শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৫:৫৭ পিএম, ২০২৪-০৯-২৫
সোনিয়া তাসনিম
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী শব্দটা বুঝি দৈনন্দিন জীবনের এক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদীর্ঘ দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে বৈষম্যে শোষিত এই জাতি ভাগ্য ললাটে পরিবর্তনের ঐক্য চেতনার এক রেখ এঁকে নিলেও বাস্তবে আসলেই কী আমরা নিজেদের বৈষম্যের উর্ধ্বে নিতে পেরেছি? প্রশ্নটা ভাবিয়ে তোলার মতোই বটে। কখনও ক্ষমতা, কখনও ধর্ম, কখনও জাতিগত চেতনা তো কখনও মেধার দোহাইয়ে চলছে প্রতিনিয়ত এই বৈষম্যের নোংরা রাজনৈতিক খেলা।
"মব জাস্টিস" বলে ইদানিংকালে যে নোংরা ইনিংসের সূচনা হয়েছে তার মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমাদের সকলের জানা৷ ঘৃণিত, জঘন্য এই কাজে লজ্জিত জাতি। নতুন চেতনায় উজ্জীবিত হবার আলোকে এ ঘটনাগুলো অতি স্বাভাবিকভাবে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে আসলেই পরিবর্তন সম্ভব তো? বিশ্বাসে দুইয়ে-দুইয়ে চার মিলিয়ে নিলেও তর্কে যে এটি সূদূর পথ গড়াবে এটি নিশ্চিত। কিন্তু কথা হলো মব জাস্টিসের এই কুচক্রী চাল কেবল দেশের সমতলে নয় রক্ত ঝরিয়েছে পাহাড়েও। তবে আফসোস বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার মতো এটি তেমন কোনো ঝড় তুলে নেয়নি সোশ্যাল মিডিয়া অঙ্গনে।
হ্যাঁ বলছিলাম, খাগড়াছড়ির নোয়াপাড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা৷ স্বভাবতই আমার কথার রেশ ধরে প্রশ্ন আসবে কেন? কেনই বা এ নিয়ে এতটা নির্লিপ্ততা? কী এর কারণ! শেকড় অনুসন্ধানে মিলবে সে গোঁড়ার সমস্যাই। বৈষম্য-বিভেদ- বিভাজন। পার্থক্যের ঘৃণার দেওয়াল পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়িদের সাথে আশির দশকে সমতল থেকে মাইগ্রেট হওয়া বাঙালিদের মাঝে। পর্বতরাজের বাসিন্দাদের মাঝে যারা বিবেচিত হয়ে এসেছে বহিরাগত তথা "সেটেলার" হিসেবে৷ একই মানচিত্রে, একই ভূখণ্ডে থেকে কেন এই পরিচয়? তাতে আলোকপাত করতেই ফিরে দেখব একটু ইতিহাসের পাতায়।
১৮৬০ সালের আগ মুহূর্ত অবধি বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার আঁচলে আচ্ছাদিত ছিল এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। ১৮৬০ সালেই এটি আলাদা জেলার মর্যাদায় উন্নীত হয়। খাগড়াছড়ি, বান্দারবান, রাঙামাটি এই তিনটি প্রশাসনিক জেলায় বিভক্ত হয় এটা সময়ের দাবিতে৷ আদি বাংলায় অঙ্গভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন কোনো জাতি ছিল না যে এটি তাদের সায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রূপ নিতে সক্ষম। সে হিসেবে পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী বাঙালিদের যদি বহিরাগত হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয় তবে একই যুক্তি শান্তিচুক্তির পক্ষে থাকা জনগোষ্ঠীর ওপরও বর্তাবে নিশ্চিত। নাহ! মনগড়া কথা নয়। এর নেপথ্যে ইতিহাসের অকাট্য দলিল রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি ত্রিপুরা, আসাম, এর উত্তরাঞ্চল, মিজোরাম, মায়ানমার থেকে উপজাতিরা আদি বাংলার অঙ্গভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় অনুপ্রবেশ করার বিষয়টি কী উপেক্ষা করতে পারবেন কেউ? এটা তাদের ভাষা নৃতাত্বিক গঠণ প্রকৃতির দিকেই ইঙ্গিত জানান দেয়। মনে রাখা প্রয়োজন ইতিহাসের পাতা বদলে বা একে পাল্টে কিংবা উপেক্ষা করে পৃথিবীর কোন জাতির পক্ষেই সামনে এগুনো অসম্ভব। তাই বাঙালিদের এখানে বহিরাগত বলে দাবী করে কেবল পাহাড়িদের দাবি পূরণ করার মধ্য দিয়ে কোনোক্রমেই এই পাহাড়ি- বাঙালি সম্পর্কের তিক্ততাকে মধুর সম্পর্কে বদলে দেবার স্বপ্ন অমূলক এবং হাস্যকর৷ সমাধান হওয়া জরুরি বাস্তবতার নিরিখে বোকা আবেগে নয়।
পার্বত্য এলাকায় অস্থিরতা জাগিয়ে তোলা এই গভীর সমস্যাটি জাতীয় সংকটকে ক্রমেই ঘনীভূত করে তুলছে। সেই সাথে স্বার্থান্বেষী মহলগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেবার। দীর্ঘদিনের এই যে সংকট সেটা পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাষ্ট্রশক্তির মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা ও অনাস্থাকে নির্দেশ করে। সঙ্গে বাঙাল বিদ্বেষ, সমতলভূমির সাথে পাহাড়িদের জীবন জীবিকা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের চরম ব্যবধান এর ইন্ধন যোগাচ্ছে দারুণভাবে।
১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক মর্যাদা লাভ করা এই পার্বত্য এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্রে জুড়েছিল ১৯৪৭ এ৷ বৃটিশ আমলের তেরোটা উপজাতি অধূষ্যিত পার্বত্য এলাকার শাসনকার্য পরিচালিত হয়ে আসছিল ১৯০০ সালে প্রণীত হিল ম্যানুয়াল দিয়ে। যদিও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে অনুমোদন দান করেননি৷ তৎকালীন সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত উপজাতিদের অনেক ক্ষেত্রেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। যার কারণে তাদের মাঝে ছাইচাপা আগুনের মতো ক্ষুব্ধতা গড়ে উঠেছিলো। এর মাঝে অসন্তোষের ঢেউ তোলে কাপ্তাই বাঁধ। যা দিয়ে অসংখ্য পার্বত্যবাসীকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। সলিল সমাধি ঘটে চাকমা রাজার প্রাসাদের৷ যেটা আগুনে ঘি ঢালার জন্য যথেষ্ট ছিল। ১৯৭০ এ নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য এমএন লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭২ এ। ১৯৭৩ এ তারা সংগঠনের সামরিক শাখা শান্তিবাহিনী গঠণের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামের সিদ্ধান্তে আসে। ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় নানা নাশকতামূলক কার্যকলাপ। অবস্থার মোকাবিলায় তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ওই এলাকায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। যার পরবর্তী ফলাফল আমাদের সকলের কমবেশি জানা৷ ১৯৭৩ এ শেখ মুজিবর রহমান পাহাড়ি- বাঙালি, জাতি- উপজাতির পার্থক্য ভুলে যাবার আহ্বানের সাথে পার্বত্য জেলার ত্রিদিব রায়কে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ১৫ই অগাস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যায় অনেক পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ। এম এন লারমার নেতৃত্বে বিক্ষিপ্তভাবে সশস্ত্র হামলা শুরু হয় এবং তিনি আত্মগোপনে যান। একই বছরে তিনি মুক্তিলাভ করলেও পের ১৯৮১ তে পুনরায় আটক হন৷ এরপর আবারও মুক্ত হয়ে গা ঢাকা দেন। আর এই সময়ের মাঝেই সংগঠনের মাঝে শুরু হয় আভ্যন্তরীন কোন্দল। প্রাথমিক সমঝোতা আসলেও অপর গ্রুপের আক্রমণে মানবেন্দ্র লারমা সহ নিহত হন মোট আটজন। তারপর শুরু দল পুনর্গঠন কাজ। সে বছরে জাতীয় সন্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত সন্তু লারমা সিদ্ধান্ত নেন সংগ্রামের পাশাপাশি তারা সরকারের সাথে সংলাপ প্রক্রিয়াও বেগবান করবে৷
