শিরোনাম
ইসলাম ডেস্ক : | ০৪:১০ পিএম, ২০২২-০৪-২৩
রমজানের শেষ দশকের প্রথমদিন শুরু হলো আজ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতকে এই শেষ দশকে কিছু উত্তম মৌসুম বা সময়ের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ। আল্লাহর দেওয়া সুযোগ ও ঘোষণার দ্বারা বান্দার মন-প্রাণ আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়, ফলে সে নেক আমল করতে আগ্রহী হয়। এমনই একটি উত্তম মৌসুম হচ্ছে- রমজান মাসের শেষ দশক।
এ দিনগুলোতে বান্দা ইচ্ছা করলে তার চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে নৈকট্য অর্জন করে নিতে পারে। আর সেটা বেশি বেশি নেক আমল দ্বারা সম্ভব হবে। যেমনটি করতেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে-
১. ইবাদত
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, 'রমজান মাসের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতবেশি ইবাদত করেছেন যা অন্য সময়ে করেননি।' (মুসলিম)
২. নেক আমল
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আরও বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি করে আমলে সালেহ (নেক আমল) করতেন। অর্থাৎ বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে রাত জাগতেন। তারপর সেহরি খেতেন।
অন্য এক হাদিসে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে নিতেন। আর ইবাদতে পূর্ণ রূপে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।' (বুখারি, মুসলিম)
৩. ইতেকাফ
একাগ্রচিত্তে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের উদ্দেশ্যে বিশেষ পন্থায়, বিশেষ নিয়তে মসজিদে অবস্থান নেওয়াকে ইতেকাফ বলে। আর ইতেকাফের হুকুম হলো- রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰهٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَهِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ
' আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছি, তোমরা আমার ঘর পবিত্র করবে- তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য।' (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৫)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন এবং এ ইতেকাফের জন্য মসজিদের নির্জন স্থান নির্বাচন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতেন। এমনকি দাওয়াত, তালিম ও জেহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও ইতেকাফ করতেন।
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে তা প্রমাণিত। তিনি বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন।' (মুসলিম)
৪. লাইলাতুল কদর তালাশ করা
রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা মুস্তাহাব। তবে তা শেষ দশকের বেজোড় রাতে হওয়া প্রায় নিশ্চিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। তা ঊনত্রিশ তারিখে হতে পারে, সাতাশ তারিখেও হতে পারে আবার পঁচিশ তারিখেও হতে পারে।' (বুখারি)
তবে লাইলাতুল কদর অর্জন করার জন্য রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক রাতে ইবাদত করা প্রয়োজন। ইতেকাফ করতে পারলে আরো উত্তম। আর লাইলাতুল কদর পেলে নবিজীর শেখানো ক্ষমার এই দোয়াটি পড়াও উত্তম। তাহলো-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
৫. সাদকাতুল ফিতর
এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে আদেশ করতেন। জাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ‘সা খেজুর বা এক সা’ যবের পরিমাণ জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। (এক সা‘=দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম) মুসলমান, গোলাম-আজাদ, নারী-পুরুষ ছোট-বড়, সবার উপর এবং ঈদগাহে যাওয়ার আগে এটা আদায় করার আদেশ প্রদান করেছেন।' (মুসলিম)
প্রত্যেক মুসলমান তার নিজের, স্বীয় স্ত্রীর এবং যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবে, যদি তারা অক্ষম হয়। ঈদের দিন ও রাতের খরচের অতিরিক্ত সম্পদ যে ব্যক্তির কাছে থাকবে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব।
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রমজানের শেষ দশকের রোজা রাখার পাশাপাশি হাদিসে উল্লেখিত, ইবাদত, নেক আমল, ইতেকাফ ও সাদকাতুল ফিতরসহ সাধারণ দান-সাদকা করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ দশকের ফজিলত অর্জনে ইবাদত-বন্দেগি, নেক আমল, ইতেকাফ সাদকাতুল ফিতর ও সাধারণ দান-সাদকা করার তাওফিকদান করুন। শেষ দশকের ফজিলত পেতে যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। লাইলাতুল কদর পেতে বেজোড় রাতগুলোতে না ঘুমিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
স্টাফ রিপোর্টার : : এস. এফ. এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ পাহাড়, নদী, ঝরনা, বন আর বৈচিত্র্যময় জনজীবন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘের...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। চট্টগ্রামের কোনো এক বাসাবাড়ির রান্নাঘরে চুলা জ্বলে উঠেছে। ঘুমজড়...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : কে এম আলী হাসান বর্তমানে ইন্ডিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি ও মোটা অংকের টাকা...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছর, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি অর্থ ব...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইন রামগড় পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জাতীয় সংসদে তুলেছেন বন ও জলবায়ু পরিব...বিস্তারিত
ঢাকা অফিস : : দেশব্যাপী হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অভিয...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited