চট্টগ্রাম   শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০  

শিরোনাম

আজ আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস

বিরক্তিকর একঘেঁয়েমি দুর করতে ঘুরে আসুন পাহাড় নদী সমুদ্রে

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৬:২৯ পিএম, ২০২০-০৯-২৪

আজ আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস

জি.এম সাইফুল ইসলাম :: সারা পৃথিবীর ন্যায় দেশে চলছে করোনা সংকট । প্রথমদিকে পুরোপুরি লকডাউন থাকলেও জীবন জীবিকার প্রয়োজনে চারপাশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কর্মস্থলে ফিরেছে কর্মজীরিা। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং, প্রাইভেট বন্ধ থাকায় বাচ্চারা হয়ে পড়েছে ঘরবন্দি। ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে একঘেঁয়েমি হতাশা আর অবসাদ। মেজাজ হতে পারে খিটখিটে। এজন্য নিত্য জীবনে একটু পরিবর্তন আনতে ঘুরে বেড়ানোর মতো শ্রেষ্ঠ উপায় আর হতে পারেনা। তাই সময় বের করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরে আসুন চট্টগ্রাম অ লের প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য থেকে। দেখে আসুন পাহাড় নদী সমুদ্র।  
বাংলাদেশের প্রাচীন জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম অন্যতম। এখানকার বন্দরের মাধ্যমে আরব, আফ্রিকান এবং ইউরোপীয় বণিকগণ তেজারতি করতেন প্রাচীনকাল থেকেই। তাদের হাত ধরে এখানে গড়ে ওঠেছে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা যা আজো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্যের সব পসরা সাজিয়ে দিয়েছে এ অ লে। কি নেই এখানে। পাহাড় নদী সমুদ্র হৃদ ছড়া ঝর্ণা সৈকতসহ নয়নাভিরাম সব সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। শুধু চট্টগ্রাম নগরীতে গেলেই দেখা যাবে পাহাড় নদী সমুদ্র- এ তিন জিনিস একই সাথে পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যাবেনা। আছে ব্রিটিশ আমলে তৈরি সব নান্দনিক স্থাপনাও।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য চট্টগ্রাম অ লে যেসব মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে কক্সবাজার সী বিচ, মাথিনের কূপ, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফয়’স লেক, জাতিতাত্বিক জাদুঘর,  চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি,  বাটালী হিল, কোর্ট বিল্ডিং, চেরাগী পাহাড়, কদম মোবারক মসজিদ এতিখানা, বায়েজিদ বোস্তামি, হয়রত আমানত শাহ, বদর শাহ, মোহছেন আউলিয়ার মাজার, ভাটিয়ারি লেক ও গল্ফ ক্লাব,  ঐতিহাসিক লালদিঘী, মেধস মুনি আশ্রম,  গোল পাহাড় কালী মন্দির ও চট্টেশ^রী কালীমন্দির, সীতাকুন্ড তীর্থস্থান, মন্দাকিনী শিব মন্দির, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী, চা বাগান, গুপ্ত এস্টেট জমিদার বাড়ি এবং ঠাকুর দিঘী,  শঙ্খ নদী, ডিসি হিল, হযরত আমানত শাহ বদর শাহ মোহছেন আউলিয়া বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার,  মাইজভান্ডার দরবার ও মির্জাখীল দরবার শরীফ, পারকি সৈকত, রাউজানের সাহেব বিবি মসজিদ, নন্দীর হাটের জমিদার বাড়ী,  ঝরঝরি ট্রেইল, কাপ্তাইয়ের লেকভিউ লেক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, খেজুরতলা বিচ, কুমারীকুন্ড, মিরসরাইয়ের বাওয়াছড়া লেক, সোনাইছড়ি ট্রেইল, বিশ^বিদ্যালয় এলাকার চালন্দা গিরিপথ, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, হাজারী খিল অভয়ারণ্য, কালুরঘাটের মিনি বাংলাদেশ, ছাগলকান্দা ঝরনা,  কমলদহ ঝরনা, সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, সুপ্তধারা ঝরনা,  সহ¯্রধারা ঝরনা, সীতাকুন্ড ইকোপার্ক,  মহামায়া লেক, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, খৈয়াছড়া ঝরনা, খিরাম সংরক্ষিত বনা ল, মহামুনি বৌদ্ধবিহার, লোহাগাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী এবং রিক্রিয়েশন পার্ক,  সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও ছেড়া দ্বীপ প্রভৃতি।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও ছেঁড়া দ্বীপ :
 আকাশের নীল আর সমুদ্রেুর নীল মিলেমিশে একাকার, তীরে বাঁধা বাহারী নৌকা, সারি সারি নারিকেল গাছ, বাতাসের মুহর্মুহ গর্জন আর ঢেউ খেলানো চুলের বাতাসে ওডার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেখানে দেখা যায় সেটিই আমাদের সেন্টমার্টিন। দেশের সর্ব দক্ষিণে টেকনাফ থানার অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবস্থান। নারিকেল গাছ ঘেরা এ দ্বীপের চারদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। যেদিকে চোখ যায় শুধু দেখা যাবে নীল জলরাশি। ঢেউয়ের দাপাদাপি আর শুভ্র ফেনার অবাধ নাচুনিতে মন নিজ থেকে গেয়ে ওঠবে। চাঁদনী রাতে বালুতটে হাঁটার অনুভূতি লিখে বোঝানো যায়না। এ শুধু উপলব্ধির বিষয়। ভরা পূর্ণিমায় ফেনিল জলরাশির উদ্দম দাপাদাপি আর তা থেকে আলোর বিচ্চুরণ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। স্বচ্চ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকম সামুদ্রিক মাছ,কচ্ছপ, প্রবাল বিশ^ রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে এ দ্বীপকে। বালি পাথর প্রবাল আর জীব বৈচিত্রের সমন্বয়ে এক অভূতপূর্ব পরিবেশ এখানে। চারদিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত দ্বীপটিতে নামলে মন আপনা থেকেই ভাল হয়ে যায়। প্রবাল প্রাচীর ঘেরা ছেড়া দ্বীপ সেন্টমার্টিনের আরেকটি আকর্ষণ। দ্বীপের নানা রকমের সামুদ্রিক মাছ ও বড় জাতের ডাব পর্যটকদের রসনার তৃপ্তি মেটাবে। জীবিত মাছ দেখিয়ে দিলে আপনাকে বসিয়ে রেখেই হোটেলওয়ালারা ফ্রাই করে দেবে। আছে বেশকিছু হোটেল-মোটেল। বাড়তি পাওনা কথা সাহিত্যিক হুমায়্নু আহমেদের কটেজ। টেকনাফ থেকে প্রায় ২২ কি:মি: দুরত্বের এ দ্বীপে বর্ষাকাল ব্যতিত সারা বছর বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল সী ট্রাক চলাচল করে। সাহস থাকলে ঝুঁকি নিয়ে যেতে পারেন ইঞ্জিনচালিত নৌকা করেও। ঢাকা-চট্টগ্রাম যেকোন স্থান থেকেই বাসে করে টেকনাফ যাতায়াত করা যায়। সেখান থেকে সেন্টামার্টিন। দ্বীপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত। পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সী বিচ :
পৃথিবীর দীর্ঘতম সী বিচ এটি। সারা বছর এটি ব্যস্ত থাকে। করোনাকালে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকলেও আবার পুরোদমে চালু হয়েছে এ বিচ। ঘুরতে হবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তীরে আছড়ে পড়া ঢেউ যখন আপনার পা ধুয়ে দেবে তখন মন থেকে সব ক্লান্তি আর অবসাদ দুর হয়ে যাবে। সারি সারি ঝাউগাছ আর ঝাউপাতায় বাতাসের শো শো শব্দ আপনি আর কোথাও পাবেননা। এযেন অব্যক্ত আহ্বান। দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি এখানে সারা বছর বিদেশীদের ভীড় থাকে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক পাহারা দেয় এ বিচে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির কারনে কাউকেই হয়রানির শিকার হতে হয়না এখানে। সরকারি বিভিন্ন ডাক-বাংলো ও রেস্ট হাউজের পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিশ^মানের অনেক হোটেল মোটেল। চাহিদা আর সামর্থমতো আপনি নির্বিঘেœ থাকতে পারবেন এখানে। 
মাথিনের কূপ :
কলকাতার বিখ্যাত উপন্যাসিক ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্য ব্রিটিশ পিরিয়ড়ে চাকরির সুবাধে টেকনাফে এসেছিলেন। টেকনাফ থানায় ছিলো তার পোস্টিং। তারই বিখ্যাত উপন্যাস “যখন পুলিশ ছিলাম” থেকে মাথিনের কূপ সম্পর্কে জানা যায়। টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডেই এ কূপের অবস্থান। প্রেমের এক অমর স্মৃতি এ কূপ। প্রেমের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এক তরুনীর করুন প্রেম কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে এ কূপের সাথে। টেকনাফের জমিদার ওয়াংথিনের অপরুপ সুন্দরী একমাত্র কন্যা মাথিন প্রতিদিন থানা কম্পাউন্ডে সখিদের সাথে পানি নিতে আসা যাওয়ার পথে চোখে চোখে প্রেম হয়ে যায় সেসময়ের টেকনাফ থানার তরুন অফিসার ধীরাজ ভট্টাচার্যের সাথে। কিন্তু তাদের প্রেমের পূর্ণতা পায়নি। ধীরাজ ভট্টাচার্য বাবার চিঠি পেয়ে কলকাতা গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তারই বিচ্ছেদে জমিদার কন্যা  মাথিন আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করে জীবন বলি দেয়। পুরো টেকনাফবাসী চেষ্টা করেও তাকে অন্ন জল স্পর্শ করাতে পারেনি। বর্তমানে জেলা পরিষদ থেকে কূপটি সংস্কার করে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। কূপের গায়ে এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে।  কূপটি নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।
জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর :
 এশিয়া মহাদেশে মাত্র দু’টি জাতি –তাত্ত্বিক জাদুঘর রয়েছে। একটি জাপানের টোকিওতে অন্যটি চট্টগ্রাম নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে। এটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ৪টি গ্যালারী ও একটি বিশাল হলঘর আছে। ৩টি গ্যালারিত ২৫টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠি যেমন চাকমা, মারমা, তনচংগ্যা, খুমি, মুরং, সাঁওতাল, গারো, চাক, মণিপুরি, টিপরা, হাজং, লুসাই, সিমুজি, বম ইত্যাদি নৃ-গোষ্ঠির নানারকমের অস্ত্র, ফুলদানি, কাপড়, নৌকা, কাঁচি, অলংকার, বাঁশের পাইপ ইত্যাদি এবং অবশিষ্ট গ্যালারিতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও কিরখিজিস্তানের কয়েকটি সম্প্রদায়ের জীবন প্রণালী প্রদর্শিত হয়েছে। হলরুমে দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠির বিভিন্ন রকম উৎসব ও সংস্কৃতি সম্পর্কে দর্শণার্থীদের ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ছুটির দিন এবং রবিবার ব্যতিত প্রতিদিন জাদুঘরটি সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকে। নামমাত্র মূল্যে এখানে ইতিহাস ঐতিহ্যের অনেক স্মারক চিহ্ন দেখে অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করা যায়। 
শ্রী শ্রী চট্টেশ^রী কালী বিগ্রহ মন্দির :
বাংলাদেশের বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের অন্যতম এ মন্দিরটি চট্টগ্রাম নগরীর চট্টেশ^রী সড়কে তিন পাহাড়ের কোণে অবস্থিত। মূল পাহাড়ের পাশে একটু উঁচুতে বাঁধানো চত্বরটির বাঁ দিকে কালী মন্দির ও ডান দিকে শিব মন্দির রয়েছে। মন্দিরের পাশেই বিখ্যাত চট্টেশ^রী কুন্ড অবস্থিত। যেখানে মাস্টারদা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বহুবার গোপন বৈঠক করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তিতে সরকারি সহায়তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাহায্য ও সহযোগিতায় কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি এবং শে^ত পাথরের শিব মূর্তি পূণ:নির্মাণ করা হয়। 
শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি এ্যান্ড রিক্রিয়েশন পার্ক :
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালা বন বিটের সবুজ বনানী ঘিরে দেশের প্রথম ক্যাবল কার তৈরি করা হয়। এখানে একইসাথে স্থাপিত হয়েছে দেশের একমাত্র পাখিশালা এবং বিনোদন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক এবং বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা এবং বিনোদনের উদ্দেশ্য নিয়ে রাঙ্গুনিয়াতে পাঁচশ একরের ওপর বিশাল বনভূমি এবং পাহাড়ি অ ল নিয়ে শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি এ্যান্ড রিক্রিয়েশন পার্ক নামে এশিয়ার বৃহত্তম এ পাখিশালা গড়ে তোলা হয়েছে। সম্পূর্ণ পার্ক এলাকা ওপর থেকে দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর তৃতীয় সর্ববৃহৎ ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার লাইন। এখানে পর্যটকদের জন্য উন্নতমানের হোটেল রেস্তোরাসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা।
পাহাড়ী সৌন্দর্য :
চট্টগ্রাম অ লের তিন পাহাড়ি জেলার সৌন্দর্য পৃথিবীর যেকোন সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেবে। রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি আর বান্দরবানের পাহাড়ি অরণ্য বন-বনানী লেক নদী ছড়া ঝরনার নয়নাভিরাম দৃশ্য কেবল দেখে উপলব্দি করতে হয়-বলে বোঝানো যায়না। এ অ লের রাঙ্গামাটি লেক, ঝুলন্ত ব্রীজ, শুভলং ঝরনা, পাহাড়ি সাঙ্গু নদী, চিম্বুক পাহাড়, নীলাচল, নীলগিরি, সাজেক এবং সাজেকের কংলাক পাহাড়ের মুগ্ধতা কেবল অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হয়। সেসাথে পাহাড়ি জনগোষ্ঠির বিচিত্র জীবন যাপন দৃশ্য, হাতে তৈরি নানা রকম পরিধেয়, মূখরোচক নানা পদের খাবার আপনার অনুভূতির মাত্রাকে নিয়ে যাবে অন্য উচ্চতায়। 
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর-আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য “গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন”। বাংলাদেশসহ সারা বিশে^ দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে। সরকার পর্যটন খাত আরো সম্প্রসারণ এবং আকর্ষণীয় করার জন্য বহূমূখী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের সবকটি জেলার স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্যটনকে অন্তর্ভূক্তকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ৬৪ জেলার সাথে অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অ লের রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িসহ ২৪ জেলার সাথে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটন দিবসে সবকটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পর্যটন অংশীজনদের নিয়ে অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পর্যটন সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ পর্যটন এলাকাগুলোতে রং-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হবে। গণমাধ্যমে দেশীয় সৌন্দর্য আরো উপভোগ্য ও আকর্ষণীয় করে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারের সাথে কাজ করছে।  
বর্তমানের ঘরে আবদ্ধ গুমোট ও বিরক্তিকর একঘেঁয়ে পরিবেশ কাটাতে বেড়ানো হতে পারে শ্রেষ্ঠ উপায়। তাই দেরি না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেরিয়ে পড়–ন অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে। দেশের সৌন্দর্য নিজে উপভোগ করুন, সন্তানদের দেখান। 
লেখক :- সহকারী তথ্য অফিসার, পিআইডি, চট্টগ্রাম।
 

রিটেলেড নিউজ

ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য দিয়ে বিড়ম্বনা এড়াতে পারেন

ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য দিয়ে বিড়ম্বনা এড়াতে পারেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য ...বিস্তারিত


ফ্রান্সে রাসুল(সাঃ)কে ব্যঙ্গ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে মুসল্লীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

ফ্রান্সে রাসুল(সাঃ)কে ব্যঙ্গ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে মুসল্লীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে...বিস্তারিত


কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন এমপি সেলিমপুত্র ইরফান

কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন এমপি সেলিমপুত্র ইরফান

নিজস্ব প্রতিবেদক : নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা ও সাজা হওয়ার প্রেক্ষিতে কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন ইর...বিস্তারিত


আত্মসমর্পনের পর মীর হেলাল কারাগারে

আত্মসমর্পনের পর মীর হেলাল কারাগারে

চবি প্রতিনিধি : :   দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হ...বিস্তারিত


নগরীতে কুমারী পূজা সম্পন্ন

নগরীতে কুমারী পূজা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর পাথরঘাটায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ...বিস্তারিত


৫টির অনুমোদন নিয়ে জ্বালানো হচ্ছিলো ২২৬ চুলা 

৫টির অনুমোদন নিয়ে জ্বালানো হচ্ছিলো ২২৬ চুলা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৭ সালে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেন তিনি। খবর পেয়ে সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রি...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

পটিয়া প্রতিনিধি : : বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পটিয়া ...বিস্তারিত


চন্দনাইশের বসতঘরে দূর্ধর্ষ চুরি 

চন্দনাইশের বসতঘরে দূর্ধর্ষ চুরি 

মোহাম্মদ কমরুদ্দিন, চন্দনাইশ : : চন্দনাইশ পৌরসভার  নয়াহাট এলাকায় পাকা ঘরের প্রধান ফটকের গ্রীলের তালা ভেঙ্গে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর