ই-পেপার | শনিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‌্যাব সৃষ্টি, যেমন ট্রেনিং দিয়েছে তেমন কাজ করছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “মার্কিন কর্মকর্তারা যেমন ট্রেনিং দিয়েছেন, র‌্যাব সদস্যরা তেমনই কাজ করছেন। এখানে আমাদের করার কী আছে?” যাদের দিয়ে সন্ত্রাস দমন করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষধের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব়্যাব সৃষ্টি করেছে কে? এটাতো অ্যামেরিকার পরামর্শেই করা হয়েছে। আমেরিকা তাদের ট্রেনিং দেয়, অস্ত্রশস্ত্র, হেলিকপ্টার এমনকি তাদের ডিজিটাল সিস্টেম, আইসিটি সিস্টেম সবই আমেরিকার দেয়া৷ ফলে আমেরিকা যখন নিষেধাজ্ঞা দেয় বা অভিযোগ করে তখন আমার একটাই কথা, আপনারা যেমন ট্রেনিং দিয়েছেন তারা তেমনই কাজ করেছে৷ এখানে আমাদের করার কী আছে? আপনাদের ট্রেনিংটা যদি ভালো হতো তাহলে কথা ছিল৷”

র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সরকারপ্রধান বলেন, ‘‘নিষেধাজ্ঞা তারা কতটুকু তুলবে জানি না৷ তবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তারা যে ক্ষতিটা করেছে, আমরা যাদের দিয়ে এ দেশের সন্ত্রাস দমন করেছি তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মানে কী? সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া৷ আমার এটাও প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে, তাহলে কী আমরা সন্ত্রাস দমনে সফল হওয়ায় তারা নাখোশ?”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হয়৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সচরাচর হয় না৷”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘ব়্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা৷ তারাসহ পুলিশ ও অন্য কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে তার বিচার হয়৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ ইচ্ছা করে গুলি করে মারলেও তাদের সহসা বিচার হয় না৷ শুধু অনেক আন্দোলনের কারণে একটারই বোধ হয় বিচার হয়েছে৷ কথায় কথায় তারা গুলি করে৷ আমাদের কতজন বাঙালি মারা গেল৷ তখন কিন্তু তারা কিছু বলে না৷ সে কথাগুলো আমি তাদের স্পষ্ট বলেছি, আমি বসে থাকিনি৷”

গুম নিয়ে জাতিসংঘের দেয়া তালিকা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘৭৬ জনের তালিকায় কী পাওয়া গেছে তা আপনারা নিজেরাই জানেন৷ মাকে, বোনকে লুকিয়ে রেখে আরেকজনকে শায়েস্তা করার ঘটনা ঘটছে৷ আবার ভারত থেকে কিছু নাগরিক পলাতক তাদের নামও সেই তালিকায় পাওয়া গেল৷ এটা কেমন করে হয়? এছাড়া অ্যামেরিকায় লুকিয়ে আছে এমন নামও আছে৷ এগুলোও তাদের জানিয়েছি৷”

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আগামী সংসদ নির্বাচন, আগামী বছরের সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার বিরুদ্ধে লড়তে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ, রোহিঙ্গা সংকট, আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা ছাড়েন।

সফরকালে সরকারপ্রধান ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সংবর্ধনা এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন সরকারপ্রধান। এ ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা।