শিরোনাম
রাউজান প্রতিনিধি : | ০৬:৩১ পিএম, ২০২৬-০৫-০৫
নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান :
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রজনন মৌসুম শুরু হলেই সংস্কার, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের তোড়জোড় শুরু হয় মৎস্য বিভাগের। বছরের বাকী সময় অযত্ন -অবহেলায় পড়ে থাকা সরকারি হ্যাচারিগুলো দেখভাল করার জন্য জনবল না থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হওয়া ছাড়াও ডিম পরিস্ফুটনের একমাত্র ভরসা হ্যাচারিগুলোতে বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় নদীতে রুই জাতীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডলফিন সংরক্ষণ এবং অবৈধ মৎস্য শিকার রোধ করাসহ দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণে মৎস্য অধিদপ্তরের ৪৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে দীর্ঘদিনের হতাশা ভুলে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে হালদা নদীর উভর নির্ভরশীল হালদা পাড়ের রাউজান ও হাটহাজারী অংশের পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী।
প্রকল্পের আওতায় হালদা নদীর চট্টগ্রামের রাউজান অংশে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কাগতিয়া হ্যাচারি, মোবারেকখীল হ্যাচারি ও পশ্চিম গহিরা বড়ুয়াপাড়া হ্যাচারি এবং হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট বড়ুয়াপাড়া হ্যাচারি, শাহ মাদারি হ্যাচারি ও মাছুয়কঘোনা হ্যাচারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে হাটহাজারীর ৩টি হ্যাচারি ও রাউজানের মোবারকখীল হ্যাচারির কাজ অনেকটা সম্পন্ন হয়।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে রাউজানের পশ্চিম গহিরা বড়ুয়াপাড়া হ্যাচারি ও কাগতিয়া হ্যাচারির কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদারদের গাফিলতি আর কাজে ধীরগতির কারনে প্রজনন মৌসুমে এই দুইটি হ্যাচারি ডিম আহরণকারীদের কোনো কাজেই আসেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন জানান, হ্যাচারিতে যেসব ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছে। এখানে যারাই তদারকি করার কথা তাদের এলাকায় দেখা মেলে কালেভদ্রে! রাউজান অংশের তিনটির মধ্যে দুটি হ্যাচারির কাজে ধীরগতিতে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী। তিনটির মধ্যে একমাত্র সচল মোবারকখীল হ্যাচারির জেনেরেটর অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ডিম পরিস্ফুটনে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে তিনটি সরকারি হ্যাচারি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা গেলে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত নিষিক্ত ডিম পরিস্ফুটনে ডিম বিনষ্ট হওয়ার মাত্রা রোধ করা যেত।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মিঠাপানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে গত বৃহস্পতিবার দুই দফায় ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ২৫০ শতাধিক নৌকাযোগে ৫ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারীরা ৬ হাজার কেজি কার্পজাতীয় মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করেন।
সংগৃহিত নিষিদ্ধ ডিম পরিস্ফুটন করতে রাউজান অংশে একমাত্র সচল হ্যাচারি গহিরা মোবারকখীল হ্যাচারির পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফের হ্যাচারিতে নিয়ে যান। কিন্তু কুয়া সংকুলান না হওয়ায় অনেকে ডিম সংগ্রহকারীকে ব্যক্তিগত পাকা কুয়ার পাশাপাশি মান্ধাতা আমলের মাটির কুয়ায় ডিম পরিস্ফুটন করতে হচ্ছে। এতে করে ডিম পরিস্ফুটনের সময় বেশিরভাগ ডিম নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীদের মতে, রাউজান অংশে হালদা প্রকল্পের অধীনে সরকারি দুটি হ্যাচারিতে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে সরকারি হ্যাচারির সুফল থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে রাউজান উপজেলার কয়েক শতাধিক ডিম সংগ্রহকারীকে।
সরেজমিনে একমাত্র সচল সরকারি হ্যাচারি মোবারকখীলে গিয়ে দেখা গেছে, ডিম পরিস্ফুটনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। বেশ কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারী সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাউজানের একমাত্র সচল হ্যাচারির জেনারেটরও অচল হয়ে আছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ডিম পরিস্ফুটনের জন্য অপরিহার্য পানি পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ডিম আহরনকারীদের।
এছাড়া পানি সরবরাহের জন্য রিজার্ভ ট্যাংকে লিকেজ সমস্যায় বিদ্যুৎ গেলেই পানি পাওয়া যায়না।
এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নির্মিত সিস্টেন ও সাকুর্লার কুয়ার শেইডের ফ্লোরের কাজ সম্পন্ন না করায় ফ্লোর থেকে বালি কুয়াগুলোতে পড়ছে। এতে ডিম ও রেণু বিনষ্ট হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম জানান, হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহকারীদের আহরিত নিষিক্ত ডিম পরিস্ফুটনে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক মনিটরিং চলছে। হ্যাচারিগুলোতে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। সেগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে ডিম সংগ্রহকারীরা শতভাগ সুফল পেতে শুরু করবেন।
তিনি আরো জানান, হালদার রেণুর একটা চাহিদা সারাদেশে রয়েছে। ইতিমধ্যে হ্যাচারিগুলোতে রেণু বিক্রি শুরু হয়েছে। হ্যাচারিগুলোতে এবং ব্যক্তিগত কুয়ায় পরিস্ফুটের মধ্য দিয়ে চলতি বছর ১৫২ কেজি রেণু হয়েছে। যদিওবা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।
আশা করা যাচ্ছে, এবার তুলনামূলক রেণু কম হওয়ার ডিম আহরণকারীরা ভালো দাম পাবেন। সোমবার দুপুর থেকেই হ্যাচারি থেকেই রেণু বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মজুদ সাপেক্ষে রেনু বিক্রি কার্যক্রম চলবে।
গতবছর প্রতি কেজি রেণু ১ লাখ ১০ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে হ্যাচারিগুলোতে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা কেজি দরে রেনু বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে হালদা নদীর রাউজান ও হাটহাজারী অংশের ৬টি সরকারি হ্যাচারি আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন হ্যাচারি নির্মাণ ও কুয়া বৃদ্ধির গুরুত্বারোপ করেন হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হালদা নিয়ে বর্তমানে ৪৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চলমান হ্যাচারিগুলোর সংস্কার, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীদের ভোগান্তি লাঘবে আরো নতুন হ্যাচারি নির্মাণ ও কুয়ার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
প্রবীণ ডিম সংগ্রহকারী ও সচেতন মহলের মতে, হালদা নদীকে ঘিরে চলমান প্রকল্পে গতি সঞ্চারে জোর দেওয়ার পাশাপাশি হ্যাচারিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নজরদারি বাড়াতে হবে।বাস্তবমূখী পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন করে হ্যাচারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে আগামীতে হালদার মা মাছের নিষিক্ত ডিম দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে হালদার মৎস্য সম্ভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বিষয়ে হালদা প্রকল্পের পরিচালক মোঃ নাজিম উদ্দীন জানান, হালদা প্রকল্পে হ্যাচারিগুলোর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ কাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হওয়া হ্যাচারিগুলোর সুফল কিন্তু ডিম আহরণকারীরা পাচ্ছেন। অবশিষ্ট যেগুলোর কাজ চলমান রয়েছে সেগুলোর কাজ শেষ হলে এই হ্যাচারিগুলো থেকে স্থানীয় ডিম আহরণকারীরা সুফল ভোগ করতে পারবেন।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited