শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৫-০৯
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় আইসিইউ’র সামনে ফ্লোরে বসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সাবেরা বেগম। কাঁপা কণ্ঠে শুধু বলছিলেন, ‘হাইরে রেশমি, হাইরে রেশমি, আমার রেশমি কি বাঁচবে?’ তাঁকে ঘিরে ছিলেন স্বজনেরা।
কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ আবার নীরবে চোখ মুছছেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন ১১ বছরের রেশমি আকতার। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ বিহারী কলোনিতে দুর্বৃত্তদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি।
এই ঘটনায় নিহত হন হাসান রাজু (৩২) নামের এক যুবক।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রেশমিকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় তাকে নগরের প্রবর্তক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার ব্যয় সামাল দিতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমদ প্রতিবন্ধী। রৌফাবাদ কলোনির সামনে শাক বিক্রি করে সাত সদস্যের সংসার চালান তিনি। পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমিই সবার ছোট। স্থানীয় ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সেদিন রেশমিকে দোকানে পাঠিয়েছিলেন তার মা। বাসায় ফেরার পথে কলোনির গলিতে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায় শিশুটি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গুলি তার চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে গেছে। এতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
আইসিইউ’র সামনে কথা হয় রেশমির মেঝ ভাই মো. ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের সবার আদরের ছোট বোন রেশমির অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চোখ দিয়ে গুলি ঢুকে মগজে আঘাত করেছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে, ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছে না। বোনের চেহারার দিকে তাকানোর মতো অবস্থাও নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার চঞ্চল বোনটার কোনো নড়াচড়া নেই। মাথার একপাশে ব্যান্ডেজ। ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারছে না। এসব ঘটনার বিচার হবে কি না জানি না, তাই বিচারও চাই না। শুধু চাই, আল্লাহ যেন আমার বোনকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন’।
রেশমির খালু মনসুর আলম বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে সিট না পেয়ে রেশমিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় ৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। রেশমির বাবা প্রতিবন্ধী, শাক বিক্রি করে পরিবার চালান। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চিকিৎসার খরচ চালানো হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন রেশমির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করা হোক।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রেশমির মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ধরনের রোগীর অবস্থা নির্ণয় করা জটিল। তবে তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited