ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

জমে থাকা ‘বিপজ্জনক পণ্য’ নিয়ে বিপাকে বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে দীর্ঘ ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়েছিল বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য। নষ্ট, ময়লাযুক্ত বা মানহীন ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক স্টেডিয়ামের বিপরীতে সরিয়ে নিয়েছে গতমাসে। এবার সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ১৪শ’ বক্স বিপজ্জনক পণ্য নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বড় বিপদের শঙ্কায় আমদানিকারকদের চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তবে সাড়া মেলেনি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর আমদানি করা ১ হাজার ৭১৪ টিইইউএস এফসিএল ও এলসিএল কনটেইনার ভর্তি রাসায়নিক পণ্য বন্দরের ভেতরে পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে ডাইং কেমিক্যাল, ওয়েবিং কেমিক্যাল, ওয়াশিং কেমিক্যাল, সোডা, সার, এলএনজি গ্যাস, সালফিউরিক এসিডসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা অধিকাংশের রাসায়নিকের গায়ে মূল উপাদানের নাম লেখা থাকে না। শুধুমাত্র ওই পণ্য কি কাজে ব্যবহার হবে সেটাই লেখা থাকে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্য চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। এতে করে আগে থেকে আলাদাভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি আমদানির ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের বিধান থাকলেও বিপজ্জনক পণ্যগুলো খালাসর বিষয়ে মাথাব্যথা নেই আমদানিকারকদের।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে ও অগ্নিজনিত ঝুঁকি এড়াতে বন্দরের ভেতর পড়ে থাকা পণ্যগুলো দ্রুত খালাস করতে গত ২১ নভেম্বর আমদানিকারকদের চিঠি পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা এফসিএল ও এলসিএল কনটেইনার খালাস কমে গেছে। সম্প্রতি আমদানি করা বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক পণ্য বন্দরের ভেতরে পড়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য এসব বিপজ্জনক পণ্য দ্রুত খালাস করা আবশ্যক। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে বিপজ্জনক পণ্যবাহী এফসিএল কনটেইনার ও এলসিএল কার্গো দ্রুত ডেলিভারি নেয়া জরুরি। বন্দর স্থাপনা, জান-মাল ও পরিবেশ রক্ষা, অগ্নিঝুঁকি রোধ, বন্দরের জায়গা অবমুক্ত ও স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য বিপজ্জনক পণ্যগুলো দ্রুত ডেলিভারি নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বন্দর বিপজ্জনক পণ্য খালাসে যে চিঠি ইস্যু করেছে তা আমাদের আরএমজি খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য নয়। কারণ পোশাক কারখানার জন্য যেসব রাসায়নিক পণ্য আমদানি করা হয় সেগুলো বিপজ্জনক না। যারা সার, সোডা, সালফিউরিক এসিড আমদানি করে তাদের জন্য এ চিঠি। এটা ঠিক যে অনেক সময় বন্দরের ভেতরে পড়ে থাকা রাসায়নিক পণ্যগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়া করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বন্দর চায় তাদের শেডগুলো নিরাপদে থাকুক। সেটা আমরাও চাই। তাই বন্দর যেহেতু দ্রুত বিপজ্জনক পণ্য খালাসে বিজিএমইকে চিঠি পাঠিয়েছে তাই আমরা গতকাল সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক সিভয়েসকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আমদনিকারকের আমদানি করা ১ হাজার ৭১৪ টিইইউএস কনটেইনারে থাকা ১ হাজার ৪০৮ বক্স বিপজ্জনক পণ্য বন্দরের ভেতরে পড়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে ও অগ্নিজনিত ঝুঁকি এড়াতে বিপজ্জনক পণণ্যগুলো দ্রুত ডেলিভারি নেয়া প্রয়োজন। তাই আমরা তাদের চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু আমরা কোন সাড়া পাচ্ছি না। সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি বন্দরের ভেতরে বিপজ্জনক পণ্যের পাশাপাশি এলসিএল বা এফসিএল কনটেইনারে আমদানি করা অন্যান্য পণ্যের খালাস কম হচ্ছে। তাই আমরা মনে করি পণ্যগুলো আমদানিকারকরা দ্রুত ডেলিভারি নিলে বন্দরের ভেতরে জায়গা খালি হবে, কাজে গতিশীলতা আসবে। পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্যগুলো খালাস হল বন্দর ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।