শিরোনাম
কক্সবাজার প্রতিনিধি: | ০২:৫২ পিএম, ২০২২-০৮-১৪
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী একটি বিচ্ছিন্ন ব-দ্বীপ। মহেশখালীর বুক ঘেঁসে গড়ে ওঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ এক লীলাভূমি মাতারবাড়ী। সবুজে ভরা মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকিতে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। এই ইউনিয়নটিতে প্রায়শই জোয়ারের পানিতে জালিয়াপাড়াসহ আশেপাশের তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী থাকে। আর এতে নষ্ট হয় ঘরবাড়ি, ফসলাদি-সহ ব্যবহৃত আসবাবপত্র। বেড়িবাঁধের অভাবে নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এখানকার স্থানীয়রা।
এই দ্বীপের জালিয়া পাড়া এলাকায় খেটে খাওয়া জেলেদের বসবাস। সমুদ্রের সাথে যুদ্ধ করে প্রতিটি রাত কাটে তাদের। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেড়ে গেলেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। শুরু হয় অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। এ যুদ্ধ যেন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় সরকার স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে তাদের যুদ্ধের শেষ হচ্ছেনা বলে জানান স্থানীয়রা।
বিশেষ করে রাক্ষসী দরিয়ার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে জালিয়াপাড়া এলাকায় খেটে খাওয়া জেলেরা। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেড়ে গেলেই রাতের ঘুম হারাম হয় তাদের। শুরু হয় অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। এ যুদ্ধ যেন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় সরকার স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নিলে এভাবেই প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে তাদের।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক অস্থায়ী জিও ব্যাগ বসানো হলেও তাতে কোন কাজ দিচ্ছে না। যেখানে জিও ব্যাগ বসানো হয়, সেখান থেকে বালি উত্তোলন করার কারণে জিও ব্যাগ গুলো সহজেই বিলীন হয়ে যায়। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখে বালি উত্তোলন করার কারণে আজ এই গ্রাম বিলীনের পথে। একসময় অনেক বড় চর থাকলেও বালি উত্তোলনের কারণে তা এখন বিলুপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ‘জোয়ারের পানি থেকে রক্ষার কোন উপায় না থাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে। বাড়িঘর ছেড়ে অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে। রাক্ষসী দরিয়ার তীব্র জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুল আমিনের বাড়িটি৷ এখন পড়নের কাপড়টা ছাড়া আর কোনো সম্ভল নেই তার। বেড়িবাঁধ না থাকায় বাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাবে এমন শঙ্কায় একই গ্রামের রহিমা বেগমও তাই ভালো নেই। নুরুল আমিনের মতো একই দৃশ্যপটে শত শত বৃদ্ধের। তারা এখন বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, অনেকে আবার ভাড়া বাড়িতে। জোয়ারের পানিতে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এখন অর্ধশতাধিক পরিবার, তাদের পাশে নেই কেউ।
জালিয়াপাড়া এলাকার জেলে আবদুল মান্নান জানান, বসতভিটাটুকুই তার শেষ সম্বল। সেটিও সাগরে বিলীনের পথে। এমন অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। বসতঘরটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই তার। ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে পুরো পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে। একই গ্রামের তসলিমা বেগম নামের আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় বাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। বার বার ক্ষতির মুখে এখন প্রায় নিঃস্ব আমরা। তাই বেড়িবাঁধ স্থাপনের জোর দাবী জানান তিনি।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম আবু হায়দার জানান, জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলে পাড়ায় ইতোমধ্যে ৪০/৫০ পরিবার তলিয়ে গেছে। আমি বিষয়টি এমপি মহোদয় এবং ইউএনও মহোদয়কে অবগত করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে পূনর্বাসনের জন্য দাবি জানিয়েছি।
জরুরী ভিত্তিতে ভাঙনরোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গ্রামটি সাগরে বিলীন হয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মানচিত্র পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি।
বান্দরবান প্রতিনিধি : : বান্দরবানের রুমা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের একজন মাঠ সংগঠক সমিতির ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছ...বিস্তারিত
নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান : : পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকেই ছেড়ে দেন। অনলাইন প্রতারণায় খোয়া যাওয়া টাকাও অনেক স...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি শহরের জর্জ কোর্ট সংলগ্ন হোটেল কসমস আবাসিকের চতুর্থ তলায় অবস্থিত রুস্টপ রেস্টুরেন্টে ভয়...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) পরিবহন সংকট ও সড়কের কাজ নিয়ে সামাজিক যো...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ প্রতি মাসে শুধু রাঙামাটি জেলা থেকেই প্র...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited