শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:৪০ পিএম, ২০২৬-০২-১৭
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ভালো ফলাফল করলেও চট্টগ্রামে ভরাডুবি হয়েছে। এখানকার ১৬টি আসনের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছে। জোটে থাকা এলডিপির কর্নেল (অব.) ড. অলির নিজ আসনে তাঁর ছেলে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরেছেন। পটিয়ায় জামানত হারিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
উত্তর চট্টগ্রামের একটি আসনেও ভালো করতে পারেনি তারা। চট্টগ্রামে শক্ত ঘাঁটি থাকলেও প্রভাবশালী এই সংগঠনটির ভোটের মাঠের দূরাবস্থার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। এরমধ্যে বৃহত্তর সুন্নি জোট ও হাতপাখার প্রার্থীরা ভোটে ভাগ বসানোকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে শহরের চারটি আসন ও উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে৷ কেবল সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী আসনে জয় হয়েছে জামায়াতের প্রার্থীর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোট থেকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও বৃহত্তর সুন্নি জোটের ভোটাররা জামায়াতকে ভোট দেয়নি। আবার অনেক আসনে সুন্নি জোটের আলাদা প্রার্থী ছিলো। তবে জামায়াত ঠেকাতে অনেকে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এদের মধ্যে ফটিকছড়িতে সুন্নি জোটের প্রভাবশালী প্রার্থী শাহজাদা সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী একতারা প্রতীকে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন।
সেখানে বিএনপির সরওয়ার আলমগীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন।
জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের মানুষ ধর্মপরায়ণ। বিশেষ করে এখানে কওমি আলেমদের পাশাপাশি তরিকতপন্থীদের ভালো অবস্থান রয়েছে। বিএনপি এই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটি অংশও বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন।
এই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফরিদুল ২১ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। মানবিক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ডা. ফরিদের ভরাডুবির কারণ ভোটের মাঠের সমীকরণ বুঝতে না পারা।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ৭৫ হাজার ৫৪২ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম। তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন সর্বমোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহান ‘মোমবাতি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট। যেখানে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩০টি
এদিকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে বর্তমানে চট্টগ্রামে জামায়াতের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। চট্টগ্রামে জামায়াত জোট কমপক্ষে ৭টি আসন পাবে বলে বিশ্বাস ছিলো। সেখানে মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে তারা। জামায়াত বিরোধীদের পাশাপাশি এখানে গণমুখী নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে। শাহজাহান চৌধুরী, হামিদ আজাদ, হেলালী (শামসুজ্জামান হেলালী) ছাড়া একজন পরিচিত প্রার্থী ছিল না প্রার্থীর তালিকায়।
এছাড়া এলাকাভিত্তিক সামাজিক ক্লাব, সংগঠন, মসজিদ, মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের নিয়ে বিএনপি ভোটারদের ম্যানেজ করার চমক দেখিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরের চার আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে জামায়াত মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেনি।
এছাড়া হাইপ্রোফাইল প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে টেক্কা দিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি জামায়াতের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম। চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর- ডবলমুরিং) আসনে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের সন্তান সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে হারতে হয়েছে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শামসুজ্জামান হেলালীকে। হেলালীর এই আসনটিতে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় স্থানীয়দের তেমন ভেড়াতে পারেনি দলটি। যেখানে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালী আসনের পাশাপাশি এই আসনটিকেও নিশ্চিত আসন বলে ধরে নিয়েছিলো জামায়াত। সাবেক কাউন্সিলর হেলালী এই আসনে বেশ জনপ্রিয়।
এই অঞ্চলে জোটকে ছেড়ে দেওয়া ৪টি আসনের ৩টিতে ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আর অলির এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে শুরুতে অলির ছেলে ড. ওমর ফারুক বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষ সময়ে এসে হাজারখানেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
এদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনে ডা. আবু নাছের বেশ পরিচিত মুখ হলেও এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটের খেলায় প্রভাব পড়েছে দাঁড়িপাল্লায় ভোটের উৎসবে। ভোটের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ছেদ পড়েছে প্রচারণায়। এই আসনে ভোটের কয়েকদিন আগে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জোবায়রুল আরিফকে। দেড় বছর ধরে এই আসনে কাজ করলেও ভোটের ১৫-২০ দিন আগে থেকে জোটের দেনদরবারের যাতাকলে পড়ে প্রচারণা বন্ধ রাখেন জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাসের। তবুও তিনি ৫৩ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। পাশাপাশি ৫ লাখ ৫৫ হাজার ভোটের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে জামানতই হারাতে হয়েছে এনসিপি প্রার্থী জোবায়রুল আরিফকে। এ আসনে রীতিমতো চমক দেখিয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান ‘মোমবাতি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫৮৫ ভোট।
খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হাটহাজারী আসনে রিকশা প্রতীকে নির্বাচন করেছেন মাওলানা নাসিরুদ্দিন মুনির। নাসিরুদ্দিন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। হাটহাজারী উপজেলা ও বায়েজিদ আংশিক সংসদীয় আসনে ১৪৩টি ভোট কেন্দ্রে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট। হেরেছেন লাখ ভোটের ব্যবধানে।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করেছে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। তিনি ৭১ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্রের বিজয়ী নুরুল আমিনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনেও বড় জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এই আসনেও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। কিন্তু এ আসনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মুহাম্মদ ইকবাল হাছান ‘মোমবাতি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ২৩৯ ভোট।
বিই/পিডি/টিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক : কে এম আলী হাসান : মহিলাদের নিজ এলাকা বা সুবিধাজনক স্থান থেকে দূরে বা বাহিরে বদলি(Transfer) করলে ব্যক্তà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ দুইজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোà¦...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : গরমে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট তীব্র আকার ধারণ কর...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : কে এম আলী হাসান ধূমপান একটি সামাজিক ব্যাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যত লোক মারা গেছে, ঠিক সেই একà...বিস্তারিত
রিপোর্টার : ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে জনজীবন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য ও গৃহস্থালি খাতে à¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : "ঐতিহ্যের সাথে উন্নয়নের পথে" স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগর তথা বায়েজিদ বোস্তামী থাà¦...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited