শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৩৭ পিএম, ২০২৬-০৪-১৩
চৈত্র মাসকে বিদায় জানিয়ে বৈশাখ বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে সনাতন সম্প্রদায়। ফুলবিউতে হারগোজা (বিউ) ফুল আর নিমপাতার মালায় সাজানো হচ্ছে ঘর।
সনাতনী আচার মতে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফুল বিউতে বিউফুলের মালা গেঁথে নিমপাতাসহ ঘরের দরজার ওপরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। চর্মরোগের জন্য উপকারী নিমপাতা সংগ্রহে রাখা হয় দীর্ঘদিন।
এছাড়া গ্রামাঞ্চলে রোগ-জীবাণু নাশে পানিতে গোবর মিশিয়ে উঠোনে ছিটিয়ে দেওয়া হয়, ভাঁটফুল দিয়ে সাজানো হয় দরজা-জানালা। এসময়ে তিনদিন ভোর ও সন্ধ্যায় (পহেলা বৈশাখের ভোরবেলা পর্যন্ত) বুনো লতাগুল্ম পুড়িয়ে তার ধোঁয়া শরীরে লাগানো হয়, যার নাম ‘জাগ দেয়া’।
মঙলবার (১৪ এপ্রিল) মূল বিউতে রান্না করা হয় পাচন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এই পাচনকে বলা হয় ‘আডোরা’।
১৮টি মতান্তরে ১০৮টি সবজি দিয়ে তৈরি হয় এই খাবার। একসময় শুধু হিন্দু পরিবারগুলোতে পাচন রান্নার চল থাকলেও বর্তমানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের পরিবারেও রান্না করা হয় ঔষধি গুণসম্পন্ন বিশেষ এই তরকারি।
পাচনের সবজির মধ্যে রয়েছে- কাট্টইস, তারা, ডুমুর, কাঞ্জল (কলাগাছের ভেতরের কাণ্ড), সজনে ডাটা, ছোট বেগুন, কলার মোচা, কাঁচা কাঠাল, কাঁচা পেপে, কাঁচকলা, কুমড়া, পটল, করলা, চালকুমড়া, গিমা শাক, আলু, লাউ প্রভৃতি। হাজারি লেইনে সব মিলিয়ে এক কেজি সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা ও তদুর্ধ্ব দামে।
বিক্রেতারা জানান, চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে আনা হয় পাচনের এসব উপকরণ। হেমসেন লেইনের বাসিন্দা শ্রাবণী মিত্র বলেন, ‘নানান পদের সবজি দিয়ে তৈরি এই পাচন ঔষধি গুণসম্পন্ন। সারা বছর মাছ-মাংসের কারণে পাতে সবজিই ওঠে না অনেক পরিবারে। এই সময়টাতে অন্তত ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়, সবাইকে পাচন খেতে হয়’।
নগরের হাজারী লেইন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কর্ণফুলী মার্কেট, সিরাজদৌল্লা সড়ক, আসকার দিঘী সড়ক, বকশিরহাট, চকবাজার সহ অলি-গলিতে ভ্যান গাড়িতে এসব পাচনের উপকরণ বিক্রি করা হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখে ভোর হতেই স্নান সেরে নতুন কাপড় পরিধান করে ব্যবসায়ী ও দোকানিরা ব্যস্ত থাকেন হালখাতা খোলার কাজে। লক্ষ্মী ও গণেশের পূজার্চনা শেষে হলুদ আর সিঁদুরমাখা মুদ্রার ছাপ দেওয়া হয় লাল শালুতে মুড়িয়ে রাখা নতুন হালখাতার প্রথম পৃষ্ঠায়। ‘ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ কিংবা স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা এই হিসেবের খাতাটাই নতুন বছরের আয় ও সমৃদ্ধির প্রতিভূ। ফুল, কলাগাছ, আম্রপল্লব দেওয়া মঙ্গল ঘট দিয়ে সাজানো দোকানগুলোয় পরিচিত ও বাঁধা গ্রাহকদের জন্য মিষ্টিমুখের আয়োজনও চলে এদিন।
নগরের হাজারী লেইন, দেওয়ানজী পুকুর পাড়, হেমসেন লেইনসহ কাঁচাবাজারগুলোতে নিমপাতা ও হারগোজা (বিউ) ফুল একশ গ্রাম ৮০ টাকা, কনডেন্সড দুধের ছোট এক কৌটাভর্তি ফুল ৪০ টাকা, নিমপাতা এক আঁটি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্দরকিল্লা এলাকায় ফুটপাতে বসে নিমপাতা ও ফুল বিক্রি করছিলেন জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, আনোয়ারা ও বোয়ালখালী থেকে এসব ফুল ও নিমপাতা সংগ্রহ করেছেন।
বকশিরহাটে নাড়ুর দোকানগুলোতেও চলছে বিকিকিনি। বাকলিয়া ও বলুয়ার দিঘীর পাড় এলাকার কারখানায় তৈরি মোয়া-নাড়ু এখানকার দোকানগুলোতে মজুদ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- খইয়ের নাড়ু, নারকেলের নাড়ু, জিরার নাড়ু, বরই নাড়ু, মুড়ি ও চিড়ার মোয়া, গুড় মেশানো খই, মুড়ি, চিড়া, তিলের নাড়ু, ঘস্যার টপি, বাদামের টফি, চানাচুর, মটর ভাজা, ছাতু (খইয়ের গুঁড়ো), বাতাসা ও আটকড়ই। আটকড়ইয়ে আছে মুড়ি, বুট, বাদাম, মিষ্টি জিরা, মিষ্টি কুমড়োর বিচি, শিম বিচি, মুগ বা খেসারি ডাল ও ভুট্টা। প্রতি প্যাকেট নাড়ু বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। আটকড়ই কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একসময় গ্রামে ঢেঁকিতে বানানো এসব নাড়ু এখন রেডিমেইড পাচ্ছেন নগরবাসী। তবে মান নিয়ে আছে প্রশ্ন।
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ থাকায় অনেকে যাচ্ছেন মাছের বাজারে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) নগরের কয়েকটি মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের ইলিশ কেজি ১ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৩০০ গ্রাম থেকে একটু বড় ইলিশ ৮শ-১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজারে আসা ব্যাংকার সায়ন মজুমদার বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানের আবদার মেটাতে ইলিশ কিনতে এসেছি। শহরে যখন গ্রামীণ সংস্কৃতি আসে, তখন তা অনেক সময় সামাজিক চাপও তৈরি করে’।
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited