শিরোনাম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : | ০৮:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৪-২৯
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার হর্টিকালচার সেন্টারের সামনে হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে চার পাশের ফসলি জমি। খেতে বোরো চাষ করেছিলেন চাষিরা। ধান পাকতেও শুরু করেছিল। এক সপ্তাহ পর ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে থাকে। আজ বুধবারও দিনভর টানা বৃষ্টি হওয়ায় বেড়েছে পানিও। ঢলের পানিতে পাকা ধানের খেত পানির নিচে চলে যেতে দেখে অনেক কৃষক আজ ভোরেই ধান কাটতে নেমে গেছেন। পানিতে অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তার মধ্যে যতটুকু পারেন, খেতের ফসল বাঁচাতে চেষ্টা করছিলেন কৃষকেরা।
আজ দুপুরে দীঘিনালার হর্টিকালচার সেন্টারের সামনে গেলে দেখা যায়, পানিতে ভেজা ধান কেটে আঁটি করে খেতের পাশে উঁচু জমিতে রাখছিলেন কৃষক মো. হানিফ। ফসলের কথা জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে বলতে কাঁস্তে হাতে পানিতে ডোবা জমির দিকে দেখান। বলেন, ‘২৫ হাজার টাকায় এক একর জমি বর্গা লইসি। নিজে দিন–রাত খাইটা চাষ করসি। ছোখের সামনে পাকা ধান ডুইব্যা গেল। অল্প কিছু ধান কাটতে পারসি। এখন না খাইয়া থাকতে হইব আমাগো।’
টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কেবল দীঘিনালা নয়, পুরো খাগড়াছড়ি জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দীঘিনালা, মাটিরাঙা ও মহালছড়ি উপজেলায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যমতে, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২২১ হেক্টর বোরো পাকা ধান, ৬৩ হেক্টর সবজি ও ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগান ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আম ঝরে পড়ায় আমচাষিরাও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
জেলার বোরো মৌসুমের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে পেকে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় হঠাৎ ভারী বর্ষণ ও ঢলের পানিতে অনেক খেত তলিয়ে গেছে। দীঘিনালার নিম্নাঞ্চলে বহু কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
মো. হানিফের মতোই খেতের ফসল ডুবে গেছে মো. মকবুল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘পাঁচ একর জমিতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান কাটার আগেই সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার এ ধানক্ষেত ছাড়া আর কোনো আয়রোজগার নেই। প্রতিবছর কিছু ধান বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাই। এখন কী খাব আর কীভাবে চলব, ভাবছি।’
কৃষক অনিমেষ চাকমা বলেন, ‘সাধারণত এপ্রিল মাসে কখনো পাহাড়ে এমন ঢল নামে না। এবারের বৃষ্টিতে সেটা হলো। রাতেরও আমরা ধারণা করিনি যে ফসল তলিয়ে যাবে। বৃষ্টিতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব ধান ডুবে গেছে। লোকও পাচ্ছি না পানির নিচ থেকে কাটার জন্য। এখন তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।’
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি বেশি হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩২৫ হেক্টর ফলবাগান, ১২৫ হেক্টর বোরো ধান ও ১৫ হেক্টর সবজিখেত ডুবে গেছে।
ঝরে গেছে বাগানের আম
প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে বয়ে গেছে কালবৈশাখী। ঝরে পড়েছে আম ও কাঁঠালের মতো ফল। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি গ্রামের আমচাষি মংশিতু চৌধুরী ৩৫ একর জমিতে আম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে এক দিনেই তাঁর বাগানের প্রায় দুই হাজার কেজি আম ঝরে পড়েছে। গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয় আরেক আমচাষি রাজু চাকমা বলেন, তাঁর ১২ একরের বাগানে আম্রপালি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম ছিল, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ আম ঝরে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে তা ঢাকায় পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : কে এম আলী হাসান : মহিলাদের নিজ এলাকা বা সুবিধাজনক স্থান থেকে দূরে বা বাহিরে বদলি(Transfer) করলে ব্যক্তà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ দুইজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোà¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : গরমে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট তীব্র আকার ধারণ কর...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : কে এম আলী হাসান ধূমপান একটি সামাজিক ব্যাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যত লোক মারা গেছে, ঠিক সেই একà...বিস্তারিত
রিপোর্টার : ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে জনজীবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য ও গৃহস্থালি খাতে à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : "ঐতিহ্যের সাথে উন্নয়নের পথে" স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগর তথা বায়েজিদ বোস্তামী থাà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited