ই-পেপার | শুক্রবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
×

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার ফাঁদ, প্রশাসনকে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ সুজনের

প্রতিদিনই নগরীর কোন না কোন এলাকায় প্রতারক সমবায় সমিতির ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ, এ থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনকে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। আজ রবিবার (১৩ আগস্ট ২০২৩ইং) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এসময় সুজন বলেন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সমবায় সমিতির নামে গজিয়ে উঠেছে এক শ্রেণীর ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান। জেলা সমবায় অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গড়ে উঠেছে এসব সমবায় সমিতি। কখনো বহুমূখী সমবায় সমিতি, কখনো কো-অপারেটিভ সোসাইটি, কখনো মাল্টিপারপাস, কখনো সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি আবার কখনো শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে তথাকথিত এসব সমিতি গড়ে উঠছে। আইন অনুযায়ী এসব সমবায় সমিতির কোন প্রকার ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমোদন না থাকলেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করছে। বিভিন্ন লোভনীয় অফারের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের নামে সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রমজীবি অধ্যুষিত এবং নি¤œ আয়ের কর্মজীবি এলাকাগুলোকে টার্গেট করা হয়।

বিশেষ করে বন্দর এবং ইপিজেড এলাকায় এসব সমবায় সমিতির দৌরাত্ম্য খুব বেশি। শ্রমজীবি নর-নারীরা চাকুরির জন্য ব্যাংক কিংবা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারার দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে এসব সমবায় সমিতির মালিকগণ। সমবায় সমিতির আইনে এসব মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতি ব্যাংকিং কার্যক্রম ডিপিএস, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও সেভিং হিসাব খুলে কোনোভাবেই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে না বলা হলেও তারা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এসব সমিতির সুদের হারও সাধারণ ব্যাংকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ফলত তাদের চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়তই সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ।

সমবায় সমিতির এসব কার্যক্রমসমূহ মনিটরিংয়ের জন্য কেউ নেই। অনেক ক্ষেত্রে সমবায় অফিসের কর্মকর্তাও এসব অবৈধ কাজের সাথে যুক্ত বলে জানা যায়। একটি এলাকায় সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে জেলা সমবায় অফিসে টাকা দিলেই মিলছে এসব সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন। রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে গ্রাহকদের সর্বস্বান্ত করে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন সমিতির মালিকরা। এসব সমিতির কার্যক্রমের শুরুতেই কিছু গ্রাহককে ঋণ দিয়ে লোভের ফাঁদে ফেলেন তাঁরা।

তারপর ডিপিএস, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও সেভিং হিসাব খুলে গ্রাহক থেকে মোটা অংকের আমানত সংগ্রহ করে এসব সমবায় সমিতি। পরে তাদের কার্যসিদ্ধির পর একে একে লাপাত্তা হয়ে সরে পড়েন সমিতির মালিকরা। প্রতারণা এসব সমবায় সমিতিগুলোর টাকা কামানোর বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডিপিএস এবং এফডিআর খুললে যত টাকা আমানত রাখা হবে, তার দ্বিগুণ মুনাফা দেওয়া হবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে তারা। বছরের পর বছর এসব সমিতি জেলা সমবায় অফিসে তাদের ঋণ কার্যক্রমের অডিট জমা না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ফলত এসব সমবায় সমিতি গ্রাহকের আমানত নিয়ে কি করছে সে সম্পর্কে কোন প্রকার সম্যক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

তাহলে সাধারন মানুষের মতো আমাদেরও প্রশ্ন সহজ-সরল মানুষদের প্রতারণা করার জন্যই কি জেলা সমবায় অফিস তাদের রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে? অতীতে ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউয়ের মতো আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আতœসাৎ করেছিল। সেসব অর্থের কোন সুরাহা এখনো পর্যন্ত হয়নি। এখন আবার সমবায় সমিতির নামে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এভাবে অর্থ আতœসাৎ করা হচ্ছে। এতে করে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি দেখা দিচ্ছে। টাকার দুশ্চিন্তায় অনেকে অকালে মৃত্যুবরণ করছে। সমবায় সমিতিতে লগ্নীকৃত এসব টাকার জন্য অনেক পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ারও উপক্রম হয়েছে।

সমবায় সমিতির আইনের দুর্বলতা থাকায় গ্রাহকগণ থানা পুলিশের কাছে গিয়েও এসবের কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না। তাই উপরোক্ত বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্দি করে এখনই এসব সমবায় সমিতির লাগাম টেনে ধরে গ্রাহকের মহামূল্যবান আমানত সুরক্ষার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।