ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

‘ভালো নেই কারাবাসে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা’

কোন অপরাধীকে যখন কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, তখন আর সে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। ছোট বড় বিশেষ কিছু মৌলিক চাহিদা থেকে সে বঞ্চিত হয়ে যায়। সাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে মুক্তি পায় না। কারাগারকে বলা যায় অপরাধ-শোধনাগার। কিন্তু এই শোধনাগারে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকেও নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশি হেফাজতের নাম করে, চালানো হয় পাশবিক অত্যাচার। রিমান্ড শেষে জীবনের বাকিটা সময় অনেককে কারাগারের মেঝেতে শুয়ে অথবা হুইল চেয়ারে বসে কাটাতেও দেখা যায়। মুক্ত হওয়ার আর কোন রাস্তা থাকে না। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশের কারাগারগুলো এমন হয়েছে যে, অপরাধীকে মৃত্যু নামক জিনিসটাই কেবল দুনিয়ার শাস্তি থেকে আজাদ করতে পারে।

বিগত বছরগুলোতে এসব কারাবন্দিদের মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। জানা যায়, গত চার বছরে ৩২৮জন কারাবন্দির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, রিমান্ড ফেরত আসামিদের বেশির ভাগই অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে আসেন। কিছুদিনের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। আর পুলিশের পক্ষ থেকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারের ভেতর আসামি বা বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

এরকম অপ্রীতিকর মৃত্যুর ঘটনা কিভাবে ঠেকানো যায়, সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছুই বলছে না। কিছু মিডিয়া প্রকাশ করলেও, তথাকথিত মানবাধিকার কর্মীরা এগিয়ে আসছে না। যদি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দিদের উপর এরকম অমানবিক অত্যাচার চলতেই থাকে— একটা সময়ে এসে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাবোধ এবং ভরসা কমে যাবে বলে আমার মনে হয়। যদিও এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনের প্রতি মানুষের সেই আগের আস্থাটুকু আর নেই। আর এর পেছনে দায়ী আইনের পোশাকে কিছু বেআইনি কর্মকাণ্ড করা আমলারা।

কারাবন্দিদের মৃত্যুর আসল রহস্য বের করতে হবে। আর যেন অকারণে একটি প্রাণও ঝরে না যায়, সেজন্য আমাদের সোচ্চার হতে হবে এবং সুষ্ঠ বিচার ব্যবস্থার দাবি জানাতে হবে। তাই কারাগারে অথবা পুলিশি হেফাজতে বন্দীদের মৃত্যুর ময়নাতদন্ত অবশ্যই অবশ্যই বাধ্যতামূলক করতে হবে।