব্যক্তিমালিকানা দাবি করে নকশা অনুমোদনের আবেদন করা হয়। নুরুল মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির আবেদনের বিষয়ে তৎকালীন ইমারত পরিদর্শক স্বপন কুমার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়ে খতিয়ান (নং ৬০৭৬, বিএস দাগ নং ১২৭২০) এসি (ল্যান্ড) অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুপারিশ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইলিয়াস ক্ষমতার অপব্যবহার করে আরেকটি জাল বিএস খতিয়ান (খতিয়ান নং ১৪৭৯/১,বিএস দাগ নং ৬৮৪৩ ও ৬৮৪৪) প্রস্তুত করিয়ে নকশা অনুমোদন করেন।
এ নিয়ে এটিপি, পরিদর্শক, সহকারী অথোরাইজ, অথোরাইজ অফিসারদের প্রশ্ন করা হলে তারা যেন ধোয়া তুলশী পাতা। এসব অনিয়মের বিষয়ে তারা কিছুই জানেননা, কোন অনিয়মের সাথে তারা জড়িত নাই। তাহলে প্রশ্ন উঠে এসব ভবনের প্ল্যান ও নকশা পাশের পিছনে দায় কার? কিন্তু ইমারত নির্মানকারী সুত্রে উঠে আসে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও দীর্ঘদিনের হয়রানির চিত্র। প্ল্যান ও নকশা অনুমোদনে কতযে হয়রানি যা লক্ষ কোটি অর্থদিয়ে পাশ করাতে হয়। সেবা গ্রহিতাদের সিডিএ কর্মকর্তা কতৃক হয়রানি জানতে চোখ রাখুন ধারাবাহিক প্রতিবেদনে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : কে এম আলী হাসান : মহিলাদের নিজ এলাকা বা সুবিধাজনক স্থান থেকে দূরে বা বাহিরে বদলি(Transfer) করলে ব্যক্তà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ দুইজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোà¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : গরমে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট তীব্র আকার ধারণ কর...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : কে এম আলী হাসান ধূমপান একটি সামাজিক ব্যাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যত লোক মারা গেছে, ঠিক সেই একà...বিস্তারিত
রিপোর্টার : ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে জনজীবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য ও গৃহস্থালি খাতে à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : "ঐতিহ্যের সাথে উন্নয়নের পথে" স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগর তথা বায়েজিদ বোস্তামী থাà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited