শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৮:৪২ পিএম, ২০২৬-০২-০১
মো.মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার :
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছিল। ৫৪ বছর পর স্বাধীন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে বুকে মাথায় লাল সবুজের গর্বিত পতাকা নিয়ে আরো এক বিজয় অর্জন করলো তেজোদীপ্ত তারুণ্য। তাদের দৃঢ় প্রত্যয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো স্বতঃস্ফূর্ত জনতার অকুণ্ঠ সমর্থন জন্ম দিল এক উজ্জ্বল ‘চব্বিশ’-এর। জনগণ যার নাম দিয়েছে ‘দ্বিতীয় বিজয়’।
এই দ্বিতীয় বিজয় হতাশ জাতির মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বেড়েছে জনপ্রত্যাশাও।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বিগত ১৬ বছর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে সোনার বাংলাকে পরিণত করা হয়েছিল মৃত্যু-উপত্যকায়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভয়ংকর সময়ে দেশের মানুষ ছিল অধিকারহারা। দেশে গণতন্ত্র ছিল না। মানবাধিকার ছিল না। আইনের শাসন ছিল না। ভোটাধিকার ছিল না। বাকস্বাধীনতা ছিল না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। ন্যায়বিচারের ব্যাংক হয়ে হয়ে পড়েছিল দেউলিয়া। মানবতার কোষাগার শূন্য হয়ে পড়েছিল। ছিল না স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি।
আমরা চাই আমাদের মৌলিক চাহিদা-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাপ্রাপ্তিতে যেন কোনোরকম বাধা সৃষ্টি না হয়। নিত্যপণ্যের দাম আমরা নাগালের মধ্যে চাই। আমরা চাই বাজার সিন্ডিকেটমুক্ত এক বাংলাদেশ। আমরা চাই না নিত্যদিনের ব্যবহার্য পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপিত হোক। চাই না কোনো গুজব রটিয়ে মব জাস্টিস করে কারও বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হোক, পুড়িয়ে দেওয়া হোক। আমরা চাই না কোনো উপাসনালয় ভাঙচুর করা হোক। চাই না ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে রাস্তায় পড়ে থাকুক কারও বাবা, কারও মা, কারও বোন বা কারও অন্য কোনো প্রিয়জন। আমরা চাই চাদাবাজি, ঘুস-দুর্নীতি বন্ধ হোক। আমরা চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে চাই না, আমরা চাই আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক, নিজ দেশেই যেন চিকিৎসা নিতে পারি। দেশে দালালমুক্ত, কমিশনমুক্ত উন্নত চিকিৎসাসেবা চাই।
আমরা চাই এমন একটি দেশ যেখানে দুর্নীতি, হানাহানি, গুম, খুন, রাহাজানি, ক্রসফায়ার, ধর্ষণ থাকবে না। নাগরিক নির্যাতনের জন্য থাকবে না আয়নাঘর। থাকবে না বৈষম্য, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বাজার সিন্ডিকেট, ক্ষমতার অপব্যবহার। থাকবে না মব জাস্টিস।
আমরা একটা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র চাই, যে রাষ্ট্র সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করবে।
আমরা সেই রাষ্ট্র চাই, যেখানে সব নাগরিক সমঅধিকার ভোগ করবেন। কোনো বৈষম্য থাকবে না। চাকরির ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি হবে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চাই, যার মালিক হবেন দেশের জনগণ।
আমরা নীতিভিত্তিক রাষ্ট্র চাই, নেতাভিত্তিক নয়। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে তাদের। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় নয়, জনগণের ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হবে। আমরা চাই জনগণই ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। দিনের ভোট রাতে হবে না। হবে না ডামি নির্বাচন। প্রহসনের নির্বাচন কিংবা কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় কেড়ে নেয়া হবে না।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সব ধর্মের, সব মতের মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। এই দেশে আমরা নানা ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে বাস করি।
আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক দেশ, এক সম্প্রীতির বাংলাদেশ-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সবাই যেখানে আছে, থাকবে। আমরা চাই না আমাদের কারও কথায় ভিন্ন ধর্মের কেউ অনুভূতিতে আঘাত পাক। আমরা সহনশীলতা আর ত্যাগের বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই নিজ দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বে সবাই এক ও অভিন্ন হতে।আমরা বাঁচতে চাই, সুন্দর এক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
লেখক, সাংবাদিক ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : হাসপাতালের করিডোরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের একটাই প্রার্থনা—প্রিয় মানুষটি যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। à...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বৈষমà§...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে যেমন প্রকাশ করে, তেমনি মানুষের মানবিকতা, রাষ্ট্à...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ইতিহাসে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প একটà...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : বিধির পোশাকে তিনি শৃঙ্খলার প্রহরী এক দীপ্তিমান নাম, কাব্যের অলিন্দে জ্বালান তিনি মননের অনির্বাণ à...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited