ই-পেপার | রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০২৪
×

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান-সচিবের দ্বন্ধে ভোগান্তিতে সেবা গ্রহিতারা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড প্রশাসনের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ চরমে পৌছেছে। এতে ভোগান্তিতে সেবা গ্রহিতারা, আতঙ্কে আছে বোর্ডের কর্মচারীরা। বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আক্তার ও সচিব প্রফেসর রেজাউল করিমের বিবাদ এখন ওপেন সিক্রেট বা গোপন বলে ভাবা হলেও আসলে যা সকলের জানা বিষয়। এই দ্বান্ধিক সম্পর্ক এতটাই প্রকট যে তারা দুজনের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত অনেকটা বন্ধ হয়ে আছে এমন। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য চেয়ারম্যান ও সচিবকে একত্রিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে সবার।

উচ্চ শিক্ষিত ও উর্ধতন এসব কর্মকর্তাদের এরুপ আচরণ নিয়ে বোর্ড সংশ্লিষ্টরা হতবাক ও বিস্মিত বলে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী সূত্রে জানা যায়। তাদের এমন দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের কারণে নথিপত্রে সিদ্ধান্তে ধীরগতি আসায় আমরা সেবা প্রত্যাশীরা দিন দিন কাঙ্খিত সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছি। অপরদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের রোষানলের শিকার হচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা থেকে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আক্তার একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে সচিবকে শোকজ করেছেন। অথচ সচিবের সেখানে উল্লেখযোগ্য কোন দোষ ছিল না। ঘটনাটি ছিলো শিক্ষাবোর্ড বিল্ডিংয়ের নীচ তলায়। সেখানে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাড়ী কর্তৃক অবকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হওয়ায়, সেখানে একজন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে উক্ত সময়ে উপস্থিত হয়ে সচিব রেজাউল করিম তাৎক্ষণিক কিছু জরিমানা কর্মচারীদের উপস্থিতে আদায় করেন। যা তিনি একজন কর্মচারীর হাতে জমা রাখতে নির্দেশনাও দেন। আর তার এমন জরিমানা আদায়কে বেআইনি বা দোষী বলে ঘোষণা আখ্যায়িত করে জনপ্রিয় একটি পত্রিকায়ও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই ঘটনা পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শোকজের মত ইস্যুতে রূপ পায়। যাহা অভ্যন্তরীন কোন্দলের বহি:প্রকাশ বলে স্পর্শগ্রায্য হয়। শুধু তাই নয় ইতিপূর্বে এরকম তুচ্ছ বিষয়ে সমাধান না আসায় একাধিকবার বোর্ডের রুটিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল বলেও জানা যায়।

অন্য এক কর্মকর্তা থেকে জানা যায়, বর্তমান বোর্ডেরব চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আক্তারের মেয়াদ প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি হলেও বোর্ডের উল্লেখযোগ্য কোন অর্জন চোখে পড়ে নাই। বোর্ডে বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ থাকলেও এসব পূরণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জনবল সংকটের কারনে অনেক কাজ উপ-প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করানো হচ্ছে, যাতে বোর্ডের টাকারও অপচয় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও বিঘ্নিত হচ্ছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের আমলে তারা বিভিন্ন দাবী-দাওয়া আদায় থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তিনি নির্দিষ্ট কিছু বিএনপি-জামাত ঘরানার লোক এবং বোর্ড থেকে বদলী হওয়া সাবেক কর্মকর্তাদের ইন্ধনে বোর্ড চালাচ্ছেন। দলাদলিটা তাঁর আমলে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর আগে প্রত্যেক চেয়ারম্যান কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাগ্যন্নোয়নে কিছু না কিছু কাজ করেছেন। কিন্তু এ চেয়ারম্যানের আমলে তা শুন্যের কোটায়।

তারা আরো জানান, সচিবের সাথে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে একাধিক কর্মচারী এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের অভিভাবকত্ব মূলক আচরনের ঘাটতিকে দূষছেন। এহেন পরিস্থিতিতে অন্যান্য কর্মকর্তারাও ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেন। সাধারণ কর্মচারীরা বোর্ডে গজিয়ে উঠা এই পরিস্থিতি নিরসনে মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহোদ্বয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

এই বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আক্তার ও সচিব প্রফেসর রেজাউল করিমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।