চট্টগ্রাম   সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা

সম্পাদকীয় ডেস্ক ::    |    ০৯:২৬ পিএম, ২০২৪-০৯-২২

অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা

আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম    

বিদেশীদের দু'হাত ভরে সহযোগিতা ও প্রবাসীদের অকাতরে রেমিটেন্স পাঠানোর ফলে অস্বাভাবিক হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে । আই এম এফ এর হিসেব অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে, গত সরকারের সময় রিজার্ভ ছিলো ১৮ বিলিয়ন। বর্তমানে তা এখন বেড়ে ২৪ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। মাসে গড়ে ৩ বিলিয়ন হারে রিজার্ভ বেড়েছে। যার ধারা অব্যহত থাকলে  ২ মাসের মধ্যে  রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। ডলারের মূল্য নিম্নমুখী, যা গত দশকে কল্পনাতীত ছিলো বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা ।

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- আই এম এফ, এডিবি, আইডিবি, জাইকা, ইউ এস এইড, বিশ্বব্যাংক এর পক্ষ থেকে বৈদশিক মুদ্রা নিয়ে যে  নেতিবাচকমূলক উত্তেজনা ছিলো তা শিথিল হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে তুলনামূলক স্বস্থি ফিরে এসেছে। পরিচালনা পর্ষদে কমবেশী পরিবর্তন আনা হয়েছে ।বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একধরনের মানসিক চাপে ছিলো। যেমন লোন দেওয়া ও লোন রিসিডিউল করার যে প্রবণতা ছিলো তা থেকে মুক্ত হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক লুটেরা মুক্ত হয়েছে।  মানুষ বিশ্বাস ফিরে পেয়ে ঘরের টাকা আমানত হিসেবে রাখতে শুরু করেছে।  রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ প্রায় ৪০% এই ব্যাংক থেকে আসে। তা যথাযথ আসতে শুরু করেছে।  অর্থ সংকট, দেউলিয়া  হওয়ার যে আশঙ্কা ছিলো তা থেকে ব্যাংকটি  বেরিয়ে এসেছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ী ও জনমনে স্বস্থি ফিরে এসেছে। এ ধারা অন্তত ৬মাস অব্যহত থাকলে শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়বে, মূলধনী যন্ত্রপাতি  আমদানীতে বিনিয়োগ বাড়বে । যার ফলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সারাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে দাড়াবে।

আমেরিকা-ইউরোপ  অকাতরে সাহায্য করতে প্রস্তুত। পশ্চিমারা যখন কোনো দেশকে ইতিবাচক ভাবে নেয় তখন সেই দেশগুলোর অবকাঠামো, চিন্তা-চেতনা, কৃষ্টি কালচার, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি সবকিছুতেই অতি দ্রুত পরিবর্তন আসতে শুরু করে। যেমনটি আমরা মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইলেন্ড এর মতো দেশগুলোকে দেখতে পায়, দেশগুলোতে পশ্চিমারা বিনিয়োগ করছে এবং প্রচুর পর্যটকও তারা পেয়েছে।

নেটিজেনরা বলেন, রাজনৈতিক অবস্থা যেমনি হোক না কেনো, তা  যেনো  অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রভাব না পড়ে। চীন ও তুরস্কের  উদাহরণ দিয়ে  বলেন, তুরস্কের  সাথে ইরান,  রাশিয়া, সৌদিয়া, ইসরাইলের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে  দ্বন্দ রয়েছে, কিন্তু তাদের এমন কিছু উম্মুক্ত সীমান্ত আছে তারা একে অপরের সাথে ব্যবসা  করতে পারে। চীন তাদের শহরগুলোকে এমন সুন্দর ও নিরাপদ করে শিল্পনগরীতে সাজিয়েছে, যেখানে  আমেরিকা-ইউরোপের নাগরিকরা  বিনিয়োগ করা নিরাপদ মনে করেন।

বাংলাদেশ সরকার যদি , রাজস্ব বোর্ড, বিনিয়োগ বোর্ড, এয়ারপোর্ট, সংশ্লিষ্ট অর্থনীতির দিকগুলোতে  মনযোগ দেয় এবং বিদেশী বিনিয়োগে  রেটিং ধরে  দিতে পারে। তাহলে এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগ খাতে অভাবনীয় উন্নতি সাধন এবং সাফল্য আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতি পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক হলেও দেশের গণতন্ত্রের বেহাল অবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়।সম্প্রতি ঘটে চলা ঘটনাগুলো তার নিছক উদাহরণ। 

দেশের  শীর্ষ  বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে  মারামারি–কাটাকাটি লাশের খেলায় মেতেছে। শিক্ষাঙ্গন হয়েছে আন্দোলনের মঞ্চ। জাতির মেরুদন্ড যেনো ভেঙে চুরমার। পড়াশোনার ছিঁড়েফুটেও খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা  দাবি-দাবা, রাষ্ট্র মেরামতের নামে আন্দোলনে  ব্যস্ত । অপরিপক্ব শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আচরণ যেনো ভয়ংকর এক রুপ ধারণ করেছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো তারই বড় প্রমাণ। বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ নিরপত্তা ঝুঁকিতে অবস্থান  করছে। 

শিল্প-কারখানায় আগুন, শ্রমিক আন্দোলন, শ্রমিকের ন্যায্যমূল্য প্রদানসহ দুষ্কৃতিদের ধরতে বিলম্ব করা ব্যাপকভাবে জননিরপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ ।

পাহাড়ী অঞ্চলগুলো লাগামহীন। পাহাড়ী আর বাঙালী করেছে আলাদা শব্দ, আলাদা মানুষ। যেখানে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের নাগরিক যারা, তারা সকলেই বাঙালী। তাহলে পৃথক শব্দ ব্যবহার করে এতো দ্বন্দ্ব-সংঘাত কেনো ? রাঙামাটি খাগড়াছড়ির ঘটনাগুলো আমাদের কি ইঙ্গিত করছে?

মব জাস্টিস হলো - যখন একজন অপরাধী বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিকে একদল লোক বা ভিড়ের দ্বারা মারধর করা হয়, পাথর, ছুরি বা যে কোনও কিছুতে তারা হাত দিতে পারে।কিছু  ক্ষেত্রে অভিযুক্ত অপরাধী অতিরিক্ত মারধররে কারণে মারা যায় বা পুরানো গাড়ির টায়ার এবং জ্বালানী ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়। মব জাস্টিস বা এই ধরনের ঘটনা (বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইস্যু তৈরি করে যে অসংখ্য ঘটনাগুলো ঘটছে তার দায় কে নেবে? কারা করছে? কেন করছে? রাজনৈতিক দলের নামে অপরাধগুলো ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে, ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। আবার অপরাধীদের যে যার মতো শাসন করে বিচার-আচার করছে। এসব বিচারে মরেছে অনেকেই, তার তালিকা শব্দহীন। যে দলেরই লোক হোক অপরাধী হলে বিচার করবে আদালত। অপরাধীকে মারাও অপরাধ। অপরাধীর সম্পদ লুট করাও অপরাধ।

আমরা জানি অপরাধের বিচার আইন দিয়ে করে। আইনের কাজ যদি যে যার ইচ্ছেমতো করে তাহলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বলে কি শব্দ থাকে! এই ধরণের আইনের অপব্যবহারের অপরাধগুলো যেনো সরকার নিশ্চুপ ভূমিকায় সমর্থন করছে। আজ না হয় কাল সরকারকেই এ সকল কিছুর দায়ভার নিতে হবে।

“অপরাধ দমন করা, একই অপরাধের পুর্নাবৃত্তি এবং নতুন কোনো অপরাধ সংঘটিত না হওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা ”। এসব ব্যবস্থাপনার জন্য জনগণ খেয়ে না খেয়ে ঠিকই নিরাপত্তা খাতে অর্থ দিয়ে আসছে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি করছে? 

অপরাধের সংজ্ঞায় অপরাধ যেই করুক, ছাত্র-শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী যেই হোক না কেনো তাদের একটি পরিচয় হয়' অপরাধী"। অপরাধী কারো ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন পরিবার-পরিজন, সমাজের কেউ হতে পারে না।ন্যায় বিচারে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমার যোগ্যতা অর্জন করে ফিরে আসলে, পরিবর্তী কোনো অপরাধে জড়িত হবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে। তখনই কেবল সবার মাঝে, সমাজের মাঝে, পরিবারের মাঝে গণ্য হবে।

বর্তমান সরকারের কাছে জনগন নিরাপত্তা চাই, আইনের সুশাসন চাই। সরকার অর্থনীতিতে যেমন প্রশংসাযোগ্য ভূমিকা রেখে চলছে ঠিক তেমনি যেনো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে  জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মতো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে তারই শুভকামনা রইলো।

 

রিটেলেড নিউজ

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ড আবার আলোচনায়, এক দিনে দুই চিঠি

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ড আবার আলোচনায়, এক দিনে দুই চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে একই দিনে একই বিষ...বিস্তারিত


পদ্মা অয়েল পিএলসি.-এর ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা

পদ্মা অয়েল পিএলসি.-এর ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা

আমাদের ডেস্ক : : পদ্মা অয়েল পিএলসি.-এর ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ১১:০০ টায় ডিজিটাল প্ল্যা...বিস্তারিত


ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞপ্তি : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর শরী’আহ সুপারভাইজরি কাউন্সিলের এক সভা ৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার ই...বিস্তারিত


বাংলাদেশে তৈরি ৩ ল্যান্ডিং ক্রাফট যাচ্ছে আরব আমিরাতে

বাংলাদেশে তৈরি ৩ ল্যান্ডিং ক্রাফট যাচ্ছে আরব আমিরাতে

আমাদের ডেস্ক : : দেশের জাহাজ নির্মাতা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে তৈরি ৩ জাহাজ রপ্তা...বিস্তারিত


এক দিনে ৬ হাজার ৩০১টি  গেটপাস ইস্যু বন্দরে

এক দিনে ৬ হাজার ৩০১টি  গেটপাস ইস্যু বন্দরে

স্টাফ রিপোর্টার : : দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে এক দিনে ৬ হাজার ৩০১টি গেটপাস ইস্যু হয়েছে। এটিকে রেকর্ড বলছেন চট্টগ্রা ...বিস্তারিত


বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধিকে আইএমএফের প্রশংসা

বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধিকে আইএমএফের প্রশংসা

আমাদের ডেস্ক : : বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত


মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা ন...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর