ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

নৌযান শ্রমিকরদের সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

দশ দফা দাবিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে নৌযান শ্রমিকরা। বন্ধ রয়েছে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমও। তবে নূন্যতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা।
গত ১৫ নভেম্বর ১০ দফা দাবি নিয়ে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। তাই মধ্যরাত থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে রাখা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সাধারণ শ্রমিকরা। একইসঙ্গে মাঝিরঘাট ও সদরঘাট এলাকার ১৮টি বেসরকারি ঘাটেও লাইটার জাহাজে করে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, নূন্যতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবি রয়েছে লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের। এসব দাাবি নিয়ে গত ১৭ মাস ধরে মালিকপক্ষের দিকে চেয়ে আছে শ্রমিকরা। গত তিন মাসে একাধিক বৈঠক হলেও এ বিষয়গুলোতে কোন সমাধান আসে নি। দশ দফা দাবির মধ্যে অন্তত মজুরির দাবিটা মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ লাইটার ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. নবী আলম সিভয়েসকে বলেন, মূলত রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত কোথাও কোথাও কাজ চলেছে। তবে ভোর ৫টা থেকে পুরোদমে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও সদরঘাট এলাকার ১৮টি বেসরকারি ঘাট, কুতুবদিয়া সব জায়গায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া খুলনা, মোংলা, নোয়াপাড়া, পায়রা বন্দর সব জায়গায় কাজ বন্ধ আছে। শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রায় ১শ’ ঘাটে লোড-আনলোডের কাজ হয়। এই মুহূর্তে সেখানেও কাজ বন্ধ আছে।

তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে চাই নাই। আমরা ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলাম। তবে আমরা বার বার বলেছিলাম যেন আমাদের অন্তত একটা দাবি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরশুদিন মালিকদের সাথে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক হলেও আমরা কোন সমাধান পাই নি। তাই এ কাজে নামা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় ছিল না। কেউ আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের ডাক দিলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু সকাল থেকে আমরা কোন সাড়া পাইনি। আমার মনে হচ্ছে এ কর্মবিরতি আরো দু একদিন গড়াবে। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা, যতক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে না, ততোদিন কর্মবিরতি চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ শ্রমিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সব দাবি জাহাজ মালিকদের কাছে। সরকার রেফারি হিসেবে কাজ করে। জাহাজ মালিক সরকারি দলের এমপি, সরকাররি দলের বিভিন্ন পদে আছে। তারাই সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এভাবে কর্মবিরতি চলতে থাকলে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরাও এ দেশের সন্তান। তাই আমরা চাই কারো কোন ক্ষতি না হোক।

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের উপরে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের লান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সকল লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

এর আগে, লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের ওঠা–নামায় ব্যবহৃত চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল, সাঙ্গু নদের মুখ খনন করে লাইটার জাহাজের নিরাপদ পোতাশ্রয় করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১০ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে চট্টগ্রামে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল লাইটার জাহাজ শ্রমিকেরা। পরে পতেঙ্গায় লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের ওঠা–নামায় ব্যবহৃত চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু ও শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘাটে টাকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত আসায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে লাইটার জাহাজ শ্রমিকরা।

নৌযান শ্রমিকরদের সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

দশ দফা দাবিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে নৌযান শ্রমিকরা। বন্ধ রয়েছে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমও। তবে নূন্যতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা।
গত ১৫ নভেম্বর ১০ দফা দাবি নিয়ে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। তাই মধ্যরাত থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে রাখা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সাধারণ শ্রমিকরা। একইসঙ্গে মাঝিরঘাট ও সদরঘাট এলাকার ১৮টি বেসরকারি ঘাটেও লাইটার জাহাজে করে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, নূন্যতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবি রয়েছে লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের। এসব দাাবি নিয়ে গত ১৭ মাস ধরে মালিকপক্ষের দিকে চেয়ে আছে শ্রমিকরা। গত তিন মাসে একাধিক বৈঠক হলেও এ বিষয়গুলোতে কোন সমাধান আসে নি। দশ দফা দাবির মধ্যে অন্তত মজুরির দাবিটা মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ লাইটার ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. নবী আলম সিভয়েসকে বলেন, মূলত রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত কোথাও কোথাও কাজ চলেছে। তবে ভোর ৫টা থেকে পুরোদমে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও সদরঘাট এলাকার ১৮টি বেসরকারি ঘাট, কুতুবদিয়া সব জায়গায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া খুলনা, মোংলা, নোয়াপাড়া, পায়রা বন্দর সব জায়গায় কাজ বন্ধ আছে। শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রায় ১শ’ ঘাটে লোড-আনলোডের কাজ হয়। এই মুহূর্তে সেখানেও কাজ বন্ধ আছে।

তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে চাই নাই। আমরা ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলাম। তবে আমরা বার বার বলেছিলাম যেন আমাদের অন্তত একটা দাবি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরশুদিন মালিকদের সাথে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক হলেও আমরা কোন সমাধান পাই নি। তাই এ কাজে নামা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় ছিল না। কেউ আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের ডাক দিলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু সকাল থেকে আমরা কোন সাড়া পাইনি। আমার মনে হচ্ছে এ কর্মবিরতি আরো দু একদিন গড়াবে। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা, যতক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে না, ততোদিন কর্মবিরতি চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ শ্রমিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সব দাবি জাহাজ মালিকদের কাছে। সরকার রেফারি হিসেবে কাজ করে। জাহাজ মালিক সরকারি দলের এমপি, সরকাররি দলের বিভিন্ন পদে আছে। তারাই সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এভাবে কর্মবিরতি চলতে থাকলে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরাও এ দেশের সন্তান। তাই আমরা চাই কারো কোন ক্ষতি না হোক।

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের উপরে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের লান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সকল লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

এর আগে, লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের ওঠা–নামায় ব্যবহৃত চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল, সাঙ্গু নদের মুখ খনন করে লাইটার জাহাজের নিরাপদ পোতাশ্রয় করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১০ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে চট্টগ্রামে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল লাইটার জাহাজ শ্রমিকেরা। পরে পতেঙ্গায় লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের ওঠা–নামায় ব্যবহৃত চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু ও শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘাটে টাকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত আসায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে লাইটার জাহাজ শ্রমিকরা।