উল্লেখ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সুদীর্ঘ সময় পার হলেও তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ফল আসেনি সংকট নিরসনে৷ ১৯৯৭ এ সরকার ও জেএসএস এর মাঝে স্বাক্ষরিত চুক্তির যে মূল লক্ষ্য ছিল তা হলো দেশের সংবিধান অনুসারে এই পার্বত্য চট্টগ্রাম রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান৷ কিন্তু চুক্তির পর থেকেই সন্তু লারমা গং দাবী করে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চলের স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে বিশেষ শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। আর এই দাবী শতভাগ আমাদের সংবিধান বিরোধী। আমাদের সংবিধানে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা রয়েছে কিন্তু কোন অঞ্চল বিশেষের জন্য আলাদা শাসনতন্ত্র তেরীর সুযোগ এখানে অনুপস্থিত। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়ে চলছে বললেও এটি মানতে নারাজ পাহাড়ি জনগণ৷ তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোর কোনটিই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি৷ অন্যায় ভাবে তাদের বংশপরম্পরায় তাদের ভোগ করা জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে অপরদিকে বাঙালিদের দাবী নিরাপত্তাহীনতায় তাদের দিন কাটছে এই পাহাড়ি প্রতিকূলতায়। উপজাতিদের কাছে তারা হরহামেশাই উপেক্ষিত হচ্ছে এমনকি তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক মর্যাদা থেকেও তারা বঞ্চিত। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তিতে পাহাড়িদের শান্তি বিবেচনায় আনলেও অবহেলিত থেকেছে পুনর্বাসিত বাঙালিদের দাবী আর আকাঙ্খা। দুর্গম পাহাড়ে জীবন ধারণের কঠোরতা তাদের গুচ্ছ গ্রামে বাস করতে বাধ্য,করেছে। যেখানে জীবন যাত্রার নিয়ন্ত্রণ করে ওই উপজাতি নেতারাই৷ তাই পাহাড়িদের পাহাড়ি অঞ্চল হতে সেনা প্রত্যাহারের যে দাবী তার বিপক্ষেই এদের অবস্থান। যেখানে উপজাতি নেতারা মনে করেন, এলাকা হতে সেনা বাহিনীর নিরাপত্তা ক্যাম্পগুলো না সরিয়ে নিলে দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
সে যাই হোক, চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে কিছু সংকট প্রাথমিক ভাবে কাটিয়ে নিতে পারলেও প্রকৃতপক্ষে আসল সমস্যার দূর্গ এখনও অটল রয়ে গিয়েছে। সময়ের আবর্তে একেক র*ক্তক্ষয়ী গল্পের মধ্য দিয়ে জন্ম নিচ্ছে ভৌগলিক সীমারেখায় লালনকৃত জাতিসত্তা। নানা কারণে অসন্তুষ্ট উপজাতীয় নেতারা। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়া এবং এর বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের পদক্ষেপে সরকার সবসময়ই পিছিয়ে থেকেছে৷ চুক্তি প্রনয়নের দীর্ঘ পরিক্রমায় আসলে সন্তোষজনক কোন অগ্রগতি কখনই দেখা যায়নি৷ চুক্তির ৫ নম্বর শর্তানুযায়ী এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ২০০১ সালে গঠিত হয় ৯ সদস্যের পার্বত্য পার্বত্য ভূমি কমিশন। তবে সেটি দফায় দফায় সেই কাঠামোর রদবদলই ঘটেছে কেবল। এরপর সুঁতো টানতে গেলে ঘটনা গড়াবে বহুদূর৷ আদৌত সামগ্রিক ভাবে দেখলে বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক প্রশাসন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিষদ এই তিন অংশের মাঝে সমন্বয়ের অভাবই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধাণ সমস্যা হিসেবে প্রতীয়মান এবং প্রমাণিত।
বস্তুত একটা এলাকায় যখন সরকারি, আধা-সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে শতকরা ৮০ ভাগ সুবিধা কোন সংখ্যা গরিষ্ঠ জাতি ভোগ করে তখন সেখানে নিশ্চিত বৈষম্যের গন্ধ উপস্থিত। এই পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি এবং পুনর্বাসিত বাঙালিদের মাঝের অবস্থা ঠিক এমনটাই৷ স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই সমস্যা নিরসনের যেন কোন রাস্তাই খোলা সম্ভব হয়নি৷ বরাবরের মতোই এখানেও ফ্লাড লাইটে একদল হাইলাইটস হলেও আরেকদল রয়ে গেছে অন্ধকারে। দেশের সংবিধান, মানবাধিকার ও যুক্তিপূর্ণ অগ্রগতির জন্যই এখন পাহাড়ি বাঙালিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তথা একতা অত্যন্ত জরুরী৷ সংবিধানের ধারাগুলোকে কলবে ধারণ করে তাকে রক্ষা করতে হবে অতি যত্নে।
আমাদের সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাস্ট্র হিসেবে স্বীকৃত। তাতে আঞ্চলিক সুযোগের কোন গুলজায়েশ নেই৷ ১৯(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে৷ তাহলে এখানে সমতল পাহাড়ের ব্যবধান টেনে আনা অযৌক্তিক৷ অনুচ্ছেদ ২৭ অনুসারে রাস্ট্রের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান অধিকার লাভকারী৷ অনুচ্ছেদ ২৮(১) অনুসারে কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী- পুরুষের ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক রাস্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না৷ অনুচ্ছেদ ২৯(১) এ উল্লেখিত, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার থাকিবে।"
প্রশ্ন হলো, পাহাড়ে বাঙালি পুনর্বাসনের বিষয়টি কেনই বা এতটা নেতিবাচক ভাবে গ্রহণ করা হয়? পঞ্চাশের দশক থেকে আজ অবধি বাঙালিদের পুনর্বাসন নিয়ে এই ঘৃণ্য মানসিকতা, এর রূপকার ও ইন্ধনদাতা আসলে কারা? কী তাদের উদ্দেশ্য? সেটা স্পষ্ট হয়ে আসার সময় মনে করি এসে গেছে এখন৷ স্মরণ রাখা জরুরী, একজন উপজাতি যদি দেশের যে কোন জায়গায় অবাধে নিজেকে পুনর্বাসন করতে সক্ষম হয় তবে সমতলের বাঙালি কেন পাহাড়ের মায়ায় নিজেকে বাঁধতে পারবে না? এতে বাধাটা কোথায়? একই মানচিত্রে দুটি জনগোষ্ঠীর মাঝে দুটো নিয়ম যদি বেঁধে দেয়া হয় তাহলে বৈষম্য নিরসন কী করে সম্ভব? তাই রাজনৈতিক এই যে ভিক্টিম কার্ড হাসিল করে ফায়দা লোটা একে রুখতে হবে। মনে রাখতে হবে পরিবর্তন আনা জরুরী৷ আর সবচেয়ে জরুরী আগে নিজেকে বদলানো৷
একটা বিষয় একটু লক্ষ্য করি, দেশে সদ্য ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে শহর, নগর, মফস্বলের দেওয়াল জুড়ে গ্রাফিতিগুলো নিশ্চয়ই নজর কেড়েছে সবার। এই দেওয়াল চিত্র শিল্পে তুলি হাতে একসাথে রঙ মেখেছে এই ছাত্র জনতা৷ প্রাচীর জুড়ে তারা প্রদর্শন করেছে ফ্যাসিবাদের নিপীড়ন থেকে মুক্তির বার্তা কিন্তু এখানেও পাহাড়ি ছাত্রেরা তাদের ভিন্ন সুরেও রাঙিয়েছে এই শিল্প। ফ্যাসিবাদের নিরসনে জাতীয় ঐক্যের আলাপের পাশে তাদের ( বিশেষ করে পাহাড়ি ছাত্রদের) আঁকা পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী অপসারণের দাবীটাও সুগঠিত ভাবে উঠে এসেছে এখানে৷ নাহ৷ চাওয়াটা দোষের কিছু নয়। আক্ষেপটা অন্য জায়গায়। আর মনে করছি এমনটা অনুভব করা অমূলক নয় একেবারই। এই ধরনের কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা থাকার কারণ হলো, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝের এই সন্দেহের বিষবৃক্ষের বিস্তার। কেমন একটা ভয়ংকর নিরাপত্তাহীনতার জালে আমরা অজান্তেই নিজেদের জড়িয়ে ফেলছি। অথচ, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ নয়,যেখানে সেনামোতায়েনের নজির বিদ্যমান৷ পৃথিবীর অনেক দেশেই রাস্ট্রের সার্বভৌমত্ব আর অখন্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী এমন ভূমিকা গর্বের সাথে পালন করছে৷ তাদের এই দায়িত্ব ও কর্তব্যকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করা চরম বোকামির সামিল। আবারও বলি, এতে করে নিজেদের প্রাপ্তির ঝুলি ওই শূন্যই রয়ে যাবে৷ ফাঁকতালে সুবিধা নেবে সেই সুযোগসন্ধানী নেকড়ের দল৷ আর এই বিষবৃক্ষের মূল উৎপাটনই হোক এখন এই নতুন বাংলাদেশের ব্রত৷
অতএব মনে করছি আরও লম্বা আলোচনা টেনে বিরক্তি না উদ্রেক করাই সমীচীন। তবে হ্যাঁ। সময়ের সঙ্গে সংস্কার, পরিবর্তন, পরিমার্জন জরুরী৷ তাই আলোচ্য এই সুগভীর জাতীয় সংকট নিরসনেও এটা প্রযোজ্য। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনবোধে সংবিধান সংস্করণ টেনে এর আশু নিরসন করা অতি জরুরী বলেই মত এখন আপাময় বাংলাদেশের মানুষের৷ সবুজ পাহাড়ে শ্যামলতার চাদর বিছিয়ে পড়ুক দিগন্ত জুড়ে৷ তাতে লালিমা ছড়াবে সূর্যের আরক্তিম আভা কোন বাঙালি বা পাহাড়ি ভাই-বোনের বুকের র*ক্তে নয়৷ আমরা বাংলাদেশি। এখানে উপজাতি সহ সকল বাঙালি জনগোষ্ঠী সমমর্যাদার নাগরিক৷ এই উপলব্ধি অনুধাবন করতে হবে সকলকে। সংকট নিরসনে পরস্পরের কাছে আসা জরুরি। একে অপরের কৃষ্টি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা ও আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন। অবজ্ঞা নয়, পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধ সর্বোপরি একক জাতীয়তাবাদের চেতনার ছায়াতলে দাঁড়াতে হবে একই সঙ্গে। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি জাতীয় এই সংগীতের এই সুসংহত সুর অবিচ্ছেদ্য বন্ধন গড়ে তুলুক টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। কী পাহাড়ি, কী সমতল। আমার পরিচয় আমি বাংলাদেশি৷ এটাই হোক আমাদের বাংলাদেশী চেতনার একাগ্রতার ধারক এবং বাহক। এটাই একমাত্র মূলমন্ত্র।
স্টাফ রিপোর্টার : : এস. এফ. এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ পাহাড়, নদী, ঝরনা, বন আর বৈচিত্র্যময় জনজীবন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘের...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। চট্টগ্রামের কোনো এক বাসাবাড়ির রান্নাঘরে চুলা জ্বলে উঠেছে। ঘুমজড়...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : কে এম আলী হাসান বর্তমানে ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি ও মোটা অংকের টাকা...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছর, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইন রামগড় পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জাতীয় সংসদে তুলেছেন বন ও জলবায়ু পরিব...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : দেশব্যাপী হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অভিয...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